চলতি বছরের ৯ মাসে ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ২০০, হাসপাতালে ভর্তি ৪৭ হাজার ৮৩২ জন
- আপডেট সময় : ০৮:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫ ১৭০ বার পড়া হয়েছে
চলতি বছরের প্রথম ৯ মাস শেষে দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ জনে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুধবার প্রকাশিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজন রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃতদের একজন নারী ও অপরজন পুরুষ। দুজনই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের বয়স ১৬ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।
একই সময়ে নতুন করে ৪৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বছরের শুরু থেকে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৮৩২ জনে।
বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২ হাজার ৩৫৯ জন রোগী। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৮০৮ জন এবং ঢাকার বাইরে ভর্তি আছেন ১ হাজার ৫৫১ জন রোগী।
ডেঙ্গু সংক্রমণ ও মৃত্যুর দিক থেকে সেপ্টেম্বর মাস ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এ মাসে ১৫ হাজার ৮৬৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অক্টোবরের প্রথম দিনেই নতুন করে ৪৯০ জন ভর্তি এবং দুজনের মৃত্যুর তথ্য যোগ হয়েছে।
এর আগে জুলাই মাসে ১০ হাজার ৬৮৪ জন রোগী ভর্তি হন এবং মারা যান ৪১ জন। অগাস্টে ভর্তি ছিলেন ১০ হাজার ৪৯৬ জন এবং মারা গেছেন ৩৯ জন।
অন্যান্য মাসগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

জানুয়ারি: ১,১৬১ জন ভর্তি, মৃত্যু ১০, ফেব্রুয়ারি: ৩৭৪ জন ভর্তি, মৃত্যু ৩, মার্চ: ৩৩৬ জন ভর্তি, মৃত্যু নেই, এপ্রিল: ৭০১ জন ভর্তি, মৃত্যু ৭, মে: ১,৭৭৩ জন ভর্তি, মৃত্যু ৩, জুন: ৫,৯৫১ জন ভর্তি, মৃত্যু ১৯।
গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলনামূলক কম গুরুতর হলেও এখনো আশঙ্কাজনক।
২০২৪ সালে মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জন, ২০২৩ সালে মৃত্যু হয়েছিল ১,৭০৫ জনের (দেশে ডেঙ্গুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ), ২০২২ সালে মৃত্যু হয়েছিল ২৮১ জনের, ২০২১ সালে মৃত্যু হয়েছিল ১০৫ জন ও ২০১৯ সালে মৃত্যু হয়েছিল ১৭৯ জনের।
বিভাগভিত্তিক আক্রান্ত
গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৪৯০ জনের মধ্যে ঢাকা মহানগরির ১৪২ জন, ঢাকা বিভাগে ১০৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৮ জন, রংপুর বিভাগে ১৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৩৮ জন।
ডেঙ্গুতে প্রাণহানি গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম হলেও সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অক্টোবর মাস জুড়েই সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ ও সচেতনতা ছাড়া পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।



















