রাজনৈতিক পরিচয়ে সন্ত্রসী দম্পতির অপকর্ম, দোকান-অফিস দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০৯:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতি লিমিটেড-এর নির্বাচিত সভানেত্রী লিপিকা দাস গুপ্তা। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও নিউমার্কেটের তিনটি দোকান দখল করে ক্ষুদ্র তাঁতী ও সমবায়ীদের অধিকার হরণ করা হয়েছে।
রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-র সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক মকবুল হোসেন সর্দার এবং তার স্ত্রী, যুব মহিলা লীগের নেত্রী জান্নাত জাহান চামেলী ওরফে লুনা হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, মিরপুর রোড ও ধানমন্ডি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
লিপিকা দাস গুপ্তার অভিযোগ, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মতিঝিলের সমবায় ভবনে অবস্থিত সমিতির কার্যালয়ে প্রায় দুই শতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে হামলা, ভাঙচুর ও অর্থলুট করা হয়। তাকে মারধর করে কার্যালয় থেকে বের করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। একইভাবে ঢাকা গভঃ নিউমার্কেটের দোকান নং-২৬১, ২৬২ ও ২৬৩, যা ১৯৬৩ সালে বরাদ্দপ্রাপ্ত এবং যেখানে ক্ষুদ্র তাঁতীদের উৎপাদিত বস্ত্র প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থা ছিল, সেগুলো জোরপূর্বক দখল করে ভাড়া আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়।
১৯৫৪ সালে নিবন্ধিত এ সমবায় প্রতিষ্ঠানের ৮৮ শতাংশ মালিকানা সরকারের এবং বাকি ১২ শতাংশ ক্ষুদ্র সমবায়ীদের। অর্থাৎ এটি কেবল একটি কার্যালয় বা দোকান দখলের বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রান্তিক তাঁতী সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। ক্ষুদ্র তাঁতীরা তাদের উৎপাদিত বস্ত্র প্রদর্শন ও বিপণনের জন্য যে প্ল্যাটফর্মটি পেতেন, তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের জীবিকা আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মালিকানা ও ভাড়াটিয়া সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে নোটিশ দিলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত হননি। বরং পেশিশক্তির জোরে দখলদারি কায়েম রেখে সমবায় ও সরকারকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটি আইনের শাসনের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ এবং প্রশাসনের জন্যও এক বড় পরীক্ষা।
মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়ে বলতে হয়, রাজনৈতিক পরিচয় কোনোভাবেই অপরাধের ঢাল হতে পারে না। ক্ষমতার পালাবদলকে কেন্দ্র করে দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ, বিশেষত প্রান্তিক তাঁতী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। তাদের রক্ত-ঘামে গড়া জীবিকা কেড়ে নেওয়া নিছক অপরাধ নয়, এটি মানবিকতার পরিপন্থী নির্মমতা।
অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, দখলমুক্তকরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও ক্ষুদ্র সমবায়ীদের অধিকার রক্ষায় সরকারকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। মানবতার স্বার্থে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এখন সময়ের দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে সমিতির সদস্য তাজুল ইসলাম নিজের জীবনের করুণ বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার মামা শাহ আলম দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতি লিমিটেড-এর আওতাধীন একটি দোকানে নিয়মিতভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। সেই দোকানটি ছিল তাদের পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস।
তাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালে পারিবারিক সমঝোতার ভিত্তিতে তিনি মামার কাছ থেকে দোকানটি ভাড়া নেন এবং নিজেই ব্যবসা শুরু করেন। নতুন করে পুঁজি বিনিয়োগ করে দোকান সাজান, মালামাল তোলেন এবং ক্ষুদ্র তাঁতীদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বিএনপি নেতা মকবুল হোসেন সর্দার জোরপূর্বক দোকানটি দখল করে নেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ধরনের বৈধ নোটিশ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই পেশিশক্তির মাধ্যমে দোকানটি দখল করা হয়। এতে তিনি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েন। দোকানের মালামাল, বিনিয়োগকৃত অর্থ সবকিছু হারিয়ে এখন তিনি কার্যত নিঃস্ব। সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার সব শেষ। ব্যবসা নেই, পুঁজি নেই। পরিবার নিয়ে এখন পথে বসেছি।
তাজুল ইসলামের দাবি, শুধু তিনি নন, এ ধরনের দখলদারির কারণে আরও কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি অবিলম্বে দোকান পুনরুদ্ধার এবং তার ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।









