ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নতুন অভিযাত্রা বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আইসিসির সিদ্ধান্ত এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ইউএপির দুই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ইস্যুতে আজ কী সিদ্ধান্ত নেবে আইসিসি? ২২ জানুয়ারী মওলানা ভাসানীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৫৪তম বার্ষিকী বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট: কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর মব সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার দিন আর নেই: জামায়াত আমির বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ বেনাপোলে এক বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রী আটক বস্তিবাসীদের উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস তারেক রহমানের চাপ তৈরি করে ভারতে খেলাতে বাধ্য করা যাবে না

ট্রেড, ট্রানজিট এবং ট্যুরিজমসহ মাল্টিলেবেল কানিক্টিভিটির ব্যাপারে ভাবতে হবে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৩ ১৮৮ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পূরক অর্থনীতির প্রয়োজন রয়েছে। উভয় দেশকে ট্রেড, ট্রানজিট এবং ট্যুরিজমের ওপর জোড় দিতে হবে। মাল্টিলেবেল কানিক্টিভিটির ব্যাপারে আমাদের ভাবতে হবে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পূরক অর্থনীতির প্রয়োজন রয়েছে। উভয় দেশকে ট্রেড, ট্রানজিট এবং ট্যুরিজমের ওপর জোড় দিতে হবে। মাল্টিলেবেল কানিক্টিভিটির ব্যাপারে আমাদের ভাবতে হবে।

বাংলাদেশ-ভারত ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও কানেক্টিভিটি: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা। ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চট্টগ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম।

চট্টগ্রাম এগিয়ে গেলে বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করতে চায়। সেমিনারে ড. আতিউর রহমান বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে বদলে যাবে চট্টগ্রাম। তবে শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না তা সমন্বয় করতে হবে। এই সমন্বয়ের জন্য কো-অর্ডিনেটিং টাস্কফোর্স করা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখা দরকার।

অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম দরকার। ফরোয়ার্ড এবং ব্যাংকওয়ার্ড লিংকেজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটিল অবকাঠামো গড়ে তুলছে। কিন্তু ভারত এর চেয়ে আরও বেশি সমন্বয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল অবকাঠামো সমৃদ্ধ করেছে। ভারতের মতো আমাদেরও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়তে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল কানেক্টিভিটি সিংক্রোনাইজড করতে হবে।

আতিউর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম আমাদের ইঞ্জিনের মতো। শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনীতিতে অবদান রাখার সক্ষমতা রাখে। চট্টগ্রাম ঘিরে অনেক মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, এগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করা দরকার। কোনো রকম বাধা-বিপত্তি ছাড়া এগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে চট্টগ্রামের চেহারা বদলে যাবে। দক্ষিণ এশিয়ার হাব হয়ে উঠবে।

আমি মনে করে সমন্বয়ের জন্য একটি টাস্কফোর্স থাকলে ভালো। যেখানে মাল্টি স্টেকহোল্ডারের অংশগ্রহণ থাকতে পারে। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের পরিচালক (গবেষণা) আব্দুল্লাহ নদভি। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম এখন কেবলি নামে বাণিজ্যিক রাজধানী, তবে আশার কথা হচ্ছে সরকার উচ্চপর্যায়ে চট্টগ্রাম নিয়ে গভীরভাবে ভাবা হচ্ছে। প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী গড়ে তোলা বাংলাদেশের অর্থনীতি জন্য খুবই জরুরি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাজেট ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে ১৮ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন টাকা। যা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৩৬ শতাংশ আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মাত্র ২৮ শতাংশ। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তাদের বাণিজ্যের মাত্র ৫ শতাংশ নিজেদের মধ্যে করে থাকে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সড়কের উন্নয়নের মধ্যে ১ দিন সময় কমানো গেলে অনেক খরচ কমে আসে। মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের গুরুত্ব বাড়িবে দেবে। ভারতে জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী হবে বন্দরটি। মাতারবাড়ি বন্দর বাংলাদেশের জিডিপিকে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি করবে, এতে ৯ লাখ কর্মসংস্থান হবে। এসব কানেক্টিভিটিকে কাজে লাগাতে হলে অংশীজনদের একযোগে কাজ করা জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ট্রেড, ট্রানজিট এবং ট্যুরিজমসহ মাল্টিলেবেল কানিক্টিভিটির ব্যাপারে ভাবতে হবে

আপডেট সময় : ০৯:২৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৩

ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পূরক অর্থনীতির প্রয়োজন রয়েছে। উভয় দেশকে ট্রেড, ট্রানজিট এবং ট্যুরিজমের ওপর জোড় দিতে হবে। মাল্টিলেবেল কানিক্টিভিটির ব্যাপারে আমাদের ভাবতে হবে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পূরক অর্থনীতির প্রয়োজন রয়েছে। উভয় দেশকে ট্রেড, ট্রানজিট এবং ট্যুরিজমের ওপর জোড় দিতে হবে। মাল্টিলেবেল কানিক্টিভিটির ব্যাপারে আমাদের ভাবতে হবে।

বাংলাদেশ-ভারত ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও কানেক্টিভিটি: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা। ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চট্টগ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম।

চট্টগ্রাম এগিয়ে গেলে বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করতে চায়। সেমিনারে ড. আতিউর রহমান বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে বদলে যাবে চট্টগ্রাম। তবে শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না তা সমন্বয় করতে হবে। এই সমন্বয়ের জন্য কো-অর্ডিনেটিং টাস্কফোর্স করা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখা দরকার।

অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম দরকার। ফরোয়ার্ড এবং ব্যাংকওয়ার্ড লিংকেজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটিল অবকাঠামো গড়ে তুলছে। কিন্তু ভারত এর চেয়ে আরও বেশি সমন্বয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল অবকাঠামো সমৃদ্ধ করেছে। ভারতের মতো আমাদেরও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়তে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল কানেক্টিভিটি সিংক্রোনাইজড করতে হবে।

আতিউর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম আমাদের ইঞ্জিনের মতো। শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনীতিতে অবদান রাখার সক্ষমতা রাখে। চট্টগ্রাম ঘিরে অনেক মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, এগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করা দরকার। কোনো রকম বাধা-বিপত্তি ছাড়া এগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে চট্টগ্রামের চেহারা বদলে যাবে। দক্ষিণ এশিয়ার হাব হয়ে উঠবে।

আমি মনে করে সমন্বয়ের জন্য একটি টাস্কফোর্স থাকলে ভালো। যেখানে মাল্টি স্টেকহোল্ডারের অংশগ্রহণ থাকতে পারে। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের পরিচালক (গবেষণা) আব্দুল্লাহ নদভি। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম এখন কেবলি নামে বাণিজ্যিক রাজধানী, তবে আশার কথা হচ্ছে সরকার উচ্চপর্যায়ে চট্টগ্রাম নিয়ে গভীরভাবে ভাবা হচ্ছে। প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী গড়ে তোলা বাংলাদেশের অর্থনীতি জন্য খুবই জরুরি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাজেট ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে ১৮ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন টাকা। যা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৩৬ শতাংশ আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মাত্র ২৮ শতাংশ। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তাদের বাণিজ্যের মাত্র ৫ শতাংশ নিজেদের মধ্যে করে থাকে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সড়কের উন্নয়নের মধ্যে ১ দিন সময় কমানো গেলে অনেক খরচ কমে আসে। মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের গুরুত্ব বাড়িবে দেবে। ভারতে জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী হবে বন্দরটি। মাতারবাড়ি বন্দর বাংলাদেশের জিডিপিকে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি করবে, এতে ৯ লাখ কর্মসংস্থান হবে। এসব কানেক্টিভিটিকে কাজে লাগাতে হলে অংশীজনদের একযোগে কাজ করা জরুরি।