ইরানের আঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো কার্যত অকার্যকর
- আপডেট সময় : ০২:১৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা অন্তত এক ডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক একদল বিশেষজ্ঞের মতে, এসব ঘাঁটির বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে, এগুলো এখন উপকারের চেয়ে মার্কিন বাহিনীর জন্য উল্টো ঝুঁকি তৈরি করছে।
গত মাসে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে প্রথম জানানো হয়েছিল যে, ইরানের হামলার পর ঘাঁটিগুলো এখন প্রায় ‘বসবাসের অনুপযোগী’ হয়ে পড়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির এ ব্যাপকতার কথা স্বীকার করেনি।
ওয়াশিংটনের ‘আরব সেন্টার’-এর বার্ষিক সম্মেলনে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মার্ক লিঞ্চ বলেন, ‘গত এক মাস ধরে ইরান মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের অবকাঠামোগুলো অকেজো করে দিয়েছে। অথচ এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সঠিক চিত্র সামনে আসছে না।’
বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও ওমান—এই ছয়টি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে প্রবেশাধিকার পেন্টাগন ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি গত মাসে এসব দেশের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানে হামলার জন্য ব্যবহৃত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে সুরক্ষা দিতেই এ গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।
মার্ক লিঞ্চ আরও বলেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ৯ হাজার সেনার আবাসস্থল এই ঘাঁটিটি এখন এতটাই অরক্ষিত যে, সেখানে নৌবহরকে আবার ফিরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এ বিশেষজ্ঞের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ছিল, তা এখন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

















