কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন ওসমান হাদি
- আপডেট সময় : ০৮:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে
জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধা ও আধিপত্যবাদবিরোধী প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি আর ফিরে এলেন না জীবিত-ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে। শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে সিঙ্গাপুর থেকে তার মরদেহ বহনকারী উড়োজাহাজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইটটি। হাদির মরদেহের সঙ্গে দেশে আসেন তার বড় ভাই আবু বকর। বিমানবন্দরে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন গ্রহণ করতে উপস্থিত ছিলেন হাদির বোন-জামাই আমিরুল ইসলাম, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
বিমানবন্দরের ৮ নম্বর হ্যাঙ্গার গেট দিয়ে কফিনবাহী গাড়ি বের হলে সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। আগেই বিমানবন্দরজুড়ে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা; মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন ও আনসার সদস্য।
বিমানবন্দর থেকে হাদির কফিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়ার কথা থাকলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়। শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নেওয়া হবে তার কফিন। শনিবার বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরিবারের ইচ্ছায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হবে।
জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত শুক্রবার গণসংযোগের সময় রাজধানীর বিজয়নগরে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীর গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
হাদির মৃত্যুতে শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। শনিবার তার স্মরণে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।




















