চীন সফরে তালেবানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল
- আপডেট সময় : ০১:০৪:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১ ২১৬ বার পড়া হয়েছে
ছবি, সংগৃহীত
আফগানিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল দু’দিনের সফরে চীনে গিয়েছে। সেখানে শান্তি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেছে দলটি। তালেবানের মুখপাত্র মুহাম্মদ নাইম বুধবার বৈঠকের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণেই তালেবান চীন সফর করেছে বলে জানান তিনি। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তালেবান মধ্যস্থতাকারী ও এর উপনেতা মোল্লা বারাদার আখুন্দ। বেইজিংয়ের একজন
সরকারি মুখপাত্রও চীনা বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে তালেবান প্রতিনিধি দলের দেখা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর রয়টার্স ও এএফপির।
আফগানিস্তান-চীন ৭৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। বেইজিংয়ের সঙ্গে তালেবানের বৈঠকে এই সীমান্তের প্রসঙ্গ বারবার উঠে এসেছে। মুহাম্মদ নাইম জানান, তালেবান চীনকে আশ্বস্ত করেছে
যে, তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এর বদলে বেইজিং আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডে নাক না গলানোর নিশ্চয়তা দিয়েছে।
তবে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থা, শান্তি প্রক্রিয়া এবং দুই দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি
ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিদেশমন্ত্রী ছাড়াও প্রতিনিধি দলটি আফগানিস্তানবিষয়ক চীনের বিশেষ দূতের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
এদিকে চীনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আফগান সীমান্তে চীনের সঙ্গে সরাসরি কোনো সড়ক যোগাযোগ না থাকলেও বেইজিংয়ের ভয় জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর জঙ্গিরা এই সীমান্ত ব্যবহার করে নাশকতামূলক কাজ করতে পারে। এ ব্যাপারে
একটি কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতেই তালেবানের প্রতিনিধি দলকে বেইজিংয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
আফগানিস্তানে বর্তমানে তালেবান বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। একের পর এক হামলা চালিয়ে দেশটির অধিকাংশ জেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচ্ছে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি। এমন পরিস্থিতিতে চীনে এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তালেবানের অবস্থান পোক্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবশ্য শুধু চীনই নয়, নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে নানা পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তালেবান।
ইতোমধ্যে কাতারে নিজেদের রাজনৈতিক কার্যালয় খুলেছে গোষ্ঠীটি। আফগানিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে সেখানে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। এ ছাড়া চলতি মাসেই নিরপেক্ষ দেশ ইরানে আফগান সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবে তালেবান।
সেনা প্রত্যাহারের শেষ পর্যায়ে এসে আফগান সেনাবাহিনীর কাছে সাতটি সামরিক স্থাপনা হস্তান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে আফগানিস্তানে দুই দশক ধরে চলা সামরিক
অভিযান শেষ করতে যাচ্ছে দেশটি। আগামী ৩১ আগস্ট আফগানিস্তান থেকে সেনাবাহিনী ও যুদ্ধ সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এই অভিযানের ইতি টানা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে সাতটি সামরিক স্থাপনা হস্তান্তর করেছে। এর আগে
সি-১৭ পরিবহন উড়োজাহাজে করে নানা সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত নেওয়া হয়েছে। এই কাজে সি-১৭ উড়োজাহাজ আফগানিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র আসা-যাওয়া করেছে ৯৮৪ বার। বাকি থাকা ১৭
হাজার ৭৪টি সরঞ্জাম ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
























