ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত শার্শায় র‌্যাবের অভিযানে ২৯৭০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে-চীনা রাষ্ট্রদূত তৈরি পোশাকখাত এখন পোশাক খাত এখন আইসিইউতে: মোহাম্মদ হাতেম তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ব্যবসা মন্দা, আয় সংকোচন ও রাজস্ব ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি  নির্বাচন কমিশনের সামনে বিজিবি মোতায়েন, ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত মাদারীপুরে বাস অটোরিকশা সংঘর্ষ প্রাণ গেল ৬জনের বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার রমজান সামনে আগেই চড়া বাজার: দামে লাগাম টানতে কড়া নজরদাবি জরুরি

নায়ক ফারুক ‘মিয়াভাই’ আর নেই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ মে ২০২৩ ২০২ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগ্রহ 

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

বাংলা চলচ্চিত্রের নন্দিত নায়ক ফারুক আর নেই। সোমবার সকালে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। মঙ্গলবার তার মরদেহ দেশে আনা হবে।

মিয়াভাই চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর বাংলার চলচ্চিত্রাঙ্গনে ‘মিয়াভাই’ বনে যান নায়ক ফারুক। পুরো নাম আকবর হোসেন পাঠান। চলচ্চিত্র থেকে অবসর নেবার পর ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

ফারুক প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ১৯৭৫ সালে। নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত বিখ্যাত লাঠিয়াল সিনেমায় অভিনয় করার কারণে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্র ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ২০১৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা অর্জন করেন তিনি।

এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রজগতে ফারুকের অভিষেক ঘটে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তি পায় তাঁর অভিনীত প্রথম ছবি ‘জলছবি’।

চিত্রনায়ক ও সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, এ দেশের চলচ্চিত্রে নায়ক ফারুক এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতি ও সংস্কৃতি অঙ্গনে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

১৯৭৩ সালে মুক্তি পায় খান আতাউর রহমান পরিচালিত ফারুক অভিনীত ‘আবার তোরা মানুষ হ’। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পায় নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘লাঠিয়াল’। এ ছবিতে ফারুকের চরিত্রটি সাড়া ফেলে। সে সময় থেকে গ্রামীণ পটভূমির চলচ্চিত্রে তার আলাদা পরিচিতি পান। একই বছর মুক্তি পায় খান আতার আরেক সিনেমা ‘সুজন সখী’।

পাঁচ দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেন বহু দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত নন্দিত এই চিত্রনায়ক ফারুক। তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দীর্ঘদিন থেকেই নানা রোগে ভুগছিলেন।

ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ফারুক জানিয়েছেন, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। উনসত্তরের গণ-আন্দোলন, সত্তরের নির্বাচন ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধ থেকে ফিরে চলচ্চিত্রে মনোযোগ দেন।

২০১৬ সালে বিবিসি বাংলায় দেওয়া এক অডিও সাক্ষাৎকারে ফারুক বলেছিলেন, ছয় দফা আন্দোলনের পর আমি ওয়ান্টেড ছিলাম। যে কারণে নাম দিয়ে দিল ফারুক। ওরা বলল, এই নামে তোমাকে প্রথমে কেউ ধরবে না। দ্বিতীয়ত, চলচ্চিত্রের নামগুলো ছোট হলে ভালো হয়, সুন্দর হয়। যেমন রাজ্জাক, উজ্জল, ফারুক, আলমগীর, শাবানা, নাম ছোট হলে ক্যাচি হয়।

ফারুকের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায়। তবে বেড়ে উঠেছেন পুরান ঢাকাতে। বাবা আজগার হোসেন পাঠানের ছিল পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলে। ফারুক ছিলেন ভাইদের মধ্যে সবার ছোট। আগেই বলা হয়েছে, তার প্রথম ছবিটি পরিচালনা করেন এইচ আকবর। প্রথম ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন কবরী। এই জুটিই করেছিলেন ‘সুজন সখী’ ছবিটি। কবরী ও ফারুক জুটি একসময় খুবই জনপ্রিয় ছিল।

গ্রামীণ পটভূমির গল্পে নির্মিত এ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র গ্রামীণ তরুণ সুজনের ভূমিকায় ফারুকের নামডাক ছড়িয়ে পড়ে। পরের বছর ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’। এটিও সাড়া ফেলে। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় শহীদুল্লা কায়সারের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে আবদুল্লাহ আল মামুনের সিনেমা ‘সারেং বৌ’। সিনেমায় ‘কদম সারেং’ চরিত্রে জীবনঘনিষ্ঠ অভিনয়ের জন্য ক্ল্যাসিক অভিনেতা হিসেবে গণ্য হন।

আমজাদ হোসেনের ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ছবিতে মিলন চরিত্রে ফারুকের অভিনয় দর্শকমনে দাগ কাটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নায়ক ফারুক ‘মিয়াভাই’ আর নেই

আপডেট সময় : ০৩:৪১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ মে ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক

বাংলা চলচ্চিত্রের নন্দিত নায়ক ফারুক আর নেই। সোমবার সকালে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। মঙ্গলবার তার মরদেহ দেশে আনা হবে।

মিয়াভাই চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর বাংলার চলচ্চিত্রাঙ্গনে ‘মিয়াভাই’ বনে যান নায়ক ফারুক। পুরো নাম আকবর হোসেন পাঠান। চলচ্চিত্র থেকে অবসর নেবার পর ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

ফারুক প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ১৯৭৫ সালে। নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত বিখ্যাত লাঠিয়াল সিনেমায় অভিনয় করার কারণে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্র ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ২০১৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা অর্জন করেন তিনি।

এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রজগতে ফারুকের অভিষেক ঘটে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তি পায় তাঁর অভিনীত প্রথম ছবি ‘জলছবি’।

চিত্রনায়ক ও সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, এ দেশের চলচ্চিত্রে নায়ক ফারুক এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতি ও সংস্কৃতি অঙ্গনে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

১৯৭৩ সালে মুক্তি পায় খান আতাউর রহমান পরিচালিত ফারুক অভিনীত ‘আবার তোরা মানুষ হ’। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পায় নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘লাঠিয়াল’। এ ছবিতে ফারুকের চরিত্রটি সাড়া ফেলে। সে সময় থেকে গ্রামীণ পটভূমির চলচ্চিত্রে তার আলাদা পরিচিতি পান। একই বছর মুক্তি পায় খান আতার আরেক সিনেমা ‘সুজন সখী’।

পাঁচ দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেন বহু দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত নন্দিত এই চিত্রনায়ক ফারুক। তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দীর্ঘদিন থেকেই নানা রোগে ভুগছিলেন।

ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ফারুক জানিয়েছেন, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। উনসত্তরের গণ-আন্দোলন, সত্তরের নির্বাচন ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধ থেকে ফিরে চলচ্চিত্রে মনোযোগ দেন।

২০১৬ সালে বিবিসি বাংলায় দেওয়া এক অডিও সাক্ষাৎকারে ফারুক বলেছিলেন, ছয় দফা আন্দোলনের পর আমি ওয়ান্টেড ছিলাম। যে কারণে নাম দিয়ে দিল ফারুক। ওরা বলল, এই নামে তোমাকে প্রথমে কেউ ধরবে না। দ্বিতীয়ত, চলচ্চিত্রের নামগুলো ছোট হলে ভালো হয়, সুন্দর হয়। যেমন রাজ্জাক, উজ্জল, ফারুক, আলমগীর, শাবানা, নাম ছোট হলে ক্যাচি হয়।

ফারুকের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায়। তবে বেড়ে উঠেছেন পুরান ঢাকাতে। বাবা আজগার হোসেন পাঠানের ছিল পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলে। ফারুক ছিলেন ভাইদের মধ্যে সবার ছোট। আগেই বলা হয়েছে, তার প্রথম ছবিটি পরিচালনা করেন এইচ আকবর। প্রথম ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন কবরী। এই জুটিই করেছিলেন ‘সুজন সখী’ ছবিটি। কবরী ও ফারুক জুটি একসময় খুবই জনপ্রিয় ছিল।

গ্রামীণ পটভূমির গল্পে নির্মিত এ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র গ্রামীণ তরুণ সুজনের ভূমিকায় ফারুকের নামডাক ছড়িয়ে পড়ে। পরের বছর ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’। এটিও সাড়া ফেলে। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় শহীদুল্লা কায়সারের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে আবদুল্লাহ আল মামুনের সিনেমা ‘সারেং বৌ’। সিনেমায় ‘কদম সারেং’ চরিত্রে জীবনঘনিষ্ঠ অভিনয়ের জন্য ক্ল্যাসিক অভিনেতা হিসেবে গণ্য হন।

আমজাদ হোসেনের ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ছবিতে মিলন চরিত্রে ফারুকের অভিনয় দর্শকমনে দাগ কাটে।