প্রাথীদের কাছে শ্রমিকদের রেশনসহ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দাবি
- আপডেট সময় : ০৬:৩৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
শ্রমিকদের রেশনসহ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা ভবিষ্যৎ সরকারের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। তারা দেশের ভবিষ্যৎ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সার্থে ৩০ হাজার টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং আইএলও কনভেনশন অনুসারে শ্রম আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করার বিষয়ে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি দাবি করেছেন।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশ কমিটির আয়োজিত ‘জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ নির্বাচন ও শ্রমিকের প্রত্যাশা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এ দাবি তুলে ধরেন তারা। জোটের আহ্ববায়ক কাজী রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সংলাপে ধারনাপত্র পাঠ করেন সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়ন।
বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, শ্রমিক আন্দলোন শুধুমাত্র মজুরির আন্দলোন নয় শ্রমিকদের সম্মান, মর্যাদা ও অধীকারের আন্দলোন। শ্রমিকদের প্রত্যাশার সময় শেষ, এখন তাদের ভূমিকা রাখতে হবে। প্রত্যেক শ্রমিকের কাছে একটি নির্দ্দিষ্ট বক্তব্য থাকতে হবে। যারা পরিবর্তন চায় তাদেরকে একটি মডেল তৈরী করতে হবে এবং শক্তি প্রদর্শন করতে হবে। সকলকে মনে রাখতে হবে, শ্রমিকদের ইস্যু একটি জাতীয় ইস্যু। এই নির্বাচনে আমরা দাবি নিয়ে প্রার্থীদের কাছে যাচ্ছি, ৫ বছর পরে জবাবদিহি করতে হবে।
সংলাপে অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, অধিকার আদায়ে শ্রমিকদেরকেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এশিয়ার সকল গার্মেন্টস সরবরাহকারী দেশের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে ব্রান্ড তাদের সুবিধা মতো অর্ডার এক দেশ থেকে অন্য সরিয়ে নিতে না পারে। পরিবর্তন আনতে খুব বেশী দরকার নেই মাত্র ৪ লক্ষ শ্রমিক ঐক্যবদ্ধ হয়ে পথে নামলেই একটি বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই শ্রমিকদেরই আওয়াজ তুলতে হবে।
সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সম্পদের সুসম বন্টন না হলে মানুষকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। এ জন্য ন্যুনতম মজুরির দাবি লড়াই করে আদায় করতে হবে। ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনের কোনো বিকল্প নাই, তাই ট্রেড ইউনিয়নকে শক্তিশারী করতে হবে। আমরা বামপন্থীরা আপনাদের সাথে আছি।
শ্রমিকনেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, আমরা সবকিছু ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দরকষাকষি করতে পারি, কিন্তু আমাদের শ্রমের মূল্য নিয়ে দরকসাকষি করতে পারিনা। উন্নয়নের সুফল শুধু মালিকরা পাবে সেটা হবে না, শ্রমিকদেরও এই উন্নয়নের সুফল পাওয়ার অধিকার আছে। শ্রমিকদের মজুরী বাড়লে দেশের অর্থনীতি সচল হবে। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি দিতে হবে।
সংলাপে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমি, আফোয়া ইন্টারন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন, গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি ইদ্রিস আলী, গার্মেন্টস লেবার কংগ্রেসের সভাপতি শামীমা আক্তার, গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত জাকারিয়া সঞ্চয়, বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খুশবু আহাম্মেদ রানা, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি মুনির হোসেন, গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, জোটের নারী কমিটির আহ্বায়ক রাসিদা আক্তার ও সদস্য সচিব পারভিন আক্তার।
















