কারাগারেও পাপিয়ার মাস্তানি, অমানবিক নির্যাতনে রক্তাক্ত বন্দী আইনজীবী
- আপডেট সময় : ০৯:৫৫:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুলাই ২০২৩ ২১০ বার পড়া হয়েছে
রায়ের পযর্বেক্ষণে বিচারক বলেছিলেন, পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন রাজনীতিক ছিলেন না। তাদের বাসা থেকে ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়, যার কোনো বৈধতা থাকতে পারে না। এত টাকা থাকার কোনো যুক্তিও থাকতে পারে না
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
নথি চুরির একটি মামলায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী রুনা লায়লাকে কারাগারে আনা হলে তার কাছে থাকা ৭ হাজার ৪০০ টাকা ছিনিয়ে নিতে ১৯ জুন রুনার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় অস্ত্র মামলায় ২৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত শামীমা নূর পাপিয়া পিউ।
অভিযোগে জানা গিয়েছে, টাকা ছিনিয়ে নিতে রুনাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। এ নিয়ে কারাগারের ভেতরে সালিস বসে। সেখানেও ত্রিমুখী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বন্দী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তবে পাপিয়ার ভয়ে সাধারণ কয়েদিরা রুনা লায়লার ওপর অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদও করতে পারেননি।
এরপর পর উর্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশে সোমবার কাশিমপুর থেকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কারাগারের জেল সুপার মো. ওবায়দুর রহমান।

কে এই পাপিয়া
নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। সে সময় নানা অপকর্ম ছড়িয়ে পরে পাপিয়া-সুমন দম্পতিকে ঘিরে। সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের ছবিও প্রকাশ পায়। এক পর্যায়ে দলকে থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। অবৈধ অস্ত্র ও প্রচুর টাকা উদ্ধার করা হয় তাদের দখল থেকে।
দুর্নিতীসহ নানা অকর্মের অভিযোগ ছাড়াও অবৈধভাবে বিদেশি অস্ত্র, গুলি রাখার দায়ে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর পাপিয়া ও স্বামী সুমনকে অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় ২৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত।
সেদিনের রায়ের পযর্বেক্ষণে বিচারক বলেন, পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন রাজনীতিক ছিলেন না। তাদের বাসা থেকে ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়, যার কোনো বৈধতা থাকতে পারে না। এত টাকা থাকার কোনো যুক্তিও থাকতে পারে না।
এই দম্পতিকে নিয়ে বিচারক আরও বলেন, তারা তথাকথিত রাজনীতিবিদ। যে কোনো অন্যায় কাজে লাগানোর জন্য তারা তাদের ডাইনিং রুমের খাটের তোশকের তলায় একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন, ২০টি গুলি রেখেছিলেন। রায়ের পর এই দম্পতির তাৎক্ষণিক কোনো ভাবান্তর দেখা যায়নি।




















