ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেরানিগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকান্ডে  ৫ জনের মৃত্যু হামের বিস্তার ৫৬ জেলায়, ২১ উপজেলা উচ্চ ঝুঁকিতে, মৃত্যু ২৭ মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রামে আসলো  ৩৪ হাজার টন ডিজেল ইরানের দাবি : দুটি যুদ্ধবিমান, তিনটি ড্রোন এবং দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অনাগ্রহ ইরানের, মার্কিন দাবির  গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তেহরানের প্রশ্ন ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খুঁজে পেতে মাঠে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি ইরানের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পাহারায় সাপ ও কুমির ব্যবহারের চিন্তা বিএসএফ’র জৈব সার : মাটির প্রাণ বাঁচাতে ও বিষমুক্ত ফসলের স্বপ্নে নিবেদিত প্রকৃতিবন্ধু উজ্জ্বল কুন্ডু বাজার দর: মাছ, মুরগি, সব্জির দামে আগুন, চাপে সাধারণ মানুষ

যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অনাগ্রহ ইরানের, মার্কিন দাবির  গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তেহরানের প্রশ্ন

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

আলোচনায় অনাগ্রহ ইরানের, মার্কিন দাবির  গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তেহরানের প্রশ্ন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অনীহা প্রকাশ করেছে ইরান, একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে তেহরান।

এতে করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য সংলাপ কার্যত ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ওই হামলার জেরে তিন দেশের মধ্যে সরাসরি ও পরোক্ষ সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পুরো পশ্চিম এশিয়াজুড়ে অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়।

এমন প্রেক্ষাপটে সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয় পাকিস্তান। ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে মুখোমুখি বসিয়ে যুদ্ধবিরতির পথ খোঁজার প্রস্তাব দেয় তারা।

প্রাথমিকভাবে দুই পক্ষই পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মেনে নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি শুরু করেছিল। শুধু পাকিস্তান নয়, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরও এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শর্ত একে অপরের কাছে পাঠায় এবং সম্ভাব্য বৈঠকের জন্য প্রতিনিধি দল গঠনের কথাও উঠে আসে।

তবে এই প্রক্রিয়া এগোনোর আগেই দেখা দেয় জটিলতা।  ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল -এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান মধ্যস্থতাকারী দেশগুলিকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি নয়। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যে শর্তগুলো দিয়েছে, তা তাদের জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং একতরফা।

সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামনে ১৫ দফা শর্ত তুলে ধরেছে। যদিও এসব শর্তের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক প্রভাব কমানো, সামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যতক্ষণ না তেহরান হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ ও পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এমন বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এটি কেবল রাজনৈতিক প্রচারণা। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা কোনো ধরনের চাপের মুখে আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এখনো চেষ্টা চালিয়ে গেলেও, ইরানের অনীহা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে অনড় অবস্থান কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অনাগ্রহ ইরানের, মার্কিন দাবির  গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তেহরানের প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১২:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অনীহা প্রকাশ করেছে ইরান, একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে তেহরান।

এতে করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য সংলাপ কার্যত ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ওই হামলার জেরে তিন দেশের মধ্যে সরাসরি ও পরোক্ষ সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পুরো পশ্চিম এশিয়াজুড়ে অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়।

এমন প্রেক্ষাপটে সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয় পাকিস্তান। ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে মুখোমুখি বসিয়ে যুদ্ধবিরতির পথ খোঁজার প্রস্তাব দেয় তারা।

প্রাথমিকভাবে দুই পক্ষই পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মেনে নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি শুরু করেছিল। শুধু পাকিস্তান নয়, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরও এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শর্ত একে অপরের কাছে পাঠায় এবং সম্ভাব্য বৈঠকের জন্য প্রতিনিধি দল গঠনের কথাও উঠে আসে।

তবে এই প্রক্রিয়া এগোনোর আগেই দেখা দেয় জটিলতা।  ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল -এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান মধ্যস্থতাকারী দেশগুলিকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি নয়। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যে শর্তগুলো দিয়েছে, তা তাদের জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং একতরফা।

সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামনে ১৫ দফা শর্ত তুলে ধরেছে। যদিও এসব শর্তের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক প্রভাব কমানো, সামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যতক্ষণ না তেহরান হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ ও পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এমন বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এটি কেবল রাজনৈতিক প্রচারণা। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা কোনো ধরনের চাপের মুখে আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এখনো চেষ্টা চালিয়ে গেলেও, ইরানের অনীহা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে অনড় অবস্থান কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।