ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

নিম্নমাণের পেঁয়াজের কেজি ৬০, কাঁচালঙ্কার ২৪০!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ অক্টোবর ২০২৩ ২০১ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

 

বাজার ঘুরে

নিম্নমাণের পেঁয়াজের কেজি ৬০ সরকারের বেধে দেওয়া দামে ডিম, পেঁয়াজ ও আলু মিলছে না!

সরলভাবে বলছে সরকারের বেধে দেওয়া দামের কোন তোয়াক্কা করছে না ব্যবসায়ীরা। বাজারে একটি

শব্দ বেশ আলোচিত, যার নাম ‘সিন্ডিকেট’। সিন্ডিকেট কেন? ব্যাখায় বলা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের বাজার

নিজেদের ইচ্ছে মাফিক দাম বাড়িয়ে, কখন আবার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে

রাতারাতি মুনাফা হাতিয়ে নেয়।সিন্ডিকেট ফরাসি ভাষায় ল্যাটিন শব্দ সিন্ডিকাস থেকে এসেছে।

সিন্ডিকেট হচ্ছে ব্যক্তি, কোম্পানি,

কর্পোরেশন বা একটি স্ব-সংগঠিত গোষ্ঠী যারা নির্দিষ্ট ব্যবসার স্বার্থে গঠিত হয়। বড় ব্যবসায়ী বাজারে

তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সিন্ডিকেট গঠন করে। বাংলাদেশে সিন্ডিকেট শব্দটির সঙ্গে সবাই পরিচিত।

বলা যায় সিন্ডিকেটের কবলে সাধারণ ভোক্তা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি পণ্যের দামই চড়া। সরকারী ছুটির দিনে আরও একধাপ বেড়েছে।

পেঁয়াজ বিক্রেতা শাসুল আলম জানান, ফের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। তার দেশি পেঁয়াজ ১০০, কিছু

নিম্ন মানের ৯০, ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ এবং আমদানিকৃত ছাল ওঠা পেঁযাজ ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।

বাজারের পাশাপাশি রিকসাভ্যানে করেও সব্জিসহ বিভিন্ন পণ্যবিক্রির প্রচলন বেড়েছে।

ছুটির দিনে বৃষ্টির দোহাই দিয়ে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

খুচরো থেকে পাইকারী সকল পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা এখন সিন্ডিকেটের দোহাই দিয়ে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

নিম্নমাণের পেঁয়াজের কেজি ৬০

বাজারে সকল পণ্যের অচেল আমদানি লক্ষ্য করা গেছে। তারপরও দাম চড়া।

শুক্রবার খিলগাও, গোড়ান বাজারে করলা ৭০, উচ্চে ৬০, টমেটো ১০০, কচুরলতি ৭০ থেকে ৮০,

পটল ৫০, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, শশা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

গোল আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

লাউ প্রতিটি ৭০, প্রকারভেদে কচুরমুখী ৮০, কাচকলার হালি ৪০, বাধা কপি ৫০,

কাঁকরোল ৮০, শিম ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদার কেজি ২৪০, ডিম ১৫০ ডজন।

সব্জি ব্যবসায়ীরা জানান, তবে শীতের সব্জির বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম কমবে না।

ছটির দিনে বাজারে ইলিশের দামও চড়া। ৯০০ গ্রাম ওজনের মাছ ১৪শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা কেজি আর সোনালী মুরগি ছোট আকারের ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রিক্সাভ্যান ভর্তি কাঁচা মরিচ। সঙ্গে অন্যান্য সব্জি। দোকানী রাসেল বললো, কাঁচামরিচ আড়াইশ’ গ্রাম ৬০ টাকা।

এক ভদ্র মহিলা বললেন, ৩০টাকার দিন। অপর একজন কিনলেন ২০টাকার কাঁচা মরিচ।

তারা কেউ এতো অল্প টাকার কাঁচামরিচ কেনার মানুষ নন, তা পরিষ্কার বোঝা যায়।

ভদ্র মহিলার দিকে তাকিয়ে একজন বললেন, দাম আবার বাড়ল।

এমন মোলায়েম ভাষা শুনে ভদ্র মহিলা কিছু বললেন না, শুধু তাকিয়ে থাকলেন।

সেই তাকানো ছিল বেশ কঠিন, তার ভেতরের ক্রোধ ঠিকরে বেড়িয়ে আসছিলো দুই চোখ দিয়ে।

আশপাশের মানুষের তার চোখের দিকে তাকানোর সাহস পাচ্ছিলেন না। কারণ, তিনি একজন মা, কষ্টটা তারই বেশি হবার কথা।

এমনি হাজারো মা সংসারের হাল ধরা এখন আর সহজ মনে করছেন না।

দ্রব্যমূল্যে চাপে তারা পিষ্ট! সিন্ডিকেটেডের কবলে পড়ে মানুষ দিশেহারা।

প্রতিটি পণ্যমূল্য আকাশ ছোঁয়া। সাধারণের ক্রয়ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

বলা যায়, কুলিয়ে ওঠতে না পেরে বাজেট কাটছাট করতে বাধ্য হচ্ছেন।

নিম্ন আয়ের মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

করোনার দখল কাটিয়ে ওঠতে না ওঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আয় রোজগারের পথে পাথরের মতো চেপে বসেছে।

কর্মহীন হচ্ছেন বহু মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে পণ্যমূল্য লালঘোড়া উর্ধমুখী ছুটে চলেছে।

বাজার পরিস্থিতি দেখভালের জন্য কঠোর কোন ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে,

এমন অভিযোগ সাধারণ ভোক্তাদের।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নিম্নমাণের পেঁয়াজের কেজি ৬০, কাঁচালঙ্কার ২৪০!

আপডেট সময় : ০১:০৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ অক্টোবর ২০২৩

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

 

বাজার ঘুরে

নিম্নমাণের পেঁয়াজের কেজি ৬০ সরকারের বেধে দেওয়া দামে ডিম, পেঁয়াজ ও আলু মিলছে না!

সরলভাবে বলছে সরকারের বেধে দেওয়া দামের কোন তোয়াক্কা করছে না ব্যবসায়ীরা। বাজারে একটি

শব্দ বেশ আলোচিত, যার নাম ‘সিন্ডিকেট’। সিন্ডিকেট কেন? ব্যাখায় বলা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের বাজার

নিজেদের ইচ্ছে মাফিক দাম বাড়িয়ে, কখন আবার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে

রাতারাতি মুনাফা হাতিয়ে নেয়।সিন্ডিকেট ফরাসি ভাষায় ল্যাটিন শব্দ সিন্ডিকাস থেকে এসেছে।

সিন্ডিকেট হচ্ছে ব্যক্তি, কোম্পানি,

কর্পোরেশন বা একটি স্ব-সংগঠিত গোষ্ঠী যারা নির্দিষ্ট ব্যবসার স্বার্থে গঠিত হয়। বড় ব্যবসায়ী বাজারে

তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সিন্ডিকেট গঠন করে। বাংলাদেশে সিন্ডিকেট শব্দটির সঙ্গে সবাই পরিচিত।

বলা যায় সিন্ডিকেটের কবলে সাধারণ ভোক্তা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি পণ্যের দামই চড়া। সরকারী ছুটির দিনে আরও একধাপ বেড়েছে।

পেঁয়াজ বিক্রেতা শাসুল আলম জানান, ফের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। তার দেশি পেঁয়াজ ১০০, কিছু

নিম্ন মানের ৯০, ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ এবং আমদানিকৃত ছাল ওঠা পেঁযাজ ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।

বাজারের পাশাপাশি রিকসাভ্যানে করেও সব্জিসহ বিভিন্ন পণ্যবিক্রির প্রচলন বেড়েছে।

ছুটির দিনে বৃষ্টির দোহাই দিয়ে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

খুচরো থেকে পাইকারী সকল পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা এখন সিন্ডিকেটের দোহাই দিয়ে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

নিম্নমাণের পেঁয়াজের কেজি ৬০

বাজারে সকল পণ্যের অচেল আমদানি লক্ষ্য করা গেছে। তারপরও দাম চড়া।

শুক্রবার খিলগাও, গোড়ান বাজারে করলা ৭০, উচ্চে ৬০, টমেটো ১০০, কচুরলতি ৭০ থেকে ৮০,

পটল ৫০, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, শশা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

গোল আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

লাউ প্রতিটি ৭০, প্রকারভেদে কচুরমুখী ৮০, কাচকলার হালি ৪০, বাধা কপি ৫০,

কাঁকরোল ৮০, শিম ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদার কেজি ২৪০, ডিম ১৫০ ডজন।

সব্জি ব্যবসায়ীরা জানান, তবে শীতের সব্জির বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম কমবে না।

ছটির দিনে বাজারে ইলিশের দামও চড়া। ৯০০ গ্রাম ওজনের মাছ ১৪শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা কেজি আর সোনালী মুরগি ছোট আকারের ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রিক্সাভ্যান ভর্তি কাঁচা মরিচ। সঙ্গে অন্যান্য সব্জি। দোকানী রাসেল বললো, কাঁচামরিচ আড়াইশ’ গ্রাম ৬০ টাকা।

এক ভদ্র মহিলা বললেন, ৩০টাকার দিন। অপর একজন কিনলেন ২০টাকার কাঁচা মরিচ।

তারা কেউ এতো অল্প টাকার কাঁচামরিচ কেনার মানুষ নন, তা পরিষ্কার বোঝা যায়।

ভদ্র মহিলার দিকে তাকিয়ে একজন বললেন, দাম আবার বাড়ল।

এমন মোলায়েম ভাষা শুনে ভদ্র মহিলা কিছু বললেন না, শুধু তাকিয়ে থাকলেন।

সেই তাকানো ছিল বেশ কঠিন, তার ভেতরের ক্রোধ ঠিকরে বেড়িয়ে আসছিলো দুই চোখ দিয়ে।

আশপাশের মানুষের তার চোখের দিকে তাকানোর সাহস পাচ্ছিলেন না। কারণ, তিনি একজন মা, কষ্টটা তারই বেশি হবার কথা।

এমনি হাজারো মা সংসারের হাল ধরা এখন আর সহজ মনে করছেন না।

দ্রব্যমূল্যে চাপে তারা পিষ্ট! সিন্ডিকেটেডের কবলে পড়ে মানুষ দিশেহারা।

প্রতিটি পণ্যমূল্য আকাশ ছোঁয়া। সাধারণের ক্রয়ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

বলা যায়, কুলিয়ে ওঠতে না পেরে বাজেট কাটছাট করতে বাধ্য হচ্ছেন।

নিম্ন আয়ের মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

করোনার দখল কাটিয়ে ওঠতে না ওঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আয় রোজগারের পথে পাথরের মতো চেপে বসেছে।

কর্মহীন হচ্ছেন বহু মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে পণ্যমূল্য লালঘোড়া উর্ধমুখী ছুটে চলেছে।

বাজার পরিস্থিতি দেখভালের জন্য কঠোর কোন ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে,

এমন অভিযোগ সাধারণ ভোক্তাদের।