আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর, আনন্দ আর মানবিকতার এক অনন্য মিলনমেলা
- আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ছবি সংগ্রহ
সংযম শেষে খুশির সওগাত: মানবিকতার উজ্জ্বল উৎসব
অবশেষে এক মাসের সংযম, ত্যাগ আর আত্মশুদ্ধির সাধনা শেষে এলো খুশির ঈদ। শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে রুপালি চাঁদের দেখা মিলতেই যেন বদলে গেল চারপাশের আবহ ঘরে ঘরে আনন্দের ঢেউ, কণ্ঠে ভেসে উঠল সেই চিরচেনা গান, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ’।
আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর, আনন্দ আর মানবিকতার এক অনন্য মিলনমেলা।
জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। পরে তিনি খুতবাহ দেন। নামাজের আগেও বিশেষ বয়ান রাখেন। এ সময় তিনি মুসলিম উম্মাহর সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করা হয়।
সাধারণ মুসল্লির পাশাপাশি এই জামাতে অংশ নেন মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ হাজারও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।
রমজানজুড়ে মানুষ যে কষ্ট, সংযম আর ধৈর্যের অনুশীলন করেছে, ঈদ সেই সাধনারই পরিপূর্ণতা। ক্ষুধা-তৃষ্ণার অনুভব মানুষকে আরও বেশি করে শিখিয়েছে সহমর্মিতা-বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি।
ফিতরা আদায়ের মধ্য দিয়ে সমাজের সবার মুখে হাসি ফোটানোর যে সুন্দর বিধান, সেটিই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্যকে আরও গভীর করে তোলে।

কয়েক দিন আগেও বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন আর লঞ্চঘাটে ছিল মানুষের ঢল। ক্লান্তি, ভোগান্তি, সবকিছু ছাপিয়ে ছিল একটাই আকুলতা, প্রিয়জনের কাছে ফেরা।
সেই মানুষগুলো আজ নিজ নিজ শিকড়ে ফিরে পেয়েছে আপন ঘরের উষ্ণতা। মা-বাবার স্নেহ, ভাইবোনের হাসি, গ্রামের উঠোনের পরিচিত গন্ধ-সব মিলিয়ে যেন জীবনের সবচেয়ে নির্মল আনন্দ।
রাজধানী থেকে গ্রাম সবখানেই উৎসবের রঙ। নতুন পোশাক, হাতে মেহেদি, রান্নাঘরে সেমাইয়ের সুগন্ধ প্রতিটি ঘর যেন এক একটি আনন্দের গল্প।
ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময়, আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো, এসবেই পূর্ণতা পায় এই দিনটি।
আবার কেউ কেউ নীরবে কবরস্থানে গিয়ে প্রার্থনা করেন হারিয়ে যাওয়া আপনজনদের জন্য যেখানে আনন্দের মাঝেও থাকে এক টুকরো নীরব ভালোবাসা।
এই আনন্দের দিনে আমাদের মনে করিয়ে দেন কাজী নজরুল ইসলাম মানবিকতা আর দানের সৌন্দর্যই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য।
তাঁর কবিতার সেই আহ্বান আজও প্রাসঙ্গিক নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সত্যিকারের আনন্দ।

ঈদ শুধু উৎসব নয়, এটি এক প্রতিজ্ঞার দিন, ভালোবাসা, সাম্য আর সহমর্মিতায় ভরা একটি সমাজ গড়ার। সবার জীবনে এই ঈদ বয়ে আনুক শান্তি, সুখ আর মানবিকতার আলো। ঈদ মোবারক।
মেঘলা আকাশ আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিকে যেন কোনো বাধাই মনে হয়নি। পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই মানুষের ঢল নামে জাতীয় ঈদগাহ প্রাঙ্গণে।
আকাশে মেঘের আনাগোনা, মাঝেমধ্যে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, সবকিছুকে উপেক্ষা করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ছুটে এসেছেন নামাজ আদায়ের তাগিদে।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিতব্য প্রধান ঈদের জামাতকে ঘিরে ছিল অন্যরকম এক আবেগঘন পরিবেশ।

মানবিকতার এক অনন্য মিলনমেলা: ছিবি সংগ্রহ
জামাত শুরুর অনেক আগেই ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। কেউ ছাতা হাতে, কেউবা ভেজা কাপড়েই দাঁড়িয়ে, তবুও সবার চোখেমুখে ছিল অদ্ভুত এক প্রশান্তি ও আনন্দ।
ভোরের আলো ফুটতেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মুসল্লিরা এসে জড়ো হন এখানে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগ থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ঈদগাহে প্রবেশ করেন তারা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে করেছে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ।
প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি যেন প্রমাণ করে, ঈদের আনন্দ আর ধর্মীয় অনুভূতির কাছে কোনো বাধাই বড় নয়।
এক কাতারে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষের এই মিলনমেলা শুধু নামাজ আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য আর বিশ্বাসের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
নামাজ শেষে কোলাকুলি আর ‘ঈদ মোবারক’ শুভেচ্ছায় মুখর হয়ে উঠবে পুরো প্রাঙ্গণ, এমন প্রত্যাশায় ভিজে মাটির ওপর দাঁড়িয়েও হৃদয়ে জমেছে উষ্ণ আনন্দের রোদ।


















