ঈদ আনন্দ আর মানবিকতার উজ্জ্বল উৎসব
- আপডেট সময় : ১০:৪৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
মেঘনা পারে অসচ্ছল কৃষক ও জেলেদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেন বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ফরাজী
এক মাসের সংযম, ত্যাগ আর আত্মশুদ্ধির সাধনা শেষে আসে খুশির ঈদ। সেই আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তোলে মানবিক উদ্যোগ, ভাগাভাগির চেতনা। শুক্রবার অপরাহ্নে মেঘনা নদীর পাড়ে এমনই এক হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্যের দেখা মেলে।
রমজানের শেষ সূর্য তখন ধীরে ধীরে অস্ত যাচ্ছিল, নদীর ঢেউয়ের শব্দে চারপাশ যেন এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছিল।
ঠিক সেই সময় কিছু মানুষ তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে আসে নদীর পাড়ে। তাদের মাঝখানে লম্বা গড়নের এক ব্যক্তি হাতে নতুন লুঙ্গির প্যাকেট। তাকে ঘিরেই বদলে যায় পরিবেশ।
মুখে হাসি, চোখে আনন্দের ঝিলিক। কণ্ঠে ভেসে ওঠে চিরচেনা গান, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ’। মুহূর্তেই মেঘনা পাড়ে নেমে আসে ঈদের আনন্দের ঢেউ।
এই আয়োজনের মাধ্যমে অনগ্রসর ও অসচ্ছল কৃষক ও জেলেদের মাঝে নতুন লুঙ্গি বিতরণ করেন বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ফরাজী। এই কর্মসূচির মূল উপকারভোগী ছিলেন নদী ও চরের জীবনের সঙ্গে লড়াই করে চলা জেলে ও কৃষকরা, যারা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেও ন্যূনতম চাহিদা পূরণে হিমশিম খান।

শাহাবুদ্দিন ফরাজী বলেন, এটি একটি ছোট উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি মনে করেন, কৃষক ও জেলেরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হলেও তারা সবচেয়ে অবহেলিত। তাদের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়।
ভোলার দ্বীপাঞ্চলে বসবাসরত মানুষের প্রধান ভরসা মেঘনার জল ও চরের জমি। প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে জীবনযাপন করা এসব মানুষের জন্য ঈদের এই সামান্য উপহারও বড় আনন্দ বয়ে আনে। এমন উদ্যোগই সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।


















