ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ বেনাপোলে এক বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রী আটক বস্তিবাসীদের উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস তারেক রহমানের চাপ তৈরি করে ভারতে খেলাতে বাধ্য করা যাবে না চানখাঁরপুল মামলার রায় ২৬ জানুয়ারি: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অপেক্ষায় দেশ ইরানে হামলা নিয়ে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছায় স্বাগত জানালেন মোদি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উদ্যাপন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৪০০ ঘর, শত শত পরিবার আশ্রয়হীন আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত শার্শায় র‌্যাবের অভিযানে ২৯৭০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক চাইলেন মোদিও

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুন ২০২৩ ১৮১ বার পড়া হয়েছে

নরেন্দ্র মোদি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র সফরে বৃহস্পতিবার খুব ব্যস্ত দিন কাটিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। শীর্ষ বৈঠকের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণেও ওয়াশিংটনের সুরের সঙ্গে সংগতি রেখে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রতীক্ষিত এ ভাষণে তিনি উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ডাক দিয়েছেন।

বিশেষ করে আঞ্চলিক পরাশক্তি চীনকে মাথায় রেখে ইন্দো-প্যাসিফিক (ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল) ‘স্বাধীন ও উন্মুক্ত রাখা’ সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম ভিত্তি। কংগ্রেসে মোদির ভাষণের সময় আইনসভার সদস্যরা বেশ কয়েকবার দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দিত করেন।

স্থানীয় সময় সকালে হোয়াইট হাউসে শীর্ষ বৈঠক এবং মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক নৈশ ভোজে যোগ দেন তিনি। মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে তাকে স্বাগত জানান কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা চাক শুমার এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থি। মোদি তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক, আগামী দিনে বিশ্বে দুই দেশের ভূমিকা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ুসহ নানা ইস্যু তুলে ধরে বলেন, ভারত শিগগিরই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনা দুই দেশের অংশীদারির গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। আমরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে উন্মুক্ত ও অবাধ রাখার লক্ষ্য অর্জনের জন্য মতবিনিময় করব।

মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নতুন বিশ্বব্যবস্থার জন্য কাজ করতে দুই দেশের অংশীদারি সম্মুখ সারিতে থাকবে।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় মোদি প্রথমবার মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এরপর প্রথম ভারতীয় নেতা হিসেবে দ্বিতীয়বার কংগ্রেসে বক্তব্য দিলেন তিনি।

নরেন্দ্র মোদি ভাষণে বলেন, আমরা একত্রে গণতান্ত্রিক নীতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরব এবং গণতন্ত্রকে সবার কাছে পৌঁছে দেব।

যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা এবং ভারতের মুম্বাইয়ে ২৬/১১ সন্ত্রাসী হামলার দুই দশক পর সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুই দেশের ভূমিকাও তুলে ধরেন মোদি।

মোদির সফরে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, প্রযুক্তি খাতসহ নানা বিষয়ে ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে দুই দেশের তরফ থেকে।

বিশেষ করে এশিয়ার চীনের ক্রমবর্ধমান উত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তৃত সম্পর্কের অঙ্গীকার করেন।

সফরসূচির শেষ ধাপে গতকাল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল নরেন্দ্র মোদির। এ ছাড়া ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যাবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত ছিল তার।

মোদির কেনেডি সেন্টারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা। এতে মার্কিন কম্পানি ফেডেক্স, মাস্টারকার্ড, অ্যাডোবি ছাড়াও ভারতের টেক মাহিন্দ্রা, মাস্টেকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা থাকবেন। সব মিলিয়ে মোট এক হাজার ২০০ জনের মতো প্রতিনিধি থাকছেন এ আয়োজনে।

এ ছাড়া ওয়াশিংটনের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারে রোনাল্ড রিগ্যান ভবনে ইউনাইটেড স্টেটস ইন্ডিয়ান ফাউন্ডেশনের (ইউএসআইসিএফ) আয়োজনে ভারতীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন মোদি। এর মধ্য দিয়েই তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যাবেন মিসরে। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে, এএফপি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক চাইলেন মোদিও

আপডেট সময় : ০৬:২০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুন ২০২৩

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র সফরে বৃহস্পতিবার খুব ব্যস্ত দিন কাটিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। শীর্ষ বৈঠকের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণেও ওয়াশিংটনের সুরের সঙ্গে সংগতি রেখে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রতীক্ষিত এ ভাষণে তিনি উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ডাক দিয়েছেন।

বিশেষ করে আঞ্চলিক পরাশক্তি চীনকে মাথায় রেখে ইন্দো-প্যাসিফিক (ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল) ‘স্বাধীন ও উন্মুক্ত রাখা’ সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম ভিত্তি। কংগ্রেসে মোদির ভাষণের সময় আইনসভার সদস্যরা বেশ কয়েকবার দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দিত করেন।

স্থানীয় সময় সকালে হোয়াইট হাউসে শীর্ষ বৈঠক এবং মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক নৈশ ভোজে যোগ দেন তিনি। মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে তাকে স্বাগত জানান কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা চাক শুমার এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থি। মোদি তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক, আগামী দিনে বিশ্বে দুই দেশের ভূমিকা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ুসহ নানা ইস্যু তুলে ধরে বলেন, ভারত শিগগিরই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনা দুই দেশের অংশীদারির গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। আমরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে উন্মুক্ত ও অবাধ রাখার লক্ষ্য অর্জনের জন্য মতবিনিময় করব।

মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নতুন বিশ্বব্যবস্থার জন্য কাজ করতে দুই দেশের অংশীদারি সম্মুখ সারিতে থাকবে।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় মোদি প্রথমবার মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এরপর প্রথম ভারতীয় নেতা হিসেবে দ্বিতীয়বার কংগ্রেসে বক্তব্য দিলেন তিনি।

নরেন্দ্র মোদি ভাষণে বলেন, আমরা একত্রে গণতান্ত্রিক নীতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরব এবং গণতন্ত্রকে সবার কাছে পৌঁছে দেব।

যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা এবং ভারতের মুম্বাইয়ে ২৬/১১ সন্ত্রাসী হামলার দুই দশক পর সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুই দেশের ভূমিকাও তুলে ধরেন মোদি।

মোদির সফরে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, প্রযুক্তি খাতসহ নানা বিষয়ে ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে দুই দেশের তরফ থেকে।

বিশেষ করে এশিয়ার চীনের ক্রমবর্ধমান উত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তৃত সম্পর্কের অঙ্গীকার করেন।

সফরসূচির শেষ ধাপে গতকাল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল নরেন্দ্র মোদির। এ ছাড়া ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যাবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত ছিল তার।

মোদির কেনেডি সেন্টারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা। এতে মার্কিন কম্পানি ফেডেক্স, মাস্টারকার্ড, অ্যাডোবি ছাড়াও ভারতের টেক মাহিন্দ্রা, মাস্টেকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা থাকবেন। সব মিলিয়ে মোট এক হাজার ২০০ জনের মতো প্রতিনিধি থাকছেন এ আয়োজনে।

এ ছাড়া ওয়াশিংটনের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারে রোনাল্ড রিগ্যান ভবনে ইউনাইটেড স্টেটস ইন্ডিয়ান ফাউন্ডেশনের (ইউএসআইসিএফ) আয়োজনে ভারতীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন মোদি। এর মধ্য দিয়েই তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যাবেন মিসরে। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে, এএফপি