ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্র পরিচালনার একমাত্র মানদণ্ড হবে আইনের শাসন: প্রধানমন্ত্রী রমজানে ভেজাল খাদ্যের ছড়াছড়ি: সিন্ডিকেট ভাঙতে ১৫ দফা নাগরিক দাবি ভাষার মাসের আবেগ ও চেতনা ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু অমর একুশে বইমেলা রোজায় পুরো মাস বন্ধ স্কুল, বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর জাতীয় স্বার্থ ‘পাই পাই করে’ নিশ্চিত করা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মব কালচারের দিন শেষ, আইনের শাসনই হবে একমাত্র পথ’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের স্থিতিশীলতার আভাস, ভেতরে ঝুঁকি রয়ে গেছে: গভর্নরের সতর্কবার্তা পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতির অবসান চান অর্থমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে  প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশের নবযাত্রা

আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা

চোখেমুখে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। দীর্ঘ সতেরো বছরের নির্বাসন শেষে স্বদেশভূমিতে ফিরে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকারই পুনর্ব্যক্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষিনির্ভর দ্বীপের সম্ভাবনাময় এই ভূখণ্ডকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই শুরু হলো তাঁর নেতৃত্বে নতুন যাত্রা।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেয় নতুন সরকার। এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও বগুড়া দুটি কেন্দ্র থেকেই বিজয়ী হন তিনি। দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন।

২০২৪ সালের আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেড় বছরের অন্তর্বর্তী শাসন শেষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে জয়লাভের মাধ্যমে দুই দশক পর আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরে দলটি।

তারেক রহমান হলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জ্যেষ্ঠ পুত্র। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় শৈশব থেকেই রাজনীতির পরিবেশে বেড়ে ওঠা তাঁর। ১৯৯০এর দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর দৃশ্যমান ভূমিকা শুরু।

২০০১২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময়ে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন পুনর্গঠনে উদ্যোগী হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০০২ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং পরবর্তীতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশের নবযাত্রা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান : ছবি সংগ্রহ

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দি থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে যান। লন্ডনে অবস্থানকালে দলীয় পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দলীয় সূত্র মতে, দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি নির্বাচন সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে নেতৃত্ব দেন। জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর নেতৃত্বেই চূড়ান্ত নির্বাচনী প্রচার পরিচালিত হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠা ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বর। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে নিহত হন। পরে খালেদা জিয়া দলীয় নেতৃত্ব গ্রহণ করে চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দলের তৃতীয় প্রজন্মের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব এলো।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি, পরিবেশের ভারসাম্য, সুশৃঙ্খল নগর ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর ভাষায়, উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান সুশাসনের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে একটি বাসযোগ্য, আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ।

ব্যক্তিজীবনে তাঁর সহধর্মিণী চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান। তাঁদের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তিন প্রজন্মের রাজনৈতিক ইতিহাসের পরিক্রমায় এখন নতুন অধ্যায়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু হলো বাংলাদেশের আরেকটি রাজনৈতিক অধ্যায়যার লক্ষ্য উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা জাতীয় পুনর্গঠন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশের নবযাত্রা

আপডেট সময় : ১১:১৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা

চোখেমুখে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। দীর্ঘ সতেরো বছরের নির্বাসন শেষে স্বদেশভূমিতে ফিরে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকারই পুনর্ব্যক্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষিনির্ভর দ্বীপের সম্ভাবনাময় এই ভূখণ্ডকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই শুরু হলো তাঁর নেতৃত্বে নতুন যাত্রা।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেয় নতুন সরকার। এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও বগুড়া দুটি কেন্দ্র থেকেই বিজয়ী হন তিনি। দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন।

২০২৪ সালের আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেড় বছরের অন্তর্বর্তী শাসন শেষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে জয়লাভের মাধ্যমে দুই দশক পর আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরে দলটি।

তারেক রহমান হলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জ্যেষ্ঠ পুত্র। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় শৈশব থেকেই রাজনীতির পরিবেশে বেড়ে ওঠা তাঁর। ১৯৯০এর দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর দৃশ্যমান ভূমিকা শুরু।

২০০১২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময়ে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন পুনর্গঠনে উদ্যোগী হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০০২ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং পরবর্তীতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশের নবযাত্রা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান : ছবি সংগ্রহ

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দি থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে যান। লন্ডনে অবস্থানকালে দলীয় পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দলীয় সূত্র মতে, দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি নির্বাচন সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে নেতৃত্ব দেন। জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর নেতৃত্বেই চূড়ান্ত নির্বাচনী প্রচার পরিচালিত হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠা ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বর। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে নিহত হন। পরে খালেদা জিয়া দলীয় নেতৃত্ব গ্রহণ করে চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দলের তৃতীয় প্রজন্মের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব এলো।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি, পরিবেশের ভারসাম্য, সুশৃঙ্খল নগর ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর ভাষায়, উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান সুশাসনের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে একটি বাসযোগ্য, আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ।

ব্যক্তিজীবনে তাঁর সহধর্মিণী চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান। তাঁদের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তিন প্রজন্মের রাজনৈতিক ইতিহাসের পরিক্রমায় এখন নতুন অধ্যায়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু হলো বাংলাদেশের আরেকটি রাজনৈতিক অধ্যায়যার লক্ষ্য উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা জাতীয় পুনর্গঠন।