ইসির স্পষ্ট বার্তা: নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই, সময়মতোই হবে ভোট
- আপডেট সময় : ০৮:০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯১ বার পড়া হয়েছে
বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। আজ রোববার বিকেলে নির্বাচন ভবন, আগারগাঁও : ছবি সংগ্রহ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইসির বৈঠক
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট-নির্বাচন সময়মতোই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে যেসব বাধা বা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হচ্ছে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকার উভয়ই অবহিত।
রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর পরদিনই রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে সানাউল্লাহ জানান, শরিফ ওসমান হাদির ওপর চোরাগোপ্তা হামলার বিষয়টি বৈঠকে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ইসির মাঠপর্যায়ের দুটি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাও আলোচনায় আসে।

চোরাগোপ্তা হামলার আশঙ্কা নির্বাচন কমিশন উড়িয়ে দিচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং কোনো ঘটনা ঘটলে তা কঠোর হাতে দমন ও দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা যায়।
তিনি বলেন, সব বাহিনীর পক্ষ থেকে একযোগে একটি বার্তা এসেছে—যারা এই নির্বাচন বানচাল করা, প্রতিহত করা বা ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে, তারা ব্যর্থ হবে। যেখানে যতটা দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন, সব বাহিনী ততটাই দৃঢ় ভূমিকা পালন করবে।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত যে কার্যক্রম নিয়েছে, তা নিয়ে ইসি সন্তুষ্ট। তবে যেসব ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে, সেগুলো নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
চোরাগোপ্তা হামলার ঘটনাগুলো কোনো বড় পরিকল্পনার অংশ কি না, নাকি বিচ্ছিন্ন ঘটনা-সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। হামলার পরিকল্পনা পর্যায়ে বা ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যর্থতা ছিল কি না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ঘটে যাওয়া চোরাগোপ্তা হামলার ঘটনাগুলোর প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য নিরূপণের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈঠকে রাজধানীসহ সারা দেশে অধিক সংখ্যক চেকপোস্ট স্থাপন, বাইরে ঘুরে বেড়ানো সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।



















