ইউএই সংস্থাকে ইজারার বিরোধিতায় চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, বাণিজ্যে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৫:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
ইউএই সংস্থাকে ইজারার বিরোধিতায় চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, বাণিজ্যে বড় ধাক্কার আশঙ্কা: ছবি সংগ্রহ
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বৈশ্বিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এর ফলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গুরুতর অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে বন্দর ভবনের সামনে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে কর্মসূচির ঘোষণা দেন সংগঠনের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন। এর আগে শনিবার থেকে তিন দিন ধরে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতির পর মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি চলছিল। সেই কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, ঢাকায় বিডা কার্যালয়ে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা নেগোসিয়েশন কমিটির ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তিনি বলেন, কনটেইনারপ্রতি চার্জের আলোচনা থেকে সরে এখন রাজস্ব ভাগাভাগির প্রস্তাব আনা হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম বন্দর অল্প সময়ের মধ্যেই লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এটি একটি আত্মঘাতী অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত।

আরেক সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ঢাকায় বন্দর কর্মকর্তাদের কার্যত আটকে রেখে চুক্তিতে সই নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় আন্দোলন শিথিল করার সুযোগ নেই। কর্মবিরতির চতুর্থ দিনে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা মূল জেটিতে জাহাজ আনা-নেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে ছয়টি জাহাজ নির্ধারিত সময়ে ভেড়াতে পারেনি।
কেবল পতেঙ্গার আরএসজিটি টার্মিনাল ও দুটি বিশেষায়িত জেটিতে সীমিত পরিসরে তিনটি জাহাজ পরিচালিত হয়েছে। বন্দর সূত্র জানায়, ডক অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় পাইলট, টাগবোট ও সহায়ক নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রথমবারের মতো জাহাজ চলাচলও সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের রপ্তানি, সরবরাহ শৃঙ্খল ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
















