জুলাই গণঅভ্যুত্থানে লাশ পোড়ানোর নৃশংসতা: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় দমন–পীড়নের এক ভয়াবহ ও বর্বর অধ্যায়ের বিচারিক পরিণতি এসেছে। সাভারের আশুলিয়ায় আন্দোলনকারীদের গুলি করে হত্যা এবং জীবিত অবস্থায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২।
একই মামলায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাজসাক্ষী হওয়ায় একজনকে ক্ষমা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত বলেন, এটি ছিল পরিকল্পিত, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য পাঁচজন হলেন, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ, সাবেক এসআই আবদুল মালেক, এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগ কর্মী রনি ভূঁইয়া। রাষ্ট্রযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এসব ব্যক্তির প্রত্যক্ষ নির্দেশ ও অংশগ্রহণেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন সাত কর্মকর্তা। আদালত বলেন, তাদের নীরব সম্মতি ও নির্দেশনাহীনতা এই অপরাধ সংঘটনে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। একজনকে জীবিত ও পাঁচজনকে মৃত অবস্থায় প্রথমে একটি ভ্যানে এবং পরে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। এরপর ওই গাড়িতে আগুন ধরিয়ে ছয়জনকেই পুড়িয়ে হত্যা করা হয়, যা মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক জঘন্য অপরাধ।
এই ঘটনায় শহীদ হন সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন ও ওমর ফারুক, যারা আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীকী শহীদ।
আদালত মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধী আন্দোলন দমনে যে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, এটি তারই একটি নির্মম উদাহরণ। লাশ গুম ও পুড়িয়ে ফেলার মাধ্যমে অপরাধের আলামত ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল।
এই মামলায় মোট ১৬ জন আসামির মধ্যে আটজন বর্তমানে গ্রেপ্তার থাকলেও সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজন এখনো পলাতক। আদালত দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।
এই রায় শুধু একটি মামলার বিচার নয়; এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রের দায় স্বীকার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।



















