ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত বড় চ্যালেঞ্জ সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের দুই শিশুসহ ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-পরবর্তী হামলার প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইসলামী আন্দোলনের আমিরের সঙ্গে এক হাসিনায় নয়, জাতীয় স্বার্থে এগোবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ধানের শীষে জোয়ার, দাঁড়িপাল্লায় উত্থান, দ্বিকক্ষ সংসদের পথে বাংলাদেশ টেকনাফে ২০০ কেজির ‘পাখি মাছ’, বিরল শিকার ঘিরে চাঞ্চল্য তারেক রহমানের জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ১৮ তারিখ সকালে এমপিদের, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ

ধানের শীষে জোয়ার, দাঁড়িপাল্লায় উত্থান, দ্বিকক্ষ সংসদের পথে বাংলাদেশ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩০ বার পড়া হয়েছে

ধানের শীষে জোয়ার, দাঁড়িপাল্লায় উত্থান, দ্বিকক্ষ সংসদের পথে বাংলাদেশ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিরঙ্কুশ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রকাশিত চূড়ান্ত হিসাবে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে লড়া ২৯১ প্রার্থী মিলিয়ে দলটি পেয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ ভোট, যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ২৯৭ আসনের ফলাফলে বিএনপি জিতেছে ২০৯টি আসন, ফলে এককভাবেই সরকার গঠনের অবস্থানে তারা।

অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে সোয়া ২ কোটির বেশি ভোট, যা মোট ভোটের ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ৬৮টি আসনে জয় নিয়ে দলটি দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা।

ভোটের হার ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ (২৯৭ আসনে) এবং গণভোটে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ (২৯৯ আসনে)। ৫০টি দল অংশ নিলেও জয় পেয়েছে মাত্র সাতটি দল। আওয়ামী লীগবিহীন এ নির্বাচনে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণকে বিশ্লেষকেরা রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

ধানের শীষে জোয়ার, দাঁড়িপাল্লায় উত্থান, দ্বিকক্ষ সংসদের পথে বাংলাদেশ
ধানের শীষে জোয়ার, দাঁড়িপাল্লায় উত্থান : ছবি সংগ্রহ

নির্বাচন বিশ্লেষক আবদুল আলীমের মতে, বিগত সময়ের রাজনৈতিক চাপ, মামলা ও নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও জামায়াত, দুই দলের প্রতিই জনসমর্থন বেড়েছে। প্রবাসে থেকে দলের নেতৃত্বে তারেক রহমানের ভূমিকা এবং চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন অবস্থান’ ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

একইভাবে, নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ ঘোষণার অভিজ্ঞতা জামায়াতের প্রতি সহমর্মিতা বাড়িয়েছে, যার প্রতিফলন ৬৮ আসনের সাফল্য।

জোট ও সংরক্ষিত আসন

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিশ ১টি আসন। বিএনপি জোটের শরিকদের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি ও গণসংগতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। জোটের বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

ধানের শীষে জোয়ার, দাঁড়িপাল্লায় উত্থান, দ্বিকক্ষ সংসদের পথে বাংলাদেশ
ধানের শীষে জোয়ার, দাঁড়িপাল্লায় উত্থান, দ্বিকক্ষ সংসদের পথে বাংলাদেশ

সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের মধ্যে বর্তমান অনুপাতে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা ১টি আসন। এ সংখ্যা ভবিষ্যতে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাবও রয়েছে।

দ্বিকক্ষ সংসদের পথে

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় পাওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা হবে ১০০, যা নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে (পিআর পদ্ধতি) বণ্টিত হবে। প্রাথমিক হিসাবে বিএনপি পাবে ৫০টি, জামায়াত ৩২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩টি, এনসিপি ৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং স্বতন্ত্ররা ৬টি আসন।

দুই আসনের ফল বাকি থাকায় এ সংখ্যায় সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে।

উচ্চকক্ষের মেয়াদ হবে শপথের তারিখ থেকে পাঁচ বছর,  তবে নিম্নকক্ষ ভেঙে গেলে উচ্চকক্ষও বিলুপ্ত হবে। ফলে এবারের নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের নয়, রাষ্ট্র কাঠামোয় একটি কাঠামোগত রূপান্তরের সূচনাও বটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ধানের শীষে জোয়ার, দাঁড়িপাল্লায় উত্থান, দ্বিকক্ষ সংসদের পথে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১২:১৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিরঙ্কুশ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রকাশিত চূড়ান্ত হিসাবে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে লড়া ২৯১ প্রার্থী মিলিয়ে দলটি পেয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ ভোট, যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ২৯৭ আসনের ফলাফলে বিএনপি জিতেছে ২০৯টি আসন, ফলে এককভাবেই সরকার গঠনের অবস্থানে তারা।

অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে সোয়া ২ কোটির বেশি ভোট, যা মোট ভোটের ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ৬৮টি আসনে জয় নিয়ে দলটি দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা।

ভোটের হার ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ (২৯৭ আসনে) এবং গণভোটে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ (২৯৯ আসনে)। ৫০টি দল অংশ নিলেও জয় পেয়েছে মাত্র সাতটি দল। আওয়ামী লীগবিহীন এ নির্বাচনে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণকে বিশ্লেষকেরা রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

ধানের শীষে জোয়ার, দাঁড়িপাল্লায় উত্থান, দ্বিকক্ষ সংসদের পথে বাংলাদেশ
ধানের শীষে জোয়ার, দাঁড়িপাল্লায় উত্থান : ছবি সংগ্রহ

নির্বাচন বিশ্লেষক আবদুল আলীমের মতে, বিগত সময়ের রাজনৈতিক চাপ, মামলা ও নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও জামায়াত, দুই দলের প্রতিই জনসমর্থন বেড়েছে। প্রবাসে থেকে দলের নেতৃত্বে তারেক রহমানের ভূমিকা এবং চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন অবস্থান’ ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

একইভাবে, নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ ঘোষণার অভিজ্ঞতা জামায়াতের প্রতি সহমর্মিতা বাড়িয়েছে, যার প্রতিফলন ৬৮ আসনের সাফল্য।

জোট ও সংরক্ষিত আসন

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিশ ১টি আসন। বিএনপি জোটের শরিকদের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি ও গণসংগতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। জোটের বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

ধানের শীষে জোয়ার, দাঁড়িপাল্লায় উত্থান, দ্বিকক্ষ সংসদের পথে বাংলাদেশ
ধানের শীষে জোয়ার, দাঁড়িপাল্লায় উত্থান, দ্বিকক্ষ সংসদের পথে বাংলাদেশ

সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের মধ্যে বর্তমান অনুপাতে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা ১টি আসন। এ সংখ্যা ভবিষ্যতে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাবও রয়েছে।

দ্বিকক্ষ সংসদের পথে

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় পাওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা হবে ১০০, যা নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে (পিআর পদ্ধতি) বণ্টিত হবে। প্রাথমিক হিসাবে বিএনপি পাবে ৫০টি, জামায়াত ৩২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩টি, এনসিপি ৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং স্বতন্ত্ররা ৬টি আসন।

দুই আসনের ফল বাকি থাকায় এ সংখ্যায় সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে।

উচ্চকক্ষের মেয়াদ হবে শপথের তারিখ থেকে পাঁচ বছর,  তবে নিম্নকক্ষ ভেঙে গেলে উচ্চকক্ষও বিলুপ্ত হবে। ফলে এবারের নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের নয়, রাষ্ট্র কাঠামোয় একটি কাঠামোগত রূপান্তরের সূচনাও বটে।