ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের  শ্রদ্ধা

ভয়েস রিপোর্ট, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ ২১৮ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকাপঞ্চাশতম বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতি অবনত মস্তকে স্মরণ করছে তার অকুতোভয় সন্তানদের। শীতের তোয়াক্কা না করে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে কাতারে কাতারে মানুষ ছুটে আসেন রায়েরবাজার ও মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে রায়েরবাজার ও মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতি বেদি। মন্ত্রীপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে সামাজিক-সাংস্তকৃতিক সংগঠন সর্বস্তরের মানুষ প্রাণের টানে ছুটে আসেন। আবেগ তাড়িত হয়ে ছুটে অনেক মুক্তিযোদ্ধা। রায়ের বাজারে প্রতীকি বদ্ধভূমি ঘিরে দেখা যায় উৎসুখ জনতার ভীড়। দেশের প্রাচীন শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘর এই ব্যতিক্রমী আযোজক।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর। বাংলাদেশে বিজয় অর্জনের ঠিক দু’দিন বাকী। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী সমন্বয়ে বীর যোদ্ধারা দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে আসছে ঢাকা অভিমুখে। দেশের বিভিন্ন স্থান হানাদার মুক্ত। জয়বাংলা ধ্বনির সঙ্গে ওড়ানো হচ্ছে লালসবুজে খচিত পতাকা। বিজয়ের এই চূড়ান্ত মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যি কদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে চোখ বেঁধে নিয়ে তাদের ওপর চরম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে।

স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাযজ্ঞ সংগঠিত হয়। ঢাকার রায়েরবাজার ও মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গণকবরে তাদের মৃতদেহ মেলে। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর নিকট আত্মীয়রা মিরপুর ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে ছুটে আসে এবং স্বজনের মৃতদেহ সনাক্ত করেন।

সেদিন রায়েরবাজার বদ্ধভূমি থেকে একের পর এক মরদেহ তুলে দিয়েছিলেন রবিউল আলম। আজ তিনি বয়োবৃদ্ধ। ৫০টি বছর রবিউল কেঁদে চলেছেন একটি বট গাছ রক্ষার জন্য। রায়ের বাজারের এই বটগাছে ঝুলিয়ে সেদিন বুদ্ধিজীবীদের বেয়নট চার্জ করে এবং অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে কুখ্যাত পাকিস্তানি বাহিনী। রাতের নিঃস্তব্ধা ভেঙ্গে খান খান হয়ে যেতো বুদ্ধিজীবীদের আর্তচিৎকালে। ঘরে থেকে রবিউল তখন চোখের জলে বুক ভাসাতেন।

৭১ সালের গণহত্যা আন্তর্জাতিক তথা রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন সেক্টর কমান্ডার ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবিব। রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে প্রবেশ পথেই চোখে বদ্ধভূমি। চারিদি মানুষ ঘিরে আছে। এলোপাতাড়ি নারী-পুরুষে মরদেহ। একটু দূরে নির্যাতিতা এক নারী। যিনি বাকরুদ্ধ। এটি প্রতীকি বদ্ধভূমি।

শিশু-কিশোর সংগটন খেলাঘর এর আয়োজক। এর পাশে বুদ্ধিজীবীদের ছবির প্রদর্শনীও। আগামী প্রজন্মকে বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃসংশতা জানান দিতেই এই আয়োজন বলে জানালেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক প্রণয় সাহা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ৩১ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত সময়কালে যেসব বাঙালি সাহিত্যিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, রাজনীতিক, সমাজসেবী, সংস্কৃতিসেবী, চলচ্চিত্র, নাটক ও সংগীতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং এর ফলে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী কিংবা তাদের সহযোগীদের হাতে শহীদ কিংবা এ সময়ে চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন, তাঁরাই শহীদ বুদ্ধিজীবী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের  শ্রদ্ধা

আপডেট সময় : ১০:৩৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১

ঢাকাপঞ্চাশতম বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতি অবনত মস্তকে স্মরণ করছে তার অকুতোভয় সন্তানদের। শীতের তোয়াক্কা না করে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে কাতারে কাতারে মানুষ ছুটে আসেন রায়েরবাজার ও মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে রায়েরবাজার ও মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতি বেদি। মন্ত্রীপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে সামাজিক-সাংস্তকৃতিক সংগঠন সর্বস্তরের মানুষ প্রাণের টানে ছুটে আসেন। আবেগ তাড়িত হয়ে ছুটে অনেক মুক্তিযোদ্ধা। রায়ের বাজারে প্রতীকি বদ্ধভূমি ঘিরে দেখা যায় উৎসুখ জনতার ভীড়। দেশের প্রাচীন শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘর এই ব্যতিক্রমী আযোজক।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর। বাংলাদেশে বিজয় অর্জনের ঠিক দু’দিন বাকী। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী সমন্বয়ে বীর যোদ্ধারা দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে আসছে ঢাকা অভিমুখে। দেশের বিভিন্ন স্থান হানাদার মুক্ত। জয়বাংলা ধ্বনির সঙ্গে ওড়ানো হচ্ছে লালসবুজে খচিত পতাকা। বিজয়ের এই চূড়ান্ত মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যি কদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে চোখ বেঁধে নিয়ে তাদের ওপর চরম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে।

স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাযজ্ঞ সংগঠিত হয়। ঢাকার রায়েরবাজার ও মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গণকবরে তাদের মৃতদেহ মেলে। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর নিকট আত্মীয়রা মিরপুর ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে ছুটে আসে এবং স্বজনের মৃতদেহ সনাক্ত করেন।

সেদিন রায়েরবাজার বদ্ধভূমি থেকে একের পর এক মরদেহ তুলে দিয়েছিলেন রবিউল আলম। আজ তিনি বয়োবৃদ্ধ। ৫০টি বছর রবিউল কেঁদে চলেছেন একটি বট গাছ রক্ষার জন্য। রায়ের বাজারের এই বটগাছে ঝুলিয়ে সেদিন বুদ্ধিজীবীদের বেয়নট চার্জ করে এবং অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে কুখ্যাত পাকিস্তানি বাহিনী। রাতের নিঃস্তব্ধা ভেঙ্গে খান খান হয়ে যেতো বুদ্ধিজীবীদের আর্তচিৎকালে। ঘরে থেকে রবিউল তখন চোখের জলে বুক ভাসাতেন।

৭১ সালের গণহত্যা আন্তর্জাতিক তথা রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন সেক্টর কমান্ডার ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবিব। রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে প্রবেশ পথেই চোখে বদ্ধভূমি। চারিদি মানুষ ঘিরে আছে। এলোপাতাড়ি নারী-পুরুষে মরদেহ। একটু দূরে নির্যাতিতা এক নারী। যিনি বাকরুদ্ধ। এটি প্রতীকি বদ্ধভূমি।

শিশু-কিশোর সংগটন খেলাঘর এর আয়োজক। এর পাশে বুদ্ধিজীবীদের ছবির প্রদর্শনীও। আগামী প্রজন্মকে বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃসংশতা জানান দিতেই এই আয়োজন বলে জানালেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক প্রণয় সাহা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ৩১ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত সময়কালে যেসব বাঙালি সাহিত্যিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, রাজনীতিক, সমাজসেবী, সংস্কৃতিসেবী, চলচ্চিত্র, নাটক ও সংগীতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং এর ফলে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী কিংবা তাদের সহযোগীদের হাতে শহীদ কিংবা এ সময়ে চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন, তাঁরাই শহীদ বুদ্ধিজীবী।