নির্বাচনে জনগণের আস্থা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ ড. ইউনূসের
- আপডেট সময় : ০৯:০৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সামান্য কোনো বিচ্যুতিও যেন জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ সংযম ও আইনানুগ আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এসব নির্দেশনা দেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। এই সংবেদনশীল সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতো এবারও পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে, এ বিষয়ে সরকার দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।
প্রধান উপদেষ্টা মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নিজের দেশের দায়িত্ব গ্রহণের যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, এই নির্বাচন তার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে মতামত দেবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবে। ফলে এবারের নির্বাচনের গুরুত্ব অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে তরুণদের একটি বড় অংশ প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছে। পাশাপাশি বহু নাগরিক দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এ অবস্থায় প্রত্যেক ভোটারের জন্য ভয়মুক্ত, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে সশস্ত্র বাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো ভয়ভীতি বা প্রভাব ছাড়াই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেটিই হতে হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মাঠপর্যায়ে সব সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল। জনগণের আস্থার প্রশ্নে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা উপেক্ষিত ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই এই অবস্থার পরিবর্তনে উদ্যোগ নিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা।
তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর স্বনির্ভরতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইতালি, জাপান, থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে অনুরূপ সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ও অভিযাত্রিক দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানসহ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।



















