ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

২৩ সেপ্টেম্বর বৃটিশ বিরোধী বিপ্লবী প্রীতিলতার আত্মবলিদান দিবস

ভয়েস রিপোর্ট, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৪৪৫ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি সংগ্রহ

ভারত উপমহাদেশের সশস্ত্র বিপ্লবে মহানায়ক মাস্টার দা সূর্যসেনের পরিকল্পনায় ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়তলী স্টেশনের কাছে ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণ করে ব্যর্থ হন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। গুলি বিদ্ধ হবার পরও

বেঁচেছিলেন। আটক হলে ইংরেজদের টর্চারে গোপন তথ্য প্রকাশ হতে পারে। তাই মুহূর্ত চিন্তা না করে খেয়ে ফেলেন পটাসিয়াম সায়ানাইড। মুহূর্তে মাটিতে ঢলে পড়েন। দিনটি তার আত্মবলিদান দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।

ইতিহাসের সংগ্রামী চেতনা, অতীতের বড় চরিত্র বর্তমান সংগ্রামে পথনির্দেশ করে। প্রীতিলতাসহ অগ্নিযুগের অগ্নি সন্তানেরা নতুন প্রজন্মকে সংগ্রামী মানুষ হতে শেখায়, অন্যায় করা নয়, অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করা নয়, অন্যায়কে রুখে দিতে শেখায়। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেরের ডাকনাম রাণী,

ছদ্মনাম ফুলতারা। যিনি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথম বিপ্লবী শহীদ ব্যক্তিত্ব। তৎকালীন পূর্ববঙ্গে জন্ম নেয়া এই বাঙালি বিপ্লবী সূর্য সেনের নেতৃত্বে

তখনকার ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং জীবন বিসর্জন করেন। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব দখলের সময় তিনি ১৫ জনের একটি বিপ্লবী দল

পরিচালনা করেন। এই ক্লাবটিতে একটি সাইনবোর্ড লাগানো ছিলো যাতে লেখা ছিলো ‘কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ’। প্রীতিলতার দলটি ক্লাবটি আক্রমণ করে এবং পরবর্তীতে পুলিশ

তাদেরকে আটক করে। পুলিশের হাতে আটক এড়াতে প্রীতিলতা সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার দেশপ্রেম, ত্যাগ এবং সংগ্রামী আন্দোলনের উদাহরণ রেখে গেছেন, তা ভারত উপমহাদেশের সকল মানুষের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে চিরকাল। তার

আত্মবলিদান দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। ইউরোপিয়ান ক্লাবের অদূরে রাস্তার ওপরে এই বিপ্লবীর ভাস্কর্য রয়েছে। সেই ব্যাধিতে তার আত্মদাস দিবসে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। ভারত

উপমহাদেশের সংগ্রামী নারী সমাজে প্রীতিলতা বরণীয় ও স্মরণীয়। জানা গিয়েছে, শৈশবে তাকে ডাকা হতো রানি বলে। বিপ্লবী জীবনে তার ছদ্মনাম ছিলো ফুলতারা। তিনি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা

আন্দোলনের অন্যতম বাঙালি নেত্রী ও প্রথম বিপ্লবী নারী শহিদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন

স্থানীয় পৌর দপ্তরের প্রধান কেরানি জগদ্বন্ধু ওয়াদ্দেদার এবং মা প্রতিভাদেবী। খাস্তগীর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ছিল প্রীতিলতার প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

১৯২৮ সালে মাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৩০ সালে তিনি ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম হন। ১৯৩২ সালে প্রীতিলতা কলকাতার বেথুন কলেজ

থেকে স্নাতক শ্রেণির পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে প্রীতিলতা কৃতিত্বের সাথে স্নাতক পাস করলেও তার পরীক্ষার ফল স্থগিত রাখা হয়।

অবশেষে প্রায় ৮০ বছর পর ২০১২ সালের ২২ মার্চ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তাঁকে মরণোত্তর স্নাতক ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

স্নাতক পরীক্ষা দিয়ে প্রীতিলতা কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম ফিরে আসেন এবং নন্দনকানন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ বীর সাহসী

নারী নেত্রী প্রীতিলতা সবসময় চালিয়ে গেছেন স্বদেশী আন্দোলনের কর্মকাণ্ড। এরপর মাস্টারদা সূর্য সেন এর পরিকল্পনা মাফিক ২৩ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণে ১০-১২

জনের একটি দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি। এই অভিযানের পর পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে দেশের জন্য আত্মবিসর্জন দেন এই সংগ্রামী নেত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

২৩ সেপ্টেম্বর বৃটিশ বিরোধী বিপ্লবী প্রীতিলতার আত্মবলিদান দিবস

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

ছবি সংগ্রহ

ভারত উপমহাদেশের সশস্ত্র বিপ্লবে মহানায়ক মাস্টার দা সূর্যসেনের পরিকল্পনায় ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়তলী স্টেশনের কাছে ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণ করে ব্যর্থ হন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। গুলি বিদ্ধ হবার পরও

বেঁচেছিলেন। আটক হলে ইংরেজদের টর্চারে গোপন তথ্য প্রকাশ হতে পারে। তাই মুহূর্ত চিন্তা না করে খেয়ে ফেলেন পটাসিয়াম সায়ানাইড। মুহূর্তে মাটিতে ঢলে পড়েন। দিনটি তার আত্মবলিদান দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।

ইতিহাসের সংগ্রামী চেতনা, অতীতের বড় চরিত্র বর্তমান সংগ্রামে পথনির্দেশ করে। প্রীতিলতাসহ অগ্নিযুগের অগ্নি সন্তানেরা নতুন প্রজন্মকে সংগ্রামী মানুষ হতে শেখায়, অন্যায় করা নয়, অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করা নয়, অন্যায়কে রুখে দিতে শেখায়। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেরের ডাকনাম রাণী,

ছদ্মনাম ফুলতারা। যিনি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথম বিপ্লবী শহীদ ব্যক্তিত্ব। তৎকালীন পূর্ববঙ্গে জন্ম নেয়া এই বাঙালি বিপ্লবী সূর্য সেনের নেতৃত্বে

তখনকার ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং জীবন বিসর্জন করেন। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব দখলের সময় তিনি ১৫ জনের একটি বিপ্লবী দল

পরিচালনা করেন। এই ক্লাবটিতে একটি সাইনবোর্ড লাগানো ছিলো যাতে লেখা ছিলো ‘কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ’। প্রীতিলতার দলটি ক্লাবটি আক্রমণ করে এবং পরবর্তীতে পুলিশ

তাদেরকে আটক করে। পুলিশের হাতে আটক এড়াতে প্রীতিলতা সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার দেশপ্রেম, ত্যাগ এবং সংগ্রামী আন্দোলনের উদাহরণ রেখে গেছেন, তা ভারত উপমহাদেশের সকল মানুষের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে চিরকাল। তার

আত্মবলিদান দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। ইউরোপিয়ান ক্লাবের অদূরে রাস্তার ওপরে এই বিপ্লবীর ভাস্কর্য রয়েছে। সেই ব্যাধিতে তার আত্মদাস দিবসে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। ভারত

উপমহাদেশের সংগ্রামী নারী সমাজে প্রীতিলতা বরণীয় ও স্মরণীয়। জানা গিয়েছে, শৈশবে তাকে ডাকা হতো রানি বলে। বিপ্লবী জীবনে তার ছদ্মনাম ছিলো ফুলতারা। তিনি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা

আন্দোলনের অন্যতম বাঙালি নেত্রী ও প্রথম বিপ্লবী নারী শহিদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন

স্থানীয় পৌর দপ্তরের প্রধান কেরানি জগদ্বন্ধু ওয়াদ্দেদার এবং মা প্রতিভাদেবী। খাস্তগীর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ছিল প্রীতিলতার প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

১৯২৮ সালে মাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৩০ সালে তিনি ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম হন। ১৯৩২ সালে প্রীতিলতা কলকাতার বেথুন কলেজ

থেকে স্নাতক শ্রেণির পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে প্রীতিলতা কৃতিত্বের সাথে স্নাতক পাস করলেও তার পরীক্ষার ফল স্থগিত রাখা হয়।

অবশেষে প্রায় ৮০ বছর পর ২০১২ সালের ২২ মার্চ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তাঁকে মরণোত্তর স্নাতক ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

স্নাতক পরীক্ষা দিয়ে প্রীতিলতা কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম ফিরে আসেন এবং নন্দনকানন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ বীর সাহসী

নারী নেত্রী প্রীতিলতা সবসময় চালিয়ে গেছেন স্বদেশী আন্দোলনের কর্মকাণ্ড। এরপর মাস্টারদা সূর্য সেন এর পরিকল্পনা মাফিক ২৩ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণে ১০-১২

জনের একটি দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি। এই অভিযানের পর পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে দেশের জন্য আত্মবিসর্জন দেন এই সংগ্রামী নেত্রী।