চার দশকের দুঃস্বপ্ন ভাঙার পথে ভবদহ: স্থায়ী সমাধানে সরকারের জোরালো উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
শনিবার কেশবপুর উপজেলার বুরুলি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী করেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত : ছবি সংগ্রহ
যশোরের ভবদহের জলাবদ্ধতা চার দশক ধরে চলা একটি প্রকট মানবসৃষ্ট সংকট, যা অপরিকল্পিত পোল্ডার নির্মাণ, স্লুইসগেটের অব্যবস্থাপনা এবং নদী দখলের ফলে সৃষ্ট। ভুল প্রকল্প ও অবৈজ্ঞানিক সেচ ব্যবস্থার কারণে ৩ লাখেরও বেশি মানুষ প্রতি বছর পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে। এর ফলে কৃষিজমি ও মাছের ঘের তলিয়ে হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
এবারে যশোরের ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘ চার দশকের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বহু বছরের ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ এ অঞ্চলের লাখো মানুষের প্রত্যাশা, এবার হয়তো মিলবে টেকসই মুক্তি।
শনিবার কেশবপুর উপজেলার বুরুলি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা কোনো সাময়িক সমস্যা নয়, এটি প্রায় চার দশক ধরে চলমান একটি জটিল সংকট। তাই এর স্থায়ী সমাধানে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার।
সকাল ১০টায় বুরুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জানান, অতীতে বিভিন্ন সরকার এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিলেও ধারাবাহিকতার অভাবে তা পূর্ণতা পায়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে গৃহীত পদক্ষেপগুলো যদি অব্যাহত থাকত, তবে আজকের পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল-নদী পুনঃখনন, জলপ্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং স্লুইস গেট সচল রাখার মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই নদী ও খাল থেকে অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি অতীতের উন্নয়ন উদ্যোগের উদাহরণ টেনে বলেন, খাল খনন ও পল্লী বিদ্যুতায়ন একসময় দেশের কৃষি ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আবারও কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খননকাজের সূচনা করেন, যা স্থানীয়দের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করে।
তিনি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ প্রকল্পে স্থানীয় তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে এটি একটি জনসম্পৃক্ত উন্নয়ন উদ্যোগে পরিণত হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্ভোগ পেরিয়ে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে এগোচ্ছে সরকার, এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয়দের মাঝে জোরালো হচ্ছে।


















