‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’ গড়তে দেশবাসীর সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৭:০০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ সময় পর দেশের মাটিতে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন, এ যেন এক আবেগঘন মুহূর্ত। সেই আবেগের মধ্য দিয়েই ‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (ঈদের দিন) রাজধানীর ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিক, বিচারপতি, রাজনীতিবিদ ও সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম ঈদ উদযাপন। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঈদে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে আমরা রহমত চাই, যেন তিনি আমাদের সেই তৌফিক দেন, যাতে আমরা ধীরে ধীরে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আজকের এই পবিত্র দিনে আমি সবার কাছে দোয়া চাই। একই সঙ্গে অনুরোধ জানাই, আপনাদের সহযোগিতা থাকলে ইনশাআল্লাহ এই নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ গঠনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
এ সময় তিনি একাত্তরের শহীদ ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, পাশাপাশি সাম্প্রতিক আন্দোলনে শহীদ হওয়া গণতন্ত্রকামীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
ঈদের দিন দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবাই যেন ভালো থাকেন, সুস্থ থাকেন, এটাই আমার প্রার্থনা।
দেশের মাটিতে ঈদ উদযাপনের অনুভূতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বহু বছর পরে আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং দেশের মানুষের দোয়ায় আমি ও আমার পরিবার দেশের মাটিতে সবার সঙ্গে ঈদ পালন করতে পেরেছি। এজন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।
‘নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন’
দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপনের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
আমি একজন নাগরিক হিসেবে আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেভাবে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করতে পেরেছে, ভবিষ্যতের ঈদগুলো আরও আনন্দমুখর ও নির্বিঘ্ন হোক।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সব শ্রেণিপেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়েই আগামীর দিনগুলো আরও সুন্দর হবে।

কূটনীতিক থেকে সাধারণ মানুষ-সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়
জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় শেষে প্রধানমন্ত্রী যমুনায় যান। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
পরে প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, বিজিবি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
যমুনায় জনতার ঢল
দিনভর যমুনায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের আশায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ঢল নামে সেখানে। ভিড় সামাল দিতে নিরাপত্তা কর্মীদের বেশ হিমশিম খেতে হয়।
অতিথিদের জন্য ছিল বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থাও, যা ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
সব মিলিয়ে, এবারের ঈদ শুধু উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি হয়ে উঠেছে নতুন প্রত্যাশা, ঐক্য এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের প্রতীক।



















