হামের বিস্তার ৫৬ জেলায়, ২১ উপজেলা উচ্চ ঝুঁকিতে, মৃত্যু ২৭
- আপডেট সময় : ০৬:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ হাম ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে অন্তত ৫৬ জেলায় ইতোমধ্যে এ রোগের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সরকারি তথ্য ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। গত ২৮ মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে হাম দ্রুত বিস্তারের ইঙ্গিত মিলেছে।
এরই মধ্যে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজন সন্দেহভাজন হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তানজিনা জাহান জানিয়েছেন, এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে।
এর মধ্যে ১৩টি মৃত্যুর ক্ষেত্রে হামকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর বাকিগুলো সন্দেহভাজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ডব্লিউএইচও ২৮ মার্চ তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও এর পরবর্তী সময়ে আরও নতুন জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকতে পারে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাতে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কক্সবাজার জেলায়।
এছাড়া বরগুনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলাও উচ্চ সংক্রমণ অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন-কে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ২ হাজার ৩৭৩টি সন্দেহভাজন নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪৩টি নমুনায় হাম শনাক্ত হয়েছে, যা মোট পরীক্ষার প্রায় ৩১ শতাংশ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর উপপরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানিয়েছেন, বেশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দুই সপ্তাহব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। ইতোমধ্যে ২০ থেকে ২১টি উপজেলাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হঠাৎ করেই হাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং শুরুতে প্রস্তুতি সীমিত ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হয়েছি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ইপিআই এবং দেশের বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জনদের নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে এই সংক্রমণ আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। তাই অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।




















