ড. এস তাহের হত্যা, দুই আসামির ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু
- আপডেট সময় : ০৮:৩৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০২৩ ২৫৯ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের আহমেদ হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমের ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই আসামির ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার কারাগারা সূত্র বলেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৫ জুলাই রাতেই ফাঁসি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে জল্লাদ ও তার সহকারী কয়েদিদের মধ্যে থেকে চূড়ান্ত জল্লাদ বাছাই করার কাজ চলছে। এছাড়া কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কারাবিধি অনুযায়ী কোনো আসামির ফাঁসি কার্যকরের আগে কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসির জন্য নির্ধারিত মঞ্চ প্রস্তত করেন। সেখানে আসামির ওজনের তিনগুণ বস্তু তুলে ফাঁসি কার্যকরের ট্রায়াল দেওয়া হয়। আসামিদের তওবা পড়ানোর জন্য ইমাম নির্ধারণ ছাড়াও আসামিদের শেষ ইচ্ছে পূরণের ব্যবস্থা করতে হয়।
ফাঁসি কার্যকরের একদিন বা কয়েক ঘণ্টা আগে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করানোর বিধান রয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ এখন সেসব প্রক্রিয়া শুরু করেছে। স্বজনদের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের পরই ফাঁসির ক্ষণ গণনা শুরু হবে।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আবদুল জলিল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এখনও কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যেই যেকোনো দিন কারাবিধি অনুযায়ী দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হবে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার পর থেকে রাজশাহী কারাগারে বন্দি প্রধান আসামি মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের পক্ষ থেকে কোনো তৎপরতা না থাকলেও অপর আসামি জাহাঙ্গীরের ফাঁসি স্থগিত চেয়ে একের পর এক নানা কৌশল অবলম্বন করছে তার পরিবার।
অধ্যাপক ড. তাহের হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলমের রায় স্থগিতের জন্য তার পরিবার সর্বশেষ মার্কিন দূতাবাসেরও দ্বারস্থ হয়েছে। জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই মিজানুর রহমান গত ১৬ জুলাই মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে আবেদন ও মামলার নথিপত্র জমা দিয়েছেন।
মার্কিন দূতাবাসের কাছে তারা অভিযোগ করেছেন, এ মামলায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ড. মিয়া মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলম। ফাঁসির রায় স্থগিতে মার্কিন দূতাবাসের হস্তক্ষেপ চান তারা। তবে দূতাবাস থেকে এখনও কোনো সাড়া মেলেনি। এরপরও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মিজানুর রহমান আশা করছেন, দূতাবাস কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলবে।
২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক কোয়ার্টার থেকে নিখোঁজ হন অধ্যাপক ড. এস তাহের আহমেদ। বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম তার দেখাশোনা করতেন। পরদিন বাড়ির পেছনের ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করা হয় ড. এস তাহেরের মরদেহ।




















