জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় পেট্রোল পাম্প বন্ধের শঙ্কায় মালিকরা
- আপডেট সময় : ০৯:১০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট ও ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বর্তমান পরিস্থিতিকে এক ধরনের লুটতরাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
২২ মার্চ দিবাগত রাতের সংগঠনটি সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অয়েল কোম্পানিগুলো থেকে চাহিদার তুলনায় কম জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে পাম্পগুলোতে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এর আগে ৭ মার্চ সংগঠনের সভাপতি নাজমুল হক বলেছিলেন, মানুষের অতিরিক্ত ভিড় ও প্যানিকের কারণে তেল বিক্রি বাড়ছে, তবে একমাসের মধ্যে জ্বালানির কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।
সংগঠনের অভিযোগ, অনেক মোটরসাইকেল চালক দিনে একাধিকবার তেল নিচ্ছেন এবং পরে তা বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েও বারবার তেল নিতে আসছেন। ফলে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পাম্প এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

এছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহ চলাকালে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে তেল লুট করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন পাম্প মালিকরা।
পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, শুধু পাম্পেই নয়, ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। ট্যাংকার পথে লুট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অথচ জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বর্তমানে পাম্পগুলোতে কর্মরত শ্রমিকরাও চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন। দীর্ঘ সময় বিরামহীন কাজ এবং ক্রেতাদের চাপ সামলাতে গিয়ে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পেট্রোল পাম্প ও পরিবহন ব্যবস্থায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়া হলে, সারাদেশে পেট্রোল পাম্প বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারেন মালিকরা।



















