ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত শার্শায় র‌্যাবের অভিযানে ২৯৭০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে-চীনা রাষ্ট্রদূত তৈরি পোশাকখাত এখন পোশাক খাত এখন আইসিইউতে: মোহাম্মদ হাতেম তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ব্যবসা মন্দা, আয় সংকোচন ও রাজস্ব ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি  নির্বাচন কমিশনের সামনে বিজিবি মোতায়েন, ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত মাদারীপুরে বাস অটোরিকশা সংঘর্ষ প্রাণ গেল ৬জনের বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার রমজান সামনে আগেই চড়া বাজার: দামে লাগাম টানতে কড়া নজরদাবি জরুরি

রাতের মহাকাশে মঙ্গল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ২১৫ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবনের সোঁদা মাটির গন্ধমাখা ছোটো মোল্লাখালি গ্রামে অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ উদ্যোগ বই মেলা : ছবি লেখক

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস, মালদা, পশ্চিমবঙ্গ
ফেব্রুয়ারী ভাষার মাস। আত্মপ্রকাশের মাস। ভাষাহীন ভাবে কে থাকতে পেরেছে কোনোদিন বা ভাষাহীন করে রাখতে পেরেছে পৃথিবীর কোন রাষ্ট্র ব্যবস্থাপকেরা জাতিকে? বিরাট প্রশ্ন! যেকথা দিয়ে শুরু করে অলিগলিতে চলেছে কথা, সেখান থেকে মূল রাস্তায় ফিরে আসা যাক। বাহান্ন’র ভাষা আন্দোলন ও সেই সাল থেকে ‘৭১এ একটি জাতিরাষ্ট্রের জন্ম ও স্বাধীকার অর্জনের পর আজ জাতীয়তাবোধ থেকে উৎপাদিত বা অর্জিত আন্তর্জাতিকতায় পৌঁছে দেখি, ফেব্রুয়ারীর ভাষা আন্দোলন আ-বিশ্বের মাতৃভাষা দিবসের পুজো হয়ে পূজিত হচ্ছে|

এই যে ভাষার জন্য, ভাষার কাছে নতজানু হওয়া, চাওয়া এবং চাওয়ার জন্য পুনরায় আরও একটি ভাষার নির্মাণ, যা নবায়ন, এখানেই আমরা বইমেলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করি। মুদ্রণ বিপ্লবের প্রায়-ই চতুর্থ স্তরে এসে ডেরা বেঁধেছে বইমেলা। অন্য কোনো দেশে কি হচ্ছে, সে প্রশ্নে না গিয়ে, ভারতবর্ষে ফেব্রুয়ারী মাসব্যাপী বইকে ঘিরে যে ব্যাপক মিলনমেলা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়, তাতে লেখক, প্রকাশক,মুদ্রণালয় কাগজ, ভেন্ডার, ঠেলাওয়ালা, রিক্সাচালক থেকে চা ওয়ালা প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু প্রত্যাশিত সফর যেমন চলে।

বই মেলায় লেখককে সম্মাননা

আবার এমনটাও কখনও হয়, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বরাদ্দকৃত অর্থের বইমেলা খাতে লগ্নির হিসেব নিকেশ বক্ররেখায় যেনো কোথায়, কোন অপাত্রে চলে যায়। তবে যা অপ্রমাণ্য, তা বলাটাও যেনো পাপ! আর যা সত্যি সত্যি প্রমাণিত হওয়ার দাবি করে, তা বিচারের বানী। তা নীরব। তা নিভৃতে কেঁদে চলে। এতক্ষণ ধরে ঘুরেফিরে আলোচনার পরিসরে বই বা ছাপার অক্ষরে জ্ঞান আসলে – ‘আমি’। এই আমি, সেই আমি, যার মর্মার্থ দাঁড়ায় অন্তরাত্মা নামক কথা। যাকে ছোঁয়া যায়না, উপলব্ধি করতে পারা যায়।

যা উপলব্ধির দরুনই ধীরে ধীরে আস্ত একটা এনসাইক্লোপিডিয়া হয়ে যায়। এমনই একটি বিশ্বকোষীয় বইমেলা সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের অধীনে ও কোস্টাল থানা অন্তর্ভুক্ত ছোটো মোল্লাখালি বইমেলা। ভারত বাংলাদেশ সহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সংখ্যা ছিলো পঁয়ত্রিশজন সাহিত্য শিল্প ও নাট্যকর্মী। আয়োজক সংস্থা হিসেবে আমন্ত্রণ পত্রে নাম ছিলো ছোটো মোল্লাখালি বেসরকারি বইমেলা কমিটির নাম।

একমাত্র বাহন এই জলযান

আমাদের যাত্রাপথে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে ক্যানিং লোকালে ক্যানিং পৌঁছে, ওখান থেকে অটো সার্ভিসে চুনাখালি ঘাট। এরপর বিদ্যাধরী নদী ও তার অসংখ্য শাখা নদী দিয়ে  লঞ্চে চেপে বড় মোল্লাখালি।এরপর সেখান থেকে মেঠোপথে ছোটো মোল্লাখালি। এবারে কথা হোলো, কি দেখলাম! যা দেখলাম, তা কি , যা দেখি এখন, তার বৈপরীত্যের দাবি রাখে? হ্যাঁ, একথার এককথায় উত্তর। কি দেখলাম? দেখলাম, নানা নামধারী ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই দ্বীপবাসীরা, যারা মেধার প্রমাণ দিয়ে শ্বাপদসঙ্কুল অঞ্চল থেকে আজ বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত, তাদেরই ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল, এই বেসরকারি বইমেলা।

১০ দিন ধরে চলা বইমেলা, কমিটির কাছে, তাই প্রাণের মেলা। উদ্দেশ্য একটাই! তা হোলো,নদীর মতো বয়ে চলুক প্রজন্মের জ্ঞানধারা। কথা ও আলোচনায় উঠে এলো তাই, দায় ও দায়িত্ব পালনের ব্রতের কথা। আরও যা ভালো লাগায় এবং ভাবায়, তা হোলো, সুন্দরবনের প্রজন্ম গভীর অরণ্যের ভেতরে থেকেও টেলিস্কোপে চোখ রেখে মহাকাশের গ্রহ ও গ্রহাণুপুঞ্জ দেখে। পরিশেষে একথাই বলি- ছোটো মোল্লাখালি বইমেলায় দেখা টেলিস্কোপ দিয়ে আজকের প্রজন্ম অন্ততপক্ষে রাতের মহাকাশে তাদের মঙ্গলকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে নিক।

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস, লেখক, সংবাদকর্মী ও সাংগঠক

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাতের মহাকাশে মঙ্গল

আপডেট সময় : ১০:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৩
শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস, মালদা, পশ্চিমবঙ্গ
ফেব্রুয়ারী ভাষার মাস। আত্মপ্রকাশের মাস। ভাষাহীন ভাবে কে থাকতে পেরেছে কোনোদিন বা ভাষাহীন করে রাখতে পেরেছে পৃথিবীর কোন রাষ্ট্র ব্যবস্থাপকেরা জাতিকে? বিরাট প্রশ্ন! যেকথা দিয়ে শুরু করে অলিগলিতে চলেছে কথা, সেখান থেকে মূল রাস্তায় ফিরে আসা যাক। বাহান্ন’র ভাষা আন্দোলন ও সেই সাল থেকে ‘৭১এ একটি জাতিরাষ্ট্রের জন্ম ও স্বাধীকার অর্জনের পর আজ জাতীয়তাবোধ থেকে উৎপাদিত বা অর্জিত আন্তর্জাতিকতায় পৌঁছে দেখি, ফেব্রুয়ারীর ভাষা আন্দোলন আ-বিশ্বের মাতৃভাষা দিবসের পুজো হয়ে পূজিত হচ্ছে|

এই যে ভাষার জন্য, ভাষার কাছে নতজানু হওয়া, চাওয়া এবং চাওয়ার জন্য পুনরায় আরও একটি ভাষার নির্মাণ, যা নবায়ন, এখানেই আমরা বইমেলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করি। মুদ্রণ বিপ্লবের প্রায়-ই চতুর্থ স্তরে এসে ডেরা বেঁধেছে বইমেলা। অন্য কোনো দেশে কি হচ্ছে, সে প্রশ্নে না গিয়ে, ভারতবর্ষে ফেব্রুয়ারী মাসব্যাপী বইকে ঘিরে যে ব্যাপক মিলনমেলা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়, তাতে লেখক, প্রকাশক,মুদ্রণালয় কাগজ, ভেন্ডার, ঠেলাওয়ালা, রিক্সাচালক থেকে চা ওয়ালা প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু প্রত্যাশিত সফর যেমন চলে।

বই মেলায় লেখককে সম্মাননা

আবার এমনটাও কখনও হয়, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বরাদ্দকৃত অর্থের বইমেলা খাতে লগ্নির হিসেব নিকেশ বক্ররেখায় যেনো কোথায়, কোন অপাত্রে চলে যায়। তবে যা অপ্রমাণ্য, তা বলাটাও যেনো পাপ! আর যা সত্যি সত্যি প্রমাণিত হওয়ার দাবি করে, তা বিচারের বানী। তা নীরব। তা নিভৃতে কেঁদে চলে। এতক্ষণ ধরে ঘুরেফিরে আলোচনার পরিসরে বই বা ছাপার অক্ষরে জ্ঞান আসলে – ‘আমি’। এই আমি, সেই আমি, যার মর্মার্থ দাঁড়ায় অন্তরাত্মা নামক কথা। যাকে ছোঁয়া যায়না, উপলব্ধি করতে পারা যায়।

যা উপলব্ধির দরুনই ধীরে ধীরে আস্ত একটা এনসাইক্লোপিডিয়া হয়ে যায়। এমনই একটি বিশ্বকোষীয় বইমেলা সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের অধীনে ও কোস্টাল থানা অন্তর্ভুক্ত ছোটো মোল্লাখালি বইমেলা। ভারত বাংলাদেশ সহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সংখ্যা ছিলো পঁয়ত্রিশজন সাহিত্য শিল্প ও নাট্যকর্মী। আয়োজক সংস্থা হিসেবে আমন্ত্রণ পত্রে নাম ছিলো ছোটো মোল্লাখালি বেসরকারি বইমেলা কমিটির নাম।

একমাত্র বাহন এই জলযান

আমাদের যাত্রাপথে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে ক্যানিং লোকালে ক্যানিং পৌঁছে, ওখান থেকে অটো সার্ভিসে চুনাখালি ঘাট। এরপর বিদ্যাধরী নদী ও তার অসংখ্য শাখা নদী দিয়ে  লঞ্চে চেপে বড় মোল্লাখালি।এরপর সেখান থেকে মেঠোপথে ছোটো মোল্লাখালি। এবারে কথা হোলো, কি দেখলাম! যা দেখলাম, তা কি , যা দেখি এখন, তার বৈপরীত্যের দাবি রাখে? হ্যাঁ, একথার এককথায় উত্তর। কি দেখলাম? দেখলাম, নানা নামধারী ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই দ্বীপবাসীরা, যারা মেধার প্রমাণ দিয়ে শ্বাপদসঙ্কুল অঞ্চল থেকে আজ বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত, তাদেরই ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল, এই বেসরকারি বইমেলা।

১০ দিন ধরে চলা বইমেলা, কমিটির কাছে, তাই প্রাণের মেলা। উদ্দেশ্য একটাই! তা হোলো,নদীর মতো বয়ে চলুক প্রজন্মের জ্ঞানধারা। কথা ও আলোচনায় উঠে এলো তাই, দায় ও দায়িত্ব পালনের ব্রতের কথা। আরও যা ভালো লাগায় এবং ভাবায়, তা হোলো, সুন্দরবনের প্রজন্ম গভীর অরণ্যের ভেতরে থেকেও টেলিস্কোপে চোখ রেখে মহাকাশের গ্রহ ও গ্রহাণুপুঞ্জ দেখে। পরিশেষে একথাই বলি- ছোটো মোল্লাখালি বইমেলায় দেখা টেলিস্কোপ দিয়ে আজকের প্রজন্ম অন্ততপক্ষে রাতের মহাকাশে তাদের মঙ্গলকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে নিক।

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস, লেখক, সংবাদকর্মী ও সাংগঠক