এক হাসিনায় নয়, জাতীয় স্বার্থে এগোবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক
- আপডেট সময় : ০৬:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০৫ বার পড়া হয়েছে
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো একক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ের পর সরকার গঠনের প্রাক্কালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমরা যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের কথা বলতে হবে। যারা যুদ্ধের কথা বলে, তারা উন্মাদের মতো কথা বলে।
গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ফখরুল স্পষ্ট করেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করলেও তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাধা হবে না। তবে তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অভ্যুত্থান-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা আইন অনুযায়ী চলবে। শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক অনুরোধে দিল্লির সাড়া না দেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য, “দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে জটিল অনেক বিষয় রয়েছে, কিন্তু সে কারণে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বন্ধ রাখা উচিত নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রগুলো পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও একই বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে ফখরুল স্মরণ করেন, ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দিল্লি সফর করেছিলেন। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মোরারজি দেশাই। পরে ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান দিল্লিতে গিয়ে ইন্দিরা গান্ধী-র সঙ্গে বৈঠক করেন। “এটাই রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টিভঙ্গি, মন্তব্য করেন তিনি।
অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন, ফারাক্কা সংশ্লিষ্ট পানি প্রবাহ এবং সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান ফখরুল। তার মতে, এসব প্রশ্নে সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ। “আমাদের কথা বলতে হবে, আলোচনার টেবিলে বসতে হবে, বলেন তিনি।
বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রযুক্তি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে ভারতের সক্ষমতা বাংলাদেশের তরুণ জনশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণকে দক্ষ করে তুলতে পারলে উপসাগরীয় দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচিকে তিনি এমন একটি কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করেন, যার মাধ্যমে বাণিজ্য, ব্যবসা, ডিজিটাল অবকাঠামো ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করতে পারে।
একই সঙ্গে নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন ফখরুল। তার দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা ও মেগা প্রকল্পগুলোর ব্যয়-কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন জরুরি। “যেসব প্রকল্প বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে উপকারী, সেগুলো রাখা হবে; অপচয় হলে তা সংশোধন করা হবে,” বলেন তিনি।
রাজনৈতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব প্রতিশোধ ও সহিংসতার রাজনীতির বিরোধিতা করে সমঝোতাভিত্তিক রাষ্ট্রপরিচালনার পক্ষে অবস্থান জানান। তার মতে, টেকসই গণতন্ত্র ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি অপরিহার্য এবং সেই বাস্তবতার ভিত্তিতেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।

















