ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান ইসকনের
- আপডেট সময় : ০৭:৪১:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একটি স্বার্থন্বেষী মহল সুপরিকল্পিভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী।
তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করা হচ্ছে। মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ইসকন একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। কোন সহিংসতা, প্রতিহিংসা বা ঘৃণা সমর্থন করে না ইসকন।
সম্প্রতি কিছু ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, শান্তিপ্রিয় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী মহল গভীর ষড়যন্ত্র করে চলেছে। মিথ্যাচার, গুজব ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণার মাধ্যমে দেশের আবহমানকালীন ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টেরই অংশ বলে আমরা মনে করি।
সংহতি ও শান্তি রক্ষায় দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীসহ সকল ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রশাসনের প্রতি এই আহ্বান আহ্বান জানান। সোমবার ঢাকার স্বামীবাগ ইসকন আশ্রমে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইনকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী একথা বলেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, মিথ্যা-গুজব ছড়িয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আত্মবিশ্বাস দুর্বল করা এবং জাতির ঐক্য-সংহতিকে বিপর্যস্ত করার করা অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং জনগণকে অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ করেন।
চারু চন্দ্র দাস আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ইসকন সম্পর্কে ভিত্তিহীন তথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। দেওয়াল লিখন, প্রচারপত্র বিতরণ, বিক্ষোভ-মিছিল ও সহিংস তৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হচ্ছে। এমনকি ইসকন ভক্ত ও হিন্দুদের হত্যা, মন্দির ভাঙচুর ও হুমকির ঘটনাও ঘটছে।

বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের সামাজিকভাবে হেনস্তা করা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব প্রপাগান্ডা ইসকনের মতো আন্তর্জাতিক ধর্মীয় ও মানবকল্যাণমূলক সংগঠনকে কলঙ্কিত করার অপপ্রয়াস ছাড়া কিছু নয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার বলেন, বর্তমানে দেশে বিভক্তি ও ঘৃণার রাজনীতি চলছে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট থাকলেও আরও তৎপর হওয়া জরুরি। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কেও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, সরকার গঠনের পরপরই প্রধান উপদেষ্টা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এসে বলেছিলেন, আমরা সবাই এক পরিবারের সদস্য। কিন্তু বাস্তবে সেই চেতনা প্রতিফলিত হচ্ছে না বলেই সহিংসতা ও হানাহানির ঘটনা ঘটছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি জে. এল. ভৌমিক, ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি সত্য রঞ্জন বাড়ৈ, সহসভাপতি শ্রীমৎ ভক্তি বিনয় স্বামী মহারাজ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ আচার্য্য প্রমুখ।
সম্মেলনে বক্তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্য রক্ষায় সকল ধর্মের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।




















