ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করা রাষ্ট্রীয় সম্মান: একুশে পদকের ইতিহাস জুলাই গণঅভ্যুত্থানে লাশ পোড়ানোর নৃশংসতা: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ভাষা ও আবেগের মাসে বইয়ের উৎসব, ২০  ফেব্রুয়ারি শুরু অমর একুশে গ্রন্থমেলা নির্বাচনে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, তবে আইনের বাইরে নয়: সেনাসদর রমজানে সরকারী অফিস সময় নির্ধারণ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন, বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান ধন্যবাদ আসিফ নজরুলের ঝলক দেখাচ্ছে ইরানি ড্রোন, ভড়কে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী? এপস্টেইন ঝড়ে টালমাটাল ব্রিটেন, ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে কিয়ার স্টারমার একাত্তর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে আর চব্বিশ শেখায় কিভাবে স্বাধীনতা রক্ষার করতে হয় অনৈতিকতায় যাদের শুরু, তারা সৎ শাসন দেবে কীভাবে? ফরিদপুরে তারেক রহমান

ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করা রাষ্ট্রীয় সম্মান: একুশে পদকের ইতিহাস

আমিনুল হক ভূইয়া , ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

২০২৬ সালে একুশে পদকের জন্য যাদের নাম চূড়ান্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক শফিক রেহমান, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা রয়েছেন: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা

বাংলা ভাষা ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের ইতিহাসে একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু একটি দিন নয়, এটি সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও জাতীয় চেতনার প্রতীক। এই চেতনাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যেই প্রবর্তিত হয় একুশে পদক, যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মান।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এবং ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি দিতে ১৯৭৬ সালে তৎকালীন সরকার প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করে। স্বাধীন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই পদক একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

প্রথম বছরেই ভাষা আন্দোলনের শহীদদের পাশাপাশি সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের এ পদক দেওয়া হয়। শুরুতে পদকটি মূলত ভাষা আন্দোলন ও সাহিত্যকেন্দ্রিক থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিসর বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে সাহিত্য, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা, সংগীত, চারুকলা, নাট্যকলা, নৃত্য, চলচ্চিত্র, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, সমাজসেবা ও মুক্তিযুদ্ধসহ নানা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য একুশে পদক প্রদান করা হয়।

একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন ভাষা আন্দোলনের অগ্রণী নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, জাতীয় অধ্যাপক, বরেণ্য শিল্পী, লেখক, বিজ্ঞানী ও মানবিক চিন্তার পথিকৃৎ ব্যক্তিত্বরা। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়াত ব্যক্তিদেরও মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত একুশে পদক পেয়েছেন প্রায় ৫০০-এর বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর সাধারণত ১০ থেকে ২০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মান দেওয়া হয়। সময়ভেদে সংখ্যা কিছুটা কম-বেশি হলেও একুশে পদক বরাবরই গুণগত মান ও অবদানের গুরুত্বকে প্রাধান্য দিয়ে প্রদান করা হয়েছে।

২০২৬ সালে একুশে পদকের জন্য যাদের নাম চূড়ান্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক শফিক রেহমান, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা, সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু, স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা আরও বিশিষ্টজন। এই তালিকা প্রমাণ করে যে একুশে পদক কেবল অতীতের স্মারক নয়, বরং চলমান সৃজনশীলতা ও জাতীয় অবদানের স্বীকৃতিও বটে।

ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত পথচলা থেকে শুরু করে আজকের বহুমাত্রিক বাংলাদেশ-এই দীর্ঘ যাত্রায় একুশে পদক হয়ে উঠেছে বাঙালির ইতিহাস, আবেগ ও সম্মানের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করা রাষ্ট্রীয় সম্মান: একুশে পদকের ইতিহাস

আপডেট সময় : ০৬:০৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা

বাংলা ভাষা ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের ইতিহাসে একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু একটি দিন নয়, এটি সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও জাতীয় চেতনার প্রতীক। এই চেতনাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যেই প্রবর্তিত হয় একুশে পদক, যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মান।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এবং ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি দিতে ১৯৭৬ সালে তৎকালীন সরকার প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করে। স্বাধীন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই পদক একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

প্রথম বছরেই ভাষা আন্দোলনের শহীদদের পাশাপাশি সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের এ পদক দেওয়া হয়। শুরুতে পদকটি মূলত ভাষা আন্দোলন ও সাহিত্যকেন্দ্রিক থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিসর বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে সাহিত্য, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা, সংগীত, চারুকলা, নাট্যকলা, নৃত্য, চলচ্চিত্র, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, সমাজসেবা ও মুক্তিযুদ্ধসহ নানা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য একুশে পদক প্রদান করা হয়।

একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন ভাষা আন্দোলনের অগ্রণী নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, জাতীয় অধ্যাপক, বরেণ্য শিল্পী, লেখক, বিজ্ঞানী ও মানবিক চিন্তার পথিকৃৎ ব্যক্তিত্বরা। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়াত ব্যক্তিদেরও মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত একুশে পদক পেয়েছেন প্রায় ৫০০-এর বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর সাধারণত ১০ থেকে ২০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মান দেওয়া হয়। সময়ভেদে সংখ্যা কিছুটা কম-বেশি হলেও একুশে পদক বরাবরই গুণগত মান ও অবদানের গুরুত্বকে প্রাধান্য দিয়ে প্রদান করা হয়েছে।

২০২৬ সালে একুশে পদকের জন্য যাদের নাম চূড়ান্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক শফিক রেহমান, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা, সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু, স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা আরও বিশিষ্টজন। এই তালিকা প্রমাণ করে যে একুশে পদক কেবল অতীতের স্মারক নয়, বরং চলমান সৃজনশীলতা ও জাতীয় অবদানের স্বীকৃতিও বটে।

ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত পথচলা থেকে শুরু করে আজকের বহুমাত্রিক বাংলাদেশ-এই দীর্ঘ যাত্রায় একুশে পদক হয়ে উঠেছে বাঙালির ইতিহাস, আবেগ ও সম্মানের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।