ঢাকা ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেরানিগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকান্ডে  ৫ জনের মৃত্যু হামের বিস্তার ৫৬ জেলায়, ২১ উপজেলা উচ্চ ঝুঁকিতে, মৃত্যু ২৭ মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রামে আসলো  ৩৪ হাজার টন ডিজেল ইরানের দাবি : দুটি যুদ্ধবিমান, তিনটি ড্রোন এবং দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অনাগ্রহ ইরানের, মার্কিন দাবির  গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তেহরানের প্রশ্ন ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খুঁজে পেতে মাঠে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি ইরানের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পাহারায় সাপ ও কুমির ব্যবহারের চিন্তা বিএসএফ’র জৈব সার : মাটির প্রাণ বাঁচাতে ও বিষমুক্ত ফসলের স্বপ্নে নিবেদিত প্রকৃতিবন্ধু উজ্জ্বল কুন্ডু বাজার দর: মাছ, মুরগি, সব্জির দামে আগুন, চাপে সাধারণ মানুষ

তদন্তে নতুন মোড়: গুমের পর ধলেশ্বরীতে ফেলা হয় ইলিয়াস আলীর মরদেহ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনা ঘিরে নতুন করে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের গ্রেপ্তারের পর এই আলোচিত ঘটনার তদন্তে যেন নতুন মোড় নিয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও, ঘটনার নেপথ্য কাহিনী, পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

গোয়েন্দাদের কাছে তিনি দাবি করেন, ইলিয়াস আলীকে গুমের সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া হয়নি, বরং আগেই এর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। টিপাইমুখ বাঁধ এবং একটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরুদ্ধে সরব অবস্থান নেওয়ায় তিনি সরকারের অসন্তোষের মুখে পড়েন। আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণেই তাকে ‘সরিয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, পুরো অপারেশনটি পরিচালনা করে র‍্যাব-১, আর এতে সহযোগিতা করে ডিজিএফআইয়ের একটি অংশ। এই গুম অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। পরিকল্পনা, নজরদারি (রেকি) এবং বাস্তবায়ন সব কিছুই ছিল সুপরিকল্পিত।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ১৭ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যেই কোনো এক রাতে তাকে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার পরদিন, ২১ এপ্রিল, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার সন্ধান চান। তবে এরপরও রহস্যের কোনো সমাধান হয়নি, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নগুলো আরও গভীর হয়েছে।

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এই গুম রহস্য ঘিরে অনিশ্চয়তা আর জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। কেউ বিশ্বাস করতেন তিনি আর বেঁচে নেই, আবার কেউ আশায় ছিলেন, একদিন তিনি ফিরে আসবেন। কিন্তু সময়ের সাথে সেই আশাও ম্লান হয়ে গেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন গোপন বন্দিশালা থেকে অন্য গুম হওয়া ব্যক্তিরা ফিরে এলেও ইলিয়াস আলীর আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে অপহরণের রাতের বিস্তারিত চিত্র। সেদিন রাত ১১টার দিকে একটি বৈঠক শেষে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন ইলিয়াস আলী। শুরু থেকেই তাকে অনুসরণ করছিল একটি টিম। মহাখালী থেকে বনানী পৌঁছানোর পর তার গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে থামানো হয়। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই তাকে ও তার গাড়িচালককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, যা ছিল পুরো পরিকল্পনার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন।

বর্তমানে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে র‍্যাব ও ডিজিএফআইয়ের একাধিক সদস্যকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কেউ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন, আবার কেউ দেশ ছেড়েছেন বা আত্মগোপনে আছেন। তদন্ত এখনো চলছে, আর দেশজুড়ে আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে এক পুরনো প্রশ্ন ইলিয়াস আলীর প্রকৃত পরিণতি কী? তথ্যসূত্র মানবজমিন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তদন্তে নতুন মোড়: গুমের পর ধলেশ্বরীতে ফেলা হয় ইলিয়াস আলীর মরদেহ

আপডেট সময় : ১১:৫১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনা ঘিরে নতুন করে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের গ্রেপ্তারের পর এই আলোচিত ঘটনার তদন্তে যেন নতুন মোড় নিয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও, ঘটনার নেপথ্য কাহিনী, পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

গোয়েন্দাদের কাছে তিনি দাবি করেন, ইলিয়াস আলীকে গুমের সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া হয়নি, বরং আগেই এর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। টিপাইমুখ বাঁধ এবং একটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরুদ্ধে সরব অবস্থান নেওয়ায় তিনি সরকারের অসন্তোষের মুখে পড়েন। আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণেই তাকে ‘সরিয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, পুরো অপারেশনটি পরিচালনা করে র‍্যাব-১, আর এতে সহযোগিতা করে ডিজিএফআইয়ের একটি অংশ। এই গুম অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। পরিকল্পনা, নজরদারি (রেকি) এবং বাস্তবায়ন সব কিছুই ছিল সুপরিকল্পিত।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ১৭ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যেই কোনো এক রাতে তাকে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার পরদিন, ২১ এপ্রিল, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার সন্ধান চান। তবে এরপরও রহস্যের কোনো সমাধান হয়নি, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নগুলো আরও গভীর হয়েছে।

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এই গুম রহস্য ঘিরে অনিশ্চয়তা আর জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। কেউ বিশ্বাস করতেন তিনি আর বেঁচে নেই, আবার কেউ আশায় ছিলেন, একদিন তিনি ফিরে আসবেন। কিন্তু সময়ের সাথে সেই আশাও ম্লান হয়ে গেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন গোপন বন্দিশালা থেকে অন্য গুম হওয়া ব্যক্তিরা ফিরে এলেও ইলিয়াস আলীর আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে অপহরণের রাতের বিস্তারিত চিত্র। সেদিন রাত ১১টার দিকে একটি বৈঠক শেষে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন ইলিয়াস আলী। শুরু থেকেই তাকে অনুসরণ করছিল একটি টিম। মহাখালী থেকে বনানী পৌঁছানোর পর তার গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে থামানো হয়। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই তাকে ও তার গাড়িচালককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, যা ছিল পুরো পরিকল্পনার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন।

বর্তমানে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে র‍্যাব ও ডিজিএফআইয়ের একাধিক সদস্যকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কেউ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন, আবার কেউ দেশ ছেড়েছেন বা আত্মগোপনে আছেন। তদন্ত এখনো চলছে, আর দেশজুড়ে আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে এক পুরনো প্রশ্ন ইলিয়াস আলীর প্রকৃত পরিণতি কী? তথ্যসূত্র মানবজমিন