ঢাকা ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশে ‘বিধর্মী সংসদ সদস্য থাকতে পারে না’ জামায়াতের জনসভা ঘিরে বিতর্ক তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা সিনিয়রে আনসার, জুনিয়রে বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বনানীতে কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান অনিশ্চয়তায় অমর একুশে বইমেলা, পহেলা ফেব্রুয়ারিতে একদিনের প্রতীকী আয়োজন দেশপ্রেমের নামে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করছে তারা: চরমোনাই পীর ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য: সড়কে  বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে ফরিদপুরে অবৈধ অস্ত্র কারখানায় সেনা অভিযান, একাধিক সরঞ্জাম উদ্ধার পশ্চিমবঙ্গের মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে গেল বাংলাদেশি জাহাজ, উদ্ধার ১২ জন অস্ট্রেলিয়ায় হাঙরের কামড়ে আহত কিশোরের মৃত্যু বাংলাদেশ ক্রিকেট ইস্যুতে মন্তব্যের পর ভারতে মুসলিম অভিনেতা কেআরকের গ্রেফতার, বিতর্ক তুঙ্গে

এনসিপির সমাবেশ ঘিরে রণক্ষেত্র নিহত ৩, গোপালগঞ্জে কারফিউ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৭:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫ ২০১ বার পড়া হয়েছে

এনসিপির সমাবেশ ঘিরে রণক্ষেত্র নিহত ৩, গোপালগঞ্জে কারফিউ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে হামলা–সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল ও পরিবার সূত্র এ কথা জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জে বুধবার রাত ৮টা থেকে পর দিন বৃহস্পতিবার বিকাল ৬টা পর্যন্ত ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়েছে। বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে গোপালগঞ্জে সভা শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির নেতারা। এসময় গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গুলি চালিয়েছে। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গাড়িতেও হামলা হয়। এরপর দলটির নেতারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে। এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্ক এলাকায় আয়োজিত এনসিপির সমাবেশ মঞ্চেও হামলা চালায় ছাত্রলীগ।

এনসিপির সমাবেশ ঘিরে রণক্ষেত্র নিহত ৩, গোপালগঞ্জে কারফিউ
এনসিপির সমাবেশ ঘিরে রণক্ষেত্র নিহত ৩, গোপালগঞ্জে কারফিউ

সমাবেশ মঞ্চে থাকা সাউন্ড বক্স, মাইক, চেয়ার ভাঙচুরসহ উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। পরে পৌর পার্ক এলাকা ত্যাগ করার কিছু সময় পর হামলার মুখে পড়ে এনসিপির গাড়িবহর। জাতীয় নাগরিক পার্টি তথা এনসিপির ‘মার্চ টু গোপালঞ্জ ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হবে তা আগেই আঁচ করা গিয়েছিলো। বুধবার ঢাকা থেকে এনসিপি’র গাড়ি গোপালঞ্জ শহরের প্রবেশের আগেই প্রতিবাদী গোপালগঞ্জ রুখে দাঁড়ায়। জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকে দফায় দফায় হামলা, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও গুলির শব্দে গোটা গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

হাতবোমা, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপের বিকট শব্দ আর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে আতঙ্কে শহরের অধিকাংশ এলাকায় দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষের চলাচলও সীমিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধরা জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেছেন, জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। থানা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসি, প্রশাসনের গাড়ি এবং একাধিক মোটরবাইক ভাংচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় হাতবোমা ও পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। বর্তমানে গোপালগঞ্জের থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি সবশেষ চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার বিকেল পৌনে ৩টা নাগাদ গোপালগঞ্জে সভা শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে।

এনসিপির সমাবেশ ঘিরে রণক্ষেত্র নিহত ৩, গোপালগঞ্জে কারফিউ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায় বলে জানা যায়। এসময় গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ-এনসিপির বেশ কয়েক নেতা-কর্মী আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। এনসিপির এই পদযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে মঙ্গলবার থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চলানো হয়। বুধবার সকালে এনসিপি নেতারা গাড়িবহর নিয়ে শহরে ঢোকার আগেই পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।

এসবের মধ্যে বুধবার বেলা দেড়টার দিকে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে এসে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায় বলে এনসিপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এনসিপির সমাবেশ ঘিরে রণক্ষেত্র নিহত ৩, গোপালগঞ্জে কারফিউ

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে হামলা–সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল ও পরিবার সূত্র এ কথা জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জে বুধবার রাত ৮টা থেকে পর দিন বৃহস্পতিবার বিকাল ৬টা পর্যন্ত ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়েছে। বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে গোপালগঞ্জে সভা শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির নেতারা। এসময় গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গুলি চালিয়েছে। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গাড়িতেও হামলা হয়। এরপর দলটির নেতারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে। এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্ক এলাকায় আয়োজিত এনসিপির সমাবেশ মঞ্চেও হামলা চালায় ছাত্রলীগ।

এনসিপির সমাবেশ ঘিরে রণক্ষেত্র নিহত ৩, গোপালগঞ্জে কারফিউ
এনসিপির সমাবেশ ঘিরে রণক্ষেত্র নিহত ৩, গোপালগঞ্জে কারফিউ

সমাবেশ মঞ্চে থাকা সাউন্ড বক্স, মাইক, চেয়ার ভাঙচুরসহ উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। পরে পৌর পার্ক এলাকা ত্যাগ করার কিছু সময় পর হামলার মুখে পড়ে এনসিপির গাড়িবহর। জাতীয় নাগরিক পার্টি তথা এনসিপির ‘মার্চ টু গোপালঞ্জ ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হবে তা আগেই আঁচ করা গিয়েছিলো। বুধবার ঢাকা থেকে এনসিপি’র গাড়ি গোপালঞ্জ শহরের প্রবেশের আগেই প্রতিবাদী গোপালগঞ্জ রুখে দাঁড়ায়। জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকে দফায় দফায় হামলা, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও গুলির শব্দে গোটা গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

হাতবোমা, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপের বিকট শব্দ আর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে আতঙ্কে শহরের অধিকাংশ এলাকায় দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষের চলাচলও সীমিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধরা জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেছেন, জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। থানা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসি, প্রশাসনের গাড়ি এবং একাধিক মোটরবাইক ভাংচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় হাতবোমা ও পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। বর্তমানে গোপালগঞ্জের থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি সবশেষ চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার বিকেল পৌনে ৩টা নাগাদ গোপালগঞ্জে সভা শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে।

এনসিপির সমাবেশ ঘিরে রণক্ষেত্র নিহত ৩, গোপালগঞ্জে কারফিউ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায় বলে জানা যায়। এসময় গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ-এনসিপির বেশ কয়েক নেতা-কর্মী আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। এনসিপির এই পদযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে মঙ্গলবার থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চলানো হয়। বুধবার সকালে এনসিপি নেতারা গাড়িবহর নিয়ে শহরে ঢোকার আগেই পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।

এসবের মধ্যে বুধবার বেলা দেড়টার দিকে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে এসে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায় বলে এনসিপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ।