ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতের হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, ৩ নবজাতকের মৃত্যু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদের দায়িত্ব বণ্টন ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকির জবাবে তেল রপ্তানি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের জবানবন্দি গ্রহণে গুরুতর ত্রুটি ১৬ বছর পর উচ্চ আদালতের পদক্ষেপ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মানুষের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক দৃঢ় করাই তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব : তথ্যমন্ত্রী নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুড়িগঙ্গায় বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ ঐতিহ্যের রঙে মুখর রাজধানী

সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া: চলে গেলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৭:১৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫ ৩০৩ বার পড়া হয়েছে

সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া: চলে গেলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে’ এই চিরন্তন সত্যকে মেনে সাহিত্যজগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও সমালোচক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম পাড়ি জমালেন অনন্তের পথে। শুক্রবার (১০ অক্টোবর ২০২৫) বিকেলে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

১৯৫১ সালের ১৮ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তাঁর পিতা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম ও মাতা রাবেয়া খাতুন। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সিলেটেই। ১৯৬৬ সালে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৬৮ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে ১৯৭১ সালে স্নাতক এবং ১৯৭২ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৯৮১ সালে কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ইয়েটসের কবিতায় ইমানুয়েল সুইডেনবার্গের দর্শনের প্রভাব।

সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া: চলে গেলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া: চলে গেলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

একজন প্রথিতযশা শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যচর্চায় নিজস্ব স্বাক্ষর রেখে গেছেন কথাসাহিত্যিক হিসেবে। ভাষার শৈল্পিকতা, কাহিনির বুনন ও বাস্তবতার সাথে কল্পনার সংমিশ্রণে তাঁর রচনাগুলো পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

তাঁর প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বেলা অবেলার গল্প (২০১২) এবং দিনরাত্রিগুলি’ (২০১৩)। প্রেম ও প্রার্থনার গল্প গ্রন্থের জন্য তিনি ১৪১১ বঙ্গাব্দে প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার এবং ২০০৬ সালে  কাগজ সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। কথাসাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১১ সালে কথাসাহিত্য কেন্দ্র পুরস্কার পেয়েছিলেন।

তাঁর গবেষণার পরিধি বিস্তৃত ছিল মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কাজী নজরুল ইসলাম এবং শামসুর রাহমানের সাহিত্য পর্যন্ত। একাধারে শিক্ষক, লেখক, সমালোচক ও চিন্তাবিদ সব ভূমিকাতেই তিনি ছিলেন এক আলোকিত মানুষ।

সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম চিরকাল বেঁচে থাকবেন তাঁর লেখায়, ভাবনায় ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায়। আজ বাংলা সাহিত্যের আকাশ থেকে হারাল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অন্তিম শ্রদ্ধা এই মহিমান্বিত কথাসাহিত্যিকের প্রতি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া: চলে গেলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৭:১৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে’ এই চিরন্তন সত্যকে মেনে সাহিত্যজগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও সমালোচক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম পাড়ি জমালেন অনন্তের পথে। শুক্রবার (১০ অক্টোবর ২০২৫) বিকেলে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

১৯৫১ সালের ১৮ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তাঁর পিতা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম ও মাতা রাবেয়া খাতুন। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সিলেটেই। ১৯৬৬ সালে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৬৮ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে ১৯৭১ সালে স্নাতক এবং ১৯৭২ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৯৮১ সালে কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ইয়েটসের কবিতায় ইমানুয়েল সুইডেনবার্গের দর্শনের প্রভাব।

সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া: চলে গেলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া: চলে গেলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

একজন প্রথিতযশা শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যচর্চায় নিজস্ব স্বাক্ষর রেখে গেছেন কথাসাহিত্যিক হিসেবে। ভাষার শৈল্পিকতা, কাহিনির বুনন ও বাস্তবতার সাথে কল্পনার সংমিশ্রণে তাঁর রচনাগুলো পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

তাঁর প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বেলা অবেলার গল্প (২০১২) এবং দিনরাত্রিগুলি’ (২০১৩)। প্রেম ও প্রার্থনার গল্প গ্রন্থের জন্য তিনি ১৪১১ বঙ্গাব্দে প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার এবং ২০০৬ সালে  কাগজ সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। কথাসাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১১ সালে কথাসাহিত্য কেন্দ্র পুরস্কার পেয়েছিলেন।

তাঁর গবেষণার পরিধি বিস্তৃত ছিল মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কাজী নজরুল ইসলাম এবং শামসুর রাহমানের সাহিত্য পর্যন্ত। একাধারে শিক্ষক, লেখক, সমালোচক ও চিন্তাবিদ সব ভূমিকাতেই তিনি ছিলেন এক আলোকিত মানুষ।

সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম চিরকাল বেঁচে থাকবেন তাঁর লেখায়, ভাবনায় ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায়। আজ বাংলা সাহিত্যের আকাশ থেকে হারাল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অন্তিম শ্রদ্ধা এই মহিমান্বিত কথাসাহিত্যিকের প্রতি।