পরিবার নিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৬:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বাবা–মায়ের কবর জিয়ারত করেন, যা মুসলিম সমাজে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধর্মীয় অনুশীলন।
ইসলামে কবর জিয়ারতকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়িত্ব স্মরণ এবং পরকালের জন্য প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রিয়জনের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে মৃতদের জন্য দোয়া করা, আল্লাহর কাছে তাদের মাগফিরাত কামনা করা এবং নিজের জন্যও শিক্ষা গ্রহণ করা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কবর জিয়ারত করতে উৎসাহ দিয়েছেন, যাতে মানুষ মৃত্যুর বাস্তবতা উপলব্ধি করে সৎপথে চলতে উদ্বুদ্ধ হয়।
শনিবার বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কবরের সামনে দাঁড়িয়ে পবিত্র সূরা ফাতেহা পাঠ করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাতে তিনি তার বাবা–মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরকালের শান্তি প্রার্থনা করেন।
এ ধরনের জিয়ারতে সাধারণত কবরের সামনে দাঁড়িয়ে কোরআন তিলাওয়াত, বিশেষ করে সূরা ফাতেহা, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করা হয়। এরপর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা হয়, যেন আল্লাহ তাদের গুনাহ মাফ করেন, কবরের আজাব থেকে রক্ষা করেন এবং জান্নাত নসিব করেন। তারেক রহমানও একই ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে গভীর শ্রদ্ধা ও বিনয়ের সঙ্গে দোয়া–মোনাজাত করেন।

তার সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিনী সৈয়দা শামিলা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পরিবারের সবাই একসঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন, যা পারিবারিক ঐক্য ও মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়।
পরবর্তীতে বিএনপির পক্ষ থেকেও দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান কবর দুটিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও দোয়া–মোনাজাতে অংশ নেন।
জিয়ারত শেষে জিয়া উদ্যান এলাকায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানান। নেতাকর্মীরাও দূর থেকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সবশেষে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গুলশানের বাসায় ফিরে যান।
এই কবর জিয়ারত শুধু পারিবারিক আবেগ নয়, বরং ধর্মীয় অনুশাসন পালনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে স্মরণ করা হয় প্রিয়জনদের, আর একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেয় জীবনের অনিত্যতা ও পরকালের প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা।



















