নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের অনুমতি, ভারতের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের
- আপডেট সময় : ০৬:২৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে হত্যা মামলার পলাতক আসামি ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জনসম্মুখে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। রবিবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি জনসভায় শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে বিস্মিত ও হতবাক করেছে। বাংলাদেশের অভিযোগ, এই বক্তব্যে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে বর্তমান সরকারকে অপসারণের আহ্বান জানান এবং দেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ব্যাহত করতে তার দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেন।
বাংলাদেশ সরকার জানায়, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার আইনগত ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সেই দায়বদ্ধতা পূরণ না করে ভারতের মাটিতে তাকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া এবং গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত একজন পলাতক আসামিকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বীকৃত নীতিমালার পরিপন্থী। বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সু-প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতি এতে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশের।
ঢাকার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি স্পষ্ট অবমাননার শামিল। বাংলাদেশ মনে করে, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারগুলোর মধ্যে সুস্থ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গঠনের প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এদিকে বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করা হয়। বলা হয়, এই ‘নির্লজ্জ উসকানি’ আবারও প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল।
নির্বাচনের আগে কিংবা নির্বাচনের দিন দেশে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার সম্পূর্ণ দায় আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়। বাংলাদেশ সরকার জানায়, এই ধরনের দুষ্ট ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



















