খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় শুক্রবার দেশজুড়ে প্রার্থনার আহ্বান
- আপডেট সময় : ১১:৫০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬২ বার পড়া হয়েছে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আশু আরোগ্য কামনায় আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুসারে প্রার্থনারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে দেশের সব মানুষের প্রতি নিজ অবস্থান থেকে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়।
বর্তমানে খালেদা জিয়া ঢাকা বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো স্থিতিশীল হলেও উন্নতি ধীরগতির বলে জানা গেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বুধবার সন্ধ্যা সাতটার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস হাসপাতালে গিয়ে তাঁর খোঁজখবর নেন। প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করে তিনি পরিবার ও দলীয় নেতাদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। চিকিৎসক দল তাঁকে খালেদা জিয়ার বর্তমান চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে অবহিত করে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা পরিচালনা করছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার ফুসফুসের সংক্রমণ কিছুটা ভালোর দিকে হলেও হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতা এখনো রয়ে গেছে; অন্য সমস্যাগুলোও বেশির ভাগ অপরিবর্তিত।

চিকিৎসা সহায়তা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বুধবার রাতে চীন থেকে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডে যোগ দেন। তাঁরা হলেন—কাই জিয়ানফাং, ইউয়ান জিন, মিজ ঝাং ইউহুই ও মিজ মেং হং। এর আগে দুপুরে যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বেলে ঢাকায় এসে সরাসরি হাসপাতালে যান এবং সর্বশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেন। তবে তাঁর পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া জরুরি কি না—তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামতের ওপর নির্ভর করবে। এই সিদ্ধান্তই অনেকাংশে ঠিক করে দেবে তাঁর ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা কখন হবে।
গত জানুয়ারিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া এবং প্রায় চার মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর গত ৬ মে দেশে ফেরেন। সর্বশেষ ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লে বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর অবস্থা অবনতি হয় এবং তাঁকে এসডিইউ থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল তাঁর সুস্থতা কামনায় ইতোমধ্যে দোয়া আয়োজন শুরু করেছে। সরকারিভাবে শুক্রবার দেশজুড়ে প্রার্থনার আহ্বান জানানোকে পরিস্থিতির গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।




















