গাজামুখী সুমুদ ফ্লোটিলাকে বাধা, গ্রেটা থুনবার্গসহ অনেককে আটক
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫ ৬৫ বার পড়া হয়েছে
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার একটি নৌযান ইতোমধ্যেই গাজার জলসীমায় প্রবেশ করেছে। কাছাকাছি রয়েছে আরও ২৩টি নৌযান।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী, মিকেনো নামের একটি নৌযান বর্তমানে গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় অবস্থান করছে। তবে ইসরায়েলি বাহিনী সেটি আটক করেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এর আগে জানানো হয়েছিল, ইসরায়েলি নৌবাহিনীর বাধার পরও অন্তত ২৬টি নৌযান গাজার উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৪টি নৌযান এখন গাজার দিকে এগিয়ে চলেছে। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি গাজার জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলি কমান্ডোরা অব্যাহতভাবে নৌযানগুলো আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে বিবিসি জানায়, গাজাবাসীর জন্য ত্রাণসামগ্রী বহনকারী নৌকার বহরকে আটক করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। সুইডিশ জলবায়ু অ্যাকটিভিস্ট গ্রেটা থুনবার্গসহ জাহাজে থাকা কর্মীদেরও আটক করে ইসরায়েলের একটি বন্দরে নিয়ে গেছে তারা।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা (জিএসএফ)-এর অংশ হিসেবে থাকা বেশ কয়েকটি জাহাজকে “নিরাপদে থামানো হয়েছে” এবং বহরে থাকা জাহাজগুলোকে ইসরায়েলি বন্দরে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়েছে যে জাহাজগুলো “একটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি” আসার কারণে তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বলে নৌবাহিনী।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে, জিএসএফ জানায় যে তাদের ৩০টি নৌকা এখনো গাজার দিকে শক্তিশালীভাবে যাত্রা করছে এবং নৌকাগুলো ওই সময় তাদের নির্ধারিত গন্তব্য থেকে ৪৬ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।
তারা ইসরায়েলের এই বাধাদানকে ‘অবৈধ’ ও ‘প্রতিরক্ষামূলক কাজ নয়, বরং হতাশাজনক নির্লজ্জ কাজ বলে বর্ণনা করেছে।
দলটি অভিযোগ করেছে যে ফ্লোটিলার মধ্যে থাকা একটি জাহাজকে “ইচ্ছাকৃতভাবে সমুদ্রে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে” এবং আরও কয়েকটি নৌকার দিকে জলকামান ব্যবহার করে আঘাত করা হয়েছে।
এটি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে দখলদাররা গাজাকে ক্ষুধার্ত এবং বিচ্ছিন্ন রাখতে কতটা চরম পদক্ষেপ নেবে, জিএসএফ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছে। তারা একটি শান্তিপূর্ণ বেসামরিক মিশনে আক্রমণ করবে, কারণ মানবিক সহায়তার সাফল্যের অর্থ তাদের অবরোধের ব্যর্থতা।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই নৌবহরকে জানানো হয়েছে যে এটি গাজার পাশের জলসীমায় “একটি বৈধ নৌ অবরোধ লঙ্ঘন করছে”। যদিও নৌকাগুলো অবরোধ অঞ্চলে প্রবেশ করেছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
থুনবার্গকে একটি নৌকার পাটাতনে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে, যেখানে তার পাশে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন সদস্য তাকে পানি ও একটি জ্যাকেট দিচ্ছেন।
নৌকাগুলো থেকে করা লাইভস্ট্রিমে বোঝা যাচ্ছে যে ৪৪টি নৌকার সবকটিকে সরিয়ে নেওয়া বা খালি করে ফেলা হয়নি।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সাহায্য পরিবহনের জন্য জিএসএফের প্রচেষ্টাকে উসকানিমূলক হিসেবে অভিহিত করে ইসরায়েলি সরকার বলেছে, গ্রেটা এবং তার বন্ধুরা নিরাপদ এবং সুস্থ আছেন।
জিএসএফ জানিয়েছে যে প্রধান জাহাজগুলোর মধ্যে একটি আলমা, সেইসাথে সুরিয়াস এবং আদারাসহ একাধিক জাহাজকে আটক করে আটকে রাখা হয়েছে।
এর আগে, তারা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নৌ যোগাযোগ বন্ধ করা, বিপদ সংকেত পাঠানোয় বাধা দান এবং নৌকাগুলোয় ইসররায়েলি বাহিনী অভৈধভাবে উঠে আসার অভিযোগ করেছে।
তারা বলেছে যে হস্তক্ষেপের সময় নৌবহরটি গাজার উপকূলরেখা থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। দলটি আশা করেছিল যে বৃহস্পতিবার সকালে তাদের জাহাজগুলো গাজায় পৌঁছাবে। বিবিসি




















