পাকিস্তান বিশ্বের প্রধান সন্ত্রাস উৎপাদনকারী দেশ
- আপডেট সময় : ১০:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২১ ২৬৩ বার পড়া হয়েছে
ওয়েবিনারে বিশিষ্টজনেরা
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র উদ্যোগে ‘পাকিস্তান: আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক একটি দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র সভাপতি লেখক সাংবাদিক, চলচ্চিত্রনির্মাতা শাহরিয়ার কবির সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।
এসময় বক্তারা বলেন, পাকিস্তান হচ্ছে বিশ্বের প্রধান সন্ত্রাস উৎপাদনকারী, বিপণনকারী ও রপ্তানিকারী দেশ। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের জঙ্গীদের অর্থায়নের সময় ঢাকায় পাকিস্তানি
দূতাবাসের কর্মকর্তারা বমাল ধরা পড়েছেন। পাকিস্তানের জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাস রপ্তানির নীতি সারাবিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।
শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা তুলে ধরা হয়। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান করেন মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশিয় গণসম্মিলন-এর সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসৈনিক
ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি, যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত বেলুচ বুদ্ধিজীবী ড. নাসির দাস্তি, যুক্তরাষ্ট্রের আফগান ইন্টেলেকচুয়ালস গ্লোবাল কমিউনিটির সভাপতি আফগান লেখক শাহী সাদাত, যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ল্ড সিন্ধি কংগ্রেস-এর সাধারণ সম্পাদক
মানবাধিকার নেতা ড. লাকুমাল লুহানা, বেলুচ ভয়েস-এর সভাপতি সুইজারল্যান্ডে নির্বাসিত মানবাধিকার নেতা মুনীর মেঙ্গল, যুক্তরাজ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সাবেক প্রসিকিউটর নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেত্রী ব্যারিস্টার
ড. তুরিন আফরোজ, নির্মূল কমিটির সর্ব ইউরোপীয় শাখার সভাপতি সমাজকর্মী তরুণ কান্তি চৌধুরী ও ভারতের ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক প্রিয়জিৎ দেব সরকার।
শাহরিয়ার কবির বলেন, পাকিস্তান যে এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়নি, এর প্রধান কারণ দেশটির জন্য চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থসাহায্য রয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও সামরিক বাহিনী আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত অঞ্চলে
পপি চাষ থেকে হাজার হাজার কোটি ডলার আয় করছে। যা প্রধানত ব্যয় হচ্ছে সন্ত্রাস উৎপাদনের জন্য। এ জন্য বিশ্বব্যাপী পাকিস্তান ও সন্ত্রাস সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, খোদ পাকিস্তানেই তালেবানের ১০ হাজার সদস্যবিশিস্ট জঙ্গী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে, যারা দায়মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে আর্থিকভাবে সুবিধা পায়।
শক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট বারবার বলেছেন, সত্যিকার অর্থেই পাকিস্তান তালেবানের পালনকর্তা এবং উসকানিদাতা।
আরমা দত্ত বলেন, অবাক হয়ে ভাবি, কীভাবে পাকিস্তানের জনগণ গণহত্যার কথা মনে না করে তাদের স্বাধীনতার দিবস উদযাপন করে!
আফগান লেখক শাহী সাদাত বলেন, তালেবানসহ পাকিস্তানে বিভিন্ন জঙ্গীগোষ্ঠীকে মদদ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের অর্থের উৎস কোথায়? পশ্চিমা দেশগুলো কেন এ আর্থিক উৎস বন্ধ করছে না? এসব কারণে আফগানিস্তান বিশ্বব্যাপী জঙ্গীবাদের চারণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
ড. লাকুমাল লুহানা বলেন, বর্তমানে অকার্যকর রাষ্ট্র পাকিস্তানে অচলাবস্থা চলতে থাকলে এ অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোতে বিভিন্ন জঙ্গী হামলা ও অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকবে।
মুনীর মেঙ্গল বলেন, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে পাকিস্তানের জঙ্গীবাদ ও আফগানিস্তানে তালেবান নৃশংসতার চিত্র সারাবিশ্বে তুলে ধরে, তা নির্মূলের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সমর্থন আদায় করা।


























