দিয়েগো গার্সিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৭:৪১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে ইরানের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথভাবে ব্যবহৃত এই ঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা শুধু সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, ভূরাজনৈতিক হিসাব–নিকাশেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলেছে এবং পশ্চিমা বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের লেকচারার মুহানাদ সেলুম মনে করেন, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ কৌশলকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তার মতে, ইরান যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, তার পাল্লা ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি–যা পূর্বে ধারণা করা সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।
এর আগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার। কিন্তু এই ঘটনার পর ধারণা করা হচ্ছে, তেহরানের হাতে এমন উন্নত অস্ত্র রয়েছে যা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।
মুহানাদ সেলুম আরও বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করা হলে তা সরাসরি লন্ডন –এ আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে। এর ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর নিরাপত্তা হিসাবও নতুন করে বিবেচনায় আসছে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ইরানের কাছে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) থাকতে পারে, যা তাদের মহাকাশ কর্মসূচির আড়ালে পরীক্ষিত হয়েছে, এবং যা সম্ভাব্যভাবে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।
এদিকে ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলাইজা ম্যাগনিয়ার মনে করেন, এই হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের ভৌগোলিক বিস্তার স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে যুদ্ধের তীব্রতা সীমিত রাখতে চেয়েছিল, তা এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরাসরি সামরিক জয়ের দিকে এগোচ্ছে না। বরং তারা যুদ্ধের ব্যয় ও ঝুঁকি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চায়। দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ইরান মূলত একটি বার্তা দিচ্ছে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ততই তা অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরান এই হামলায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে একটি মাঝ আকাশে প্রতিরোধ করা হয় এবং অন্যটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। ফলে হামলাটি সরাসরি সফল না হলেও, এর কৌশলগত গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। কারণ এটি দেখিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধের পরিসর এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।



















