নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত বড় চ্যালেঞ্জ
- আপডেট সময় : ০৯:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার, যা আগামী পাঁচ বছর দেশের নেতৃত্ব দেবে। সরকার মূলত দুইটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি: অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুতর।
বিদ্যুৎ খাতে বড় সমস্যা হচ্ছে অর্থের জোগান। সরকারি–বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কাছে দীর্ঘমেয়াদি বকেয়া জমে আছে। ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (বিপ্পা) জানিয়েছে, তাদের কাছে বকেয়ার পরিমাণ ১৪ হাজার কোটি টাকা, যার অন্তত ৬০% পরিশোধ করতে হবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে। এছাড়া ভারতের আদানি পাওয়ারের কাছে সরকারের ১০০ কোটি ডলার বকেয়া আছে।
২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন চার গুণ বেড়েছে, কিন্তু বেসরকারি উৎপাদনকারীদের দেওয়া টাকার পরিমাণ ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বকেয়া পরিশোধ এবং লোকসান কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জ্বালানি খাতেও চ্যালেঞ্জ সমান। চলতি অর্থবছরে দেশে দৈনিক গ্যাস চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় খনি থেকে সরবরাহ হচ্ছে ১৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ১০৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর ফলে দৈনিক ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
আগামী বছরগুলোর জন্য চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সরবরাহ বাড়ছে না, ফলে ঘাটতি আরও প্রকট হবে। ২০৩০–৩১ সালের মধ্যে মহেশখালীতে নতুন এলএনজি টার্মিনাল চালু হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বড় গ্যাস খনি পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যুতের সমস্যা মূলত ভর্তুকি বৃদ্ধির কারণে। ভর্তুকি কমানো এবং বছরের ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে ভর্তুকি হ্রাস করা জরুরি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশে নতুন গ্যাস খনির অনুসন্ধান অপরিহার্য। আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সরকারের মেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন।
সংক্ষেপে, নতুন সরকারকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য অর্থায়ন, বকেয়া পরিশোধ এবং নতুন উৎস সৃষ্টি, পাশাপাশি ভর্তুকি হ্রাস ও পুনর্নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সুসংগঠিত পরিকল্পনা নিতে হবে। সফল বাস্তবায়ন না হলে দেশের শিল্প, উৎপাদন ও দৈনন্দিন জীবনে গুরুতর প্রভাব পড়বে।
মোটামুটি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, অর্থায়ন ঘাটতি, বকেয়া পরিশোধ ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

















