ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশে ‘বিধর্মী সংসদ সদস্য থাকতে পারে না’ জামায়াতের জনসভা ঘিরে বিতর্ক তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা সিনিয়রে আনসার, জুনিয়রে বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বনানীতে কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান অনিশ্চয়তায় অমর একুশে বইমেলা, পহেলা ফেব্রুয়ারিতে একদিনের প্রতীকী আয়োজন দেশপ্রেমের নামে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করছে তারা: চরমোনাই পীর ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য: সড়কে  বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে ফরিদপুরে অবৈধ অস্ত্র কারখানায় সেনা অভিযান, একাধিক সরঞ্জাম উদ্ধার পশ্চিমবঙ্গের মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে গেল বাংলাদেশি জাহাজ, উদ্ধার ১২ জন অস্ট্রেলিয়ায় হাঙরের কামড়ে আহত কিশোরের মৃত্যু বাংলাদেশ ক্রিকেট ইস্যুতে মন্তব্যের পর ভারতে মুসলিম অভিনেতা কেআরকের গ্রেফতার, বিতর্ক তুঙ্গে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৭:০৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫ ১৭০ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে। আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত করা হবে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের দলিল ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান মঞ্চে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেনইউনূস। জুলাই ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একটি দলিল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে

বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়েই এটি চূড়ান্ত করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে যুক্ত করা হয়েছে ২৮ দফা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা থেকে ২৪’ জুলাই আন্দোলন ঘোষণাপত্রে স্থান পেয়েছে। ঘোষণাপত্রের রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়ে দলগুলো সম্মত হয়েছে। যেটি পাঠ করা হলো শেখ হাসিনা সরকারের পতনের বছরপূর্তীতে। ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ছাড়াও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হন। রাতে জহাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন ড. ইউনূস।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে দেশটির রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে

২৪-এর জুলাইয়ে কোটা বিরোধী আন্দোলনে চাঙ্গা হয়ে ওঠেছিলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার এই আন্দোলন শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সর্বাত্মাক আন্দোলনে পরিণত হয় এবং গত বছরের ৫ আগস্টা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চব্বিশের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় নামে মানবস্রোত। গণভবন, সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখলে নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে ছাত্র-জনতা। চব্বিশের ৮ আগস্ট নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে নিযুক্ত করা হয়।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের ইচ্ছেয় প্রধান উপদেষ্টার পদে আসতে সম্মত হন বলে ভাষণে বলেছিলেন ড. ইউনূস। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার বিদায়ের বছরপূর্তীতে ৫ আগস্ট মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ লাগোয়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বহুল আলোচিত জুলাই ঘোষণাপত্র জাতির উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করেন ড. ইউনূস।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে

দেশজুড়ে দিবসটি পালন হচ্ছে। এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিওবার্তা দেন ইউনূস। তাতে বলা হয়, আজ আমরা পুরো জাতি একসঙ্গে স্মরণ করছি এক এমন দিনের কথা, যা এদেশের ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছে। ৫ আগস্ট শুধু একটি বিশেষ দিবস নয়, এটি একটি প্রতিজ্ঞা, গণজাগরণের উপাখ্যান এবং ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন।

তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এদেশের জনগণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। লাখো প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরও এ দেশের মানুষ সুবিচার ও গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছে, বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়, ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে

আপডেট সময় : ০৭:০৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে। আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত করা হবে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের দলিল ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান মঞ্চে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেনইউনূস। জুলাই ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একটি দলিল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে

বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়েই এটি চূড়ান্ত করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে যুক্ত করা হয়েছে ২৮ দফা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা থেকে ২৪’ জুলাই আন্দোলন ঘোষণাপত্রে স্থান পেয়েছে। ঘোষণাপত্রের রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়ে দলগুলো সম্মত হয়েছে। যেটি পাঠ করা হলো শেখ হাসিনা সরকারের পতনের বছরপূর্তীতে। ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ছাড়াও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হন। রাতে জহাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন ড. ইউনূস।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে দেশটির রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে

২৪-এর জুলাইয়ে কোটা বিরোধী আন্দোলনে চাঙ্গা হয়ে ওঠেছিলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার এই আন্দোলন শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সর্বাত্মাক আন্দোলনে পরিণত হয় এবং গত বছরের ৫ আগস্টা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চব্বিশের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় নামে মানবস্রোত। গণভবন, সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখলে নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে ছাত্র-জনতা। চব্বিশের ৮ আগস্ট নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে নিযুক্ত করা হয়।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের ইচ্ছেয় প্রধান উপদেষ্টার পদে আসতে সম্মত হন বলে ভাষণে বলেছিলেন ড. ইউনূস। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার বিদায়ের বছরপূর্তীতে ৫ আগস্ট মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ লাগোয়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বহুল আলোচিত জুলাই ঘোষণাপত্র জাতির উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করেন ড. ইউনূস।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে

দেশজুড়ে দিবসটি পালন হচ্ছে। এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিওবার্তা দেন ইউনূস। তাতে বলা হয়, আজ আমরা পুরো জাতি একসঙ্গে স্মরণ করছি এক এমন দিনের কথা, যা এদেশের ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছে। ৫ আগস্ট শুধু একটি বিশেষ দিবস নয়, এটি একটি প্রতিজ্ঞা, গণজাগরণের উপাখ্যান এবং ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন।

তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এদেশের জনগণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। লাখো প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরও এ দেশের মানুষ সুবিচার ও গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছে, বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়, ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।