জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ৭-১৩ এপ্রিল: জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি
- আপডেট সময় : ০৩:২১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল দেশব্যাপী ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬’ পালিত হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, ইলিশ সম্পদ রক্ষা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ইলিশের দাম ধরে রাখতে সরকার সমন্বিত ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। জাটকা ও প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ, নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরা নিষিদ্ধকরণ, অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা এবং মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এসব উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম।

সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে দেশে ইলিশ উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। তবে নদী ভরাট, দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত আহরণের চাপ এই সাফল্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার সকল অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ৯.৭৯ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে এবং জাতীয় জিডিপিতে এর অবদান প্রায় ১ শতাংশ। বিশ্বে উৎপাদিত ইলিশের ৮০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশে আহরিত হয়, যা দেশকে শীর্ষ স্থানে নিয়ে গেছে। এছাড়া ইলিশ একটি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।
দেশে প্রায় ৬ লাখ জেলে সরাসরি ইলিশ আহরণের সঙ্গে যুক্ত এবং ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ পরিবহন, বিপণন, জাল ও নৌকা তৈরি, প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইলিশ সংরক্ষণ শুধু একটি পরিবেশগত বিষয় নয়, এটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবন–জীবিকার সঙ্গেও জড়িত।

জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে দেশের ইলিশসমৃদ্ধ ২০টি জেলায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ৭ এপ্রিল চাঁদপুর সদরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর–নদী।
ইলিশ রক্ষায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ, প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা, পরিবহন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করা।
পাশাপাশি ৬টি ইলিশ অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, ৩,১৮৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা এবং জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

ইলিশের দাম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়ানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়লে বাজারে দাম স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে। এ লক্ষ্যে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে চাল, আটা, তেল, চিনি, ডাল ও আলু অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, অতীতে জেলেরা এত বড় সহায়তা পায়নি এবং সরকার ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকবে।
জাতীয় মাছ ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণই পারে এই মূল্যবান সম্পদকে টেকসইভাবে রক্ষা করতে।

















