ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের প্রতি মানবিক সহমর্মিতা জানিয়ে পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন মার্কিন হামলার পরও খারগ দ্বীপ থেকে তেল রপ্তানি অব্যাহত: ইরান ডলার নয়, ইউয়ানে লেনদেন হলে খুলতে পারে হরমুজ প্রণালি আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা ৫০ হাজার কোটি টাকার পোলট্রি খাত ঝুঁকিতে, খামারিদের রক্ষায় ৬ দফা দাবি পেঁয়াজ-আলুর দামপতনে কৃষকের কান্না, `কৃষিপণ্য কমিশন গঠনের দাবি’ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ভোটের কালি শুকানোর আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু: প্রধানমন্ত্রী ফিরলেন কাতারে আটকে পড়া ৪৩০ বাংলাদেশি

ইসরায়েলের জন্য লুকিয়ে অস্ত্র এনেছে সৌদির জাহাজ?

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫ ২১৪ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েলের জন্য লুকিয়ে অস্ত্র এনেছে সৌদির জাহাজ?

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দখলদার ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র নিয়ে আসা সৌদি আরবের জাতীয় জাহাজ কোম্পানির একটি জাহাজ আটকে দিয়েছেন ইতালির জেনোয়া বন্দরের কর্মীরা।

গত ৮ আগস্ট বাহরি ইয়ানবু নামের সৌদি জাহাজটি জেনোয়া বন্দরে ভেড়ে।

জাহাজটির জেনোয়া থেকে অস্ত্র বোঝাইয়ের কথা ছিল। যেগুলো আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বন্দরকর্মীরা জানতে পারেন, ওই জাহাজে আগে থেকেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল। যেগুলো দখলদার ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হবে।

এরপর জাহাজটিতে অনেকটা জোরপূর্বক প্রবেশ করেন বন্দরের ৪০ কর্মী। তখন তারা ইসরায়েলের জন্য আনা অস্ত্রের খোঁজ পান। ইতালির জেনোয়াতে আসার আগে জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে গিয়েছিল। সেখান থেকেই এটি এসেছে।

জেনোয়ার অটোনোমাস কালেক্টিভ অব পোর্ট ওয়ার্কার্স অ্যান্ড ইউনিয়নের জোসে নিভোই বলেছেন, আমরা যুদ্ধের জন্য কাজ করি না। তিনি জানিয়েছেন, সৌদির জাহাজের এই অস্ত্র ‘চোরাচালান’ ধরা পড়ার পর অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে জেনোয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি স্থায়ী পর্যবেক্ষক দল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এরআগে ২০১৯ সালে জেনোয়া বন্দরের কর্মীরা একইভাবে অস্ত্রবাহী একটি জাহাজ আটকে দিয়েছিলেন। সৌদি আরবের জাতীয় জাহাজ কোম্পানি (বাহরি) ইসরায়েলে অস্ত্র পরিবহনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রতিবেদনগুলোকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সোমবার কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে বাহরি জানায়, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।

কোম্পানিটি ফিলিস্তিনি স্বার্থে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠিত নীতির পাশাপাশি সামুদ্রিক পরিবহন নিয়ন্ত্রণকারী সমস্ত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধানের প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার ওপর জোর দিয়েছে।

বাহরি স্পষ্ট করে বলেছে, তারা কখনও ইসরায়েলে কোনও পণ্য বা চালান পরিবহন করেনি এবং কোনওভাবেই এই ধরনের কোনও অভিযানে জড়িত হয়নি।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, তাদের সমস্ত কার্যক্রম ‘প্রযোজ্য বিধিবিধানের সম্পূর্ণ সম্মতি নিশ্চিত করার জন্য কঠোর তদারকি এবং স্পষ্ট পর্যালোচনা পদ্ধতির অধীনে হয়ে থাকে।

সৌদির জাহাজ কোম্পানিটি আরও জানায়, তারা এমন যেকোনও দাবির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত, যা তাদের সুনামের ক্ষতি করতে পারে বা তাদের নীতিগুলোকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় বর্বর গণহত্যা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। দখলদাররা গাজায় যেন বর্বরতা চালাতে আর কোনও অস্ত্র না পায় সেজন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বন্দর কর্মীরা তৎপর হয়েছেন।

গত ৪ জুন ফ্রান্সের ফোস-মার্সেইয়ের বন্দর কর্মীরা ইসরায়েলের জন্য বন্দরে আনা অস্ত্রের উপকরণ জাহাজে লোড করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ওই জাহাজ অস্ত্র উপকরণ বোঝাই না করেই ফিরে যায়। সূত্র: দ্য ক্রাডল, মিডল ইস্ট মনিটর

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইসরায়েলের জন্য লুকিয়ে অস্ত্র এনেছে সৌদির জাহাজ?

আপডেট সময় : ০৮:০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দখলদার ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র নিয়ে আসা সৌদি আরবের জাতীয় জাহাজ কোম্পানির একটি জাহাজ আটকে দিয়েছেন ইতালির জেনোয়া বন্দরের কর্মীরা।

গত ৮ আগস্ট বাহরি ইয়ানবু নামের সৌদি জাহাজটি জেনোয়া বন্দরে ভেড়ে।

জাহাজটির জেনোয়া থেকে অস্ত্র বোঝাইয়ের কথা ছিল। যেগুলো আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বন্দরকর্মীরা জানতে পারেন, ওই জাহাজে আগে থেকেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল। যেগুলো দখলদার ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হবে।

এরপর জাহাজটিতে অনেকটা জোরপূর্বক প্রবেশ করেন বন্দরের ৪০ কর্মী। তখন তারা ইসরায়েলের জন্য আনা অস্ত্রের খোঁজ পান। ইতালির জেনোয়াতে আসার আগে জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে গিয়েছিল। সেখান থেকেই এটি এসেছে।

জেনোয়ার অটোনোমাস কালেক্টিভ অব পোর্ট ওয়ার্কার্স অ্যান্ড ইউনিয়নের জোসে নিভোই বলেছেন, আমরা যুদ্ধের জন্য কাজ করি না। তিনি জানিয়েছেন, সৌদির জাহাজের এই অস্ত্র ‘চোরাচালান’ ধরা পড়ার পর অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে জেনোয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি স্থায়ী পর্যবেক্ষক দল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এরআগে ২০১৯ সালে জেনোয়া বন্দরের কর্মীরা একইভাবে অস্ত্রবাহী একটি জাহাজ আটকে দিয়েছিলেন। সৌদি আরবের জাতীয় জাহাজ কোম্পানি (বাহরি) ইসরায়েলে অস্ত্র পরিবহনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রতিবেদনগুলোকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সোমবার কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে বাহরি জানায়, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।

কোম্পানিটি ফিলিস্তিনি স্বার্থে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠিত নীতির পাশাপাশি সামুদ্রিক পরিবহন নিয়ন্ত্রণকারী সমস্ত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধানের প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার ওপর জোর দিয়েছে।

বাহরি স্পষ্ট করে বলেছে, তারা কখনও ইসরায়েলে কোনও পণ্য বা চালান পরিবহন করেনি এবং কোনওভাবেই এই ধরনের কোনও অভিযানে জড়িত হয়নি।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, তাদের সমস্ত কার্যক্রম ‘প্রযোজ্য বিধিবিধানের সম্পূর্ণ সম্মতি নিশ্চিত করার জন্য কঠোর তদারকি এবং স্পষ্ট পর্যালোচনা পদ্ধতির অধীনে হয়ে থাকে।

সৌদির জাহাজ কোম্পানিটি আরও জানায়, তারা এমন যেকোনও দাবির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত, যা তাদের সুনামের ক্ষতি করতে পারে বা তাদের নীতিগুলোকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় বর্বর গণহত্যা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। দখলদাররা গাজায় যেন বর্বরতা চালাতে আর কোনও অস্ত্র না পায় সেজন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বন্দর কর্মীরা তৎপর হয়েছেন।

গত ৪ জুন ফ্রান্সের ফোস-মার্সেইয়ের বন্দর কর্মীরা ইসরায়েলের জন্য বন্দরে আনা অস্ত্রের উপকরণ জাহাজে লোড করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ওই জাহাজ অস্ত্র উপকরণ বোঝাই না করেই ফিরে যায়। সূত্র: দ্য ক্রাডল, মিডল ইস্ট মনিটর