ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে আংশিকভাবে সফল: গভর্নর আহসান মনসুর
- আপডেট সময় : ০৭:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এ লক্ষ্যে আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা চালানো হয়েছে এবং আংশিকভাবে সফলতা এসেছে।
এছাড়া দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে অনেকটা সফলতা অর্জিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংকিং সেক্টর রিফর্ম: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গভর্নর জানান, দেশের রিজার্ভ গত বছর প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছিল এবং এ বছর ১.৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। তিনি বলেন, রিজার্ভ বৃদ্ধির নীতি হলো, এটি নিজস্ব অর্থায়নেই বাড়াতে হবে; আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া ঠিক হবে না। সরকারের লক্ষ্য এই বছরের শেষ নাগাদ রিজার্ভ ৩৪-৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো।
গভর্নর মন্দ ঋণ বা খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, দেশের এনপিএল বিশ্বের অন্যতম উচ্চ। ডিসেম্বরের মধ্যে কিছুটা হ্রাস হবে। সর্বশেষ এনপিএল ৩৬ শতাংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা হবে না; প্রকৃত তথ্যই আলোচনার ভিত্তি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং খাতে হস্তক্ষেপের নীতি স্পষ্ট করেছে। কোনো ব্যাংকের অবস্থা ভালো থাকলে হস্তক্ষেপ করা হবে না। তবে সমস্যাযুক্ত ব্যাংকে হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ত্রাণ হিসেবে ১০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছিল; এরপর ব্যাংকটি নিজস্বভাবে ডিপোজিট সংগ্রহ করেছে এবং বর্তমানে সুষ্ঠু অবস্থায় রয়েছে।
সেমিনারে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনীতির সব সূচক দুর্বল অবস্থায় ছিল। যদিও ব্যাংকিং খাতে সংস্কার শুরু হয়েছে, তবে ফলাফল পুরোপুরি দৃশ্যমান হতে সময় লাগবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি এনপিএল ১১-১২ শতাংশ ছিল, এখন তা ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সরকারি ব্যাংকের মন্দ ঋণ বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় বেশি।
তিনি আরও বলেন, ঋণ বিতরণে পেশাদারিত্বের অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব ও বারবার পুনঃতফসিলের কারণে মন্দ ঋণ বেড়েছে। ব্যাংকের একীভূতকরণ একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা বজায় রেখে চলতে হবে।



















