ঢাকা ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি ম্যানচেস্টার-সিলেট সরাসরি ফ্লাইট স্থগিতের আশঙ্কা: বিমানকে চিঠি ৮ ব্রিটিশ এমপি’র বিনিয়োগ সংকটে অর্থনীতি, এডিপি  বাস্তবায়ন ১০ বছরে সর্বনিম্নে ইন্টারনেট বন্ধের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ, উত্তাল ইরানের সব প্রদেশ এলপিজি অটোগ্যাস সংকট: গ্যাস আছে, তবু নেই, কৃত্রিম অরাজকতায় জনজীবন বিপর্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক মৃত্যুর করিডোর,  ১৪ ঘণ্টায়  ঝরলো ৯ প্রাণ,  দায় কার? চট্টগ্রামে ছিনতাই হওয়া ‘২৯০ ভরি’ স্বর্ণ উদ্ধার, সাবেক পুলিশ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬ নির্বাচনী প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকারের সক্রিয়তা জরুরি: নজরুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তায় থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার যুদ্ধবিরতি জোরদার ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী হুমকির মুখে ডেনমার্কের কঠোর বার্তা: গ্রিনল্যান্ডে হামলা হলে আগে গুলি, পরে আলাপ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক মৃত্যুর করিডোর,  ১৪ ঘণ্টায়  ঝরলো ৯ প্রাণ,  দায় কার?

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:১২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক: মৃত্যুর করিডোরে পরিণত, ১৪ ঘন্দাটায় ৯ জনের মৃত্যু ছািবক সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যেন আর একটি যোগাযোগের পথ নয়, এটি পরিণত হয়েছে অবহেলা, বেপরোয়া চালনা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতীকী মৃত্যুকূপে। মাত্র ১৪ ঘণ্টায় তিনটি দুর্ঘটনায় ৯ জন মানুষের প্রাণহানি কোনো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নয়, এটি একটি ধারাবাহিক অপরাধের ফল। প্রতিদিন মানুষ মরছে, অথচ দায়ীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

চান্দিনায় বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীতমুখী গাড়িতে ধাক্কা, দাউদকান্দিতে যাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে চালকের উন্মত্ত গতি, মীরসরাইয়ে সড়কের পাশে অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কাঠবোঝাই ট্রাক, তিনটি ঘটনায়ই মূল সূত্র একটাই: দায়িত্বহীনতা। চালকের দায়িত্বহীনতা, পরিবহন মালিকদের লাগামহীন লোভ, হাইওয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণহীনতা।

প্রশ্ন হলো, একজন চালক কীভাবে যাত্রীদের সঙ্গে ঝগড়ার পরও স্টিয়ারিংয়ে বসে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়? কীভাবে একটি কাঠবোঝাই ট্রাক রাতের অন্ধকারে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, কোনো সতর্ক সাইন ছাড়াই? হাইওয়ে পুলিশের চেকপোস্ট, টহল, নজরদারি তাহলে কোথায় ছিল? দুর্ঘটনার পরপরই চালকরা পলাতক হয়, এটাই কি প্রমাণ করে না যে, তারা জানে শাস্তি হবে না?

এই মহাসড়কে দুর্ঘটনা নতুন নয়। নতুন নয় নিহতের লাশ, কান্না, ভাঙা স্বপ্ন। নতুন নয় তদন্ত কমিটি, আশ্বাস আর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এই পুরনো বুলি। কিন্তু কার্যকর শাস্তি, লাইসেন্স বাতিল, মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অযোগ্য গাড়ি সড়ক থেকে তুলে নেওয়া, এসবের কোনোটিই নিয়মিতভাবে হয় না। ফলে প্রতিটি দুর্ঘটনার পর আমরা শুধু লাশ গুনি।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই মৃত্যু যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। শিশু, নারী, পথচারী, যাত্রী, কারও জীবনই নিরাপদ নয়। একটি ১৬ মাসের শিশু, নামাজে যাওয়া বাবা-ছেলে, কিশোর শিক্ষার্থী, তাদের মৃত্যু কি শুধু একটি সংবাদ  হয়ে থাকবে?

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যা ঘটছে, তা অবহেলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অভিযানের দাবি রাখে। তা না হলে এই সড়ক আরও প্রাণ নেবে, আরও পরিবার ধ্বংস হবে। প্রশ্ন একটাই আর কত লাশ পড়লে ঘুম ভাঙবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের?

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক মৃত্যুর করিডোর,  ১৪ ঘণ্টায়  ঝরলো ৯ প্রাণ,  দায় কার?

আপডেট সময় : ১২:১২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যেন আর একটি যোগাযোগের পথ নয়, এটি পরিণত হয়েছে অবহেলা, বেপরোয়া চালনা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতীকী মৃত্যুকূপে। মাত্র ১৪ ঘণ্টায় তিনটি দুর্ঘটনায় ৯ জন মানুষের প্রাণহানি কোনো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নয়, এটি একটি ধারাবাহিক অপরাধের ফল। প্রতিদিন মানুষ মরছে, অথচ দায়ীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

চান্দিনায় বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীতমুখী গাড়িতে ধাক্কা, দাউদকান্দিতে যাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে চালকের উন্মত্ত গতি, মীরসরাইয়ে সড়কের পাশে অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কাঠবোঝাই ট্রাক, তিনটি ঘটনায়ই মূল সূত্র একটাই: দায়িত্বহীনতা। চালকের দায়িত্বহীনতা, পরিবহন মালিকদের লাগামহীন লোভ, হাইওয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণহীনতা।

প্রশ্ন হলো, একজন চালক কীভাবে যাত্রীদের সঙ্গে ঝগড়ার পরও স্টিয়ারিংয়ে বসে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়? কীভাবে একটি কাঠবোঝাই ট্রাক রাতের অন্ধকারে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, কোনো সতর্ক সাইন ছাড়াই? হাইওয়ে পুলিশের চেকপোস্ট, টহল, নজরদারি তাহলে কোথায় ছিল? দুর্ঘটনার পরপরই চালকরা পলাতক হয়, এটাই কি প্রমাণ করে না যে, তারা জানে শাস্তি হবে না?

এই মহাসড়কে দুর্ঘটনা নতুন নয়। নতুন নয় নিহতের লাশ, কান্না, ভাঙা স্বপ্ন। নতুন নয় তদন্ত কমিটি, আশ্বাস আর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এই পুরনো বুলি। কিন্তু কার্যকর শাস্তি, লাইসেন্স বাতিল, মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অযোগ্য গাড়ি সড়ক থেকে তুলে নেওয়া, এসবের কোনোটিই নিয়মিতভাবে হয় না। ফলে প্রতিটি দুর্ঘটনার পর আমরা শুধু লাশ গুনি।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই মৃত্যু যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। শিশু, নারী, পথচারী, যাত্রী, কারও জীবনই নিরাপদ নয়। একটি ১৬ মাসের শিশু, নামাজে যাওয়া বাবা-ছেলে, কিশোর শিক্ষার্থী, তাদের মৃত্যু কি শুধু একটি সংবাদ  হয়ে থাকবে?

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যা ঘটছে, তা অবহেলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অভিযানের দাবি রাখে। তা না হলে এই সড়ক আরও প্রাণ নেবে, আরও পরিবার ধ্বংস হবে। প্রশ্ন একটাই আর কত লাশ পড়লে ঘুম ভাঙবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের?