ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল বন্দরে পাসপোর্টধারী যাতায়াতের তথ্য ইরানে হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরায়েল: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের হারে ইতিহাসের চাবিকাঠি বাংলাদেশের হাতে তরুণদের কর্মসংস্থান ও বস্তিবাসীর পুনর্বাসনে কাজ করবে বিএনপি: তারেক রহমান ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতী পূজা, ‘গ্রিনেসবুকে’ নাম লিখানোর উদ্যোগ রমজানের আগে বাজারে মূল্যচাপ, নিত্যপণ্যে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী  নির্বাচন বানচালে দেশজুড়ে গুপ্ত হামলা চালাচ্ছে: মির্জা ফখরুল যুদ্ধ বন্ধে প্রথমবার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসছে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, তারপরও ভারতে ম্যাচ! আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ফারুকীর ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ

নিরপেক্ষ ভোটের প্রস্তুতি: ডিসি রদবদলে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

নিরপেক্ষ ভোটের প্রস্তুতি: ডিসি রদবদলে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন পুনর্গঠনে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটের আগে প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ দক্ষ কর্মকর্তায় সাজাতে ঢাকাসহ ১৫ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বদল করা হয়েছে। এভাবে ধাপে ধাপে পুরো নির্বাচনি প্রশাসন পুনর্বিন্যাস করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

ভোট পরিচালনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন জেলা প্রশাসকরা। তারা নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকায় থাকেন। এজন্যই তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই ইসি মাঠ প্রশাসনকে সুষ্ঠু ভোট পরিবেশ তৈরির উপযোগী করে তুলতে চায়।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য যাঁরা ভোটের কাজে থাকবেন, তাঁদের মধ্যে রদবদল চলছে এবং চলবে। নিরপেক্ষ যোগ্য কর্মকর্তাদেরই নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, তফসিল ঘোষণার পর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে, সেসব অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় রদবদল করা হবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মাঠ প্রশাসন তদারকি আচরণবিধি প্রতিপালনসহ পাঁচটি বিশেষ সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। মাঠ প্রশাসন সমন্বয়ের দায়িত্বে আছেন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনে সব রদবদল যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে। যেসব কর্মকর্তা শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম, তাঁদেরকেই মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বে রাখা হবে।

নিরপেক্ষ ভোটের প্রস্তুতি: ডিসি রদবদলে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন
নিরপেক্ষ ভোটের প্রস্তুতি: ডিসি রদবদলে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন

আগের মতো এবারও ভোটের প্রাকপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রশাসন পুলিশের পদে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তফসিল ঘোষণার দেড় মাস আগেই রদবদল শুরু করেছে। গত ২৯ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা প্রথম সমন্বয় সভা করেন, আর তার পরের সপ্তাহেই পরিবর্তনের এই ধারা শুরু হয়।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সব কাজ গুছিয়ে এখন তফসিল ঘোষণার চূড়ান্ত ধাপে রয়েছি আমরা। সমন্বয়ের কাজ চলছে, জনপ্রশাসন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদল করছে। তফসিল ঘোষণার পর কমিশনও নির্দেশনা দেবে।

ভোটের আগে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও নিচ্ছে ইসি। কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আচরণবিধি ভঙ্গ করলে কঠিনভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ম্যাজিস্ট্রেট, ডিআইজি সবাইকে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। লক্ষ্যে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেছে, যার ফলে কিছু এলাকায় উত্তেজনাও বাড়ছে।

তবে এবার নির্বাচন কমিশন পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। তফসিল ঘোষণার পরই সব প্রচার সামগ্রী অপসারণে সময়সীমা নির্ধারণ করবে ইসি। সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারেও থাকবে কঠোর নজরদারি।

সবশেষে নির্বাচন কমিশন জানায়, রিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রিজাইডিং অফিসার পর্যন্ত দায়িত্বে কোনো বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তাকে রাখা হবে না। নিরপেক্ষ প্রশাসন স্বচ্ছ আচরণবিধি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আসন্ন নির্বাচন ন্যায্য শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে ইসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নিরপেক্ষ ভোটের প্রস্তুতি: ডিসি রদবদলে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন

আপডেট সময় : ১১:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন পুনর্গঠনে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটের আগে প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ দক্ষ কর্মকর্তায় সাজাতে ঢাকাসহ ১৫ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বদল করা হয়েছে। এভাবে ধাপে ধাপে পুরো নির্বাচনি প্রশাসন পুনর্বিন্যাস করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

ভোট পরিচালনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন জেলা প্রশাসকরা। তারা নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকায় থাকেন। এজন্যই তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই ইসি মাঠ প্রশাসনকে সুষ্ঠু ভোট পরিবেশ তৈরির উপযোগী করে তুলতে চায়।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য যাঁরা ভোটের কাজে থাকবেন, তাঁদের মধ্যে রদবদল চলছে এবং চলবে। নিরপেক্ষ যোগ্য কর্মকর্তাদেরই নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, তফসিল ঘোষণার পর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে, সেসব অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় রদবদল করা হবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মাঠ প্রশাসন তদারকি আচরণবিধি প্রতিপালনসহ পাঁচটি বিশেষ সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। মাঠ প্রশাসন সমন্বয়ের দায়িত্বে আছেন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনে সব রদবদল যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে। যেসব কর্মকর্তা শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম, তাঁদেরকেই মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বে রাখা হবে।

নিরপেক্ষ ভোটের প্রস্তুতি: ডিসি রদবদলে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন
নিরপেক্ষ ভোটের প্রস্তুতি: ডিসি রদবদলে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন

আগের মতো এবারও ভোটের প্রাকপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রশাসন পুলিশের পদে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তফসিল ঘোষণার দেড় মাস আগেই রদবদল শুরু করেছে। গত ২৯ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা প্রথম সমন্বয় সভা করেন, আর তার পরের সপ্তাহেই পরিবর্তনের এই ধারা শুরু হয়।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সব কাজ গুছিয়ে এখন তফসিল ঘোষণার চূড়ান্ত ধাপে রয়েছি আমরা। সমন্বয়ের কাজ চলছে, জনপ্রশাসন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদল করছে। তফসিল ঘোষণার পর কমিশনও নির্দেশনা দেবে।

ভোটের আগে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও নিচ্ছে ইসি। কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আচরণবিধি ভঙ্গ করলে কঠিনভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ম্যাজিস্ট্রেট, ডিআইজি সবাইকে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। লক্ষ্যে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেছে, যার ফলে কিছু এলাকায় উত্তেজনাও বাড়ছে।

তবে এবার নির্বাচন কমিশন পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। তফসিল ঘোষণার পরই সব প্রচার সামগ্রী অপসারণে সময়সীমা নির্ধারণ করবে ইসি। সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারেও থাকবে কঠোর নজরদারি।

সবশেষে নির্বাচন কমিশন জানায়, রিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রিজাইডিং অফিসার পর্যন্ত দায়িত্বে কোনো বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তাকে রাখা হবে না। নিরপেক্ষ প্রশাসন স্বচ্ছ আচরণবিধি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আসন্ন নির্বাচন ন্যায্য শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে ইসি।