ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির কুয়েতে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই

২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১১৭ বার পড়া হয়েছে

২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার কেরাণীগঞ্জে সংঘটিত একটি শিউরে ওঠার মতো হত্যাকাণ্ডে মা ও স্কুলপড়ুয়া কিশোরী মেয়েকে হত্যার পর তাদের মরদেহ ফ্ল্যাটে লুকিয়ে রেখে টানা ২১ দিন স্বাভাবিক জীবনযাপনের ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। বুড়িগঙ্গার দক্ষিণ তীরবর্তী কেরাণীগঞ্জে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দুই বোনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) এবং তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)। পুলিশ জানায়, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে প্রথমে কিশোরী ফাতেমাকে এবং পরে তার মা রোকেয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ফাতেমার মরদেহ বাথরুমের ফলস ছাদের ভেতরে এবং রোকেয়ার মরদেহ একটি বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ফাতেমার শিক্ষিকা মীম আক্তার (২৪) এবং তার আপন ছোট বোন নুসরাত জাহান (১৫)। নুসরাত নাবালিকা হওয়ায় তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, নিহত রোকেয়া ছিলেন শিক্ষিকা মীম আক্তারের এনজিও ঋণের জামিনদার। দেড় লাখ টাকার ওই ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এনজিও কর্তৃপক্ষ জামিনদার রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে রোকেয়া ও মীমের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

ঘটনার দিন বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে শিক্ষিকার বাসায় গেলে নুসরাতের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুসরাত ফাতেমার গলা চেপে হত্যা করে। হত্যার পর সিসিটিভি বিভ্রান্ত করতে ফাতেমার পোশাক পরে নুসরাত বাসা থেকে বেরিয়ে যায়, যাতে ফুটেজে মনে হয় ফাতেমা বাসা ছেড়ে চলে গেছে।

এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর মীম ফোন করে রোকেয়াকে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। রোকেয়া বাসায় এলে দুই বোন মিলে তাকে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত হত্যাকারীরা ওই ফ্ল্যাটে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করে। এমনকি ৬ জানুয়ারি শিক্ষিকার তিন বছরের সন্তানের জন্মদিন উপলক্ষে তারা পরিবারসহ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যান এবং ১০ জানুয়ারি পুনরায় বাসায় ফেরেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঘরে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে শিক্ষিকার স্বামী খোঁজাখুঁজি করে বক্স খাটের নিচে মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এদিকে নিহতের পরিবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহমেদ দাবি করেন, নিখোঁজের ঘটনায় সময়মতো ফ্ল্যাট তল্লাশি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে হত্যাকাণ্ড অনেক আগেই উদ্ঘাটন সম্ভব হতো।

কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার দুজনই হত্যার দায় স্বীকার করেছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

আপডেট সময় : ০৮:০৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার কেরাণীগঞ্জে সংঘটিত একটি শিউরে ওঠার মতো হত্যাকাণ্ডে মা ও স্কুলপড়ুয়া কিশোরী মেয়েকে হত্যার পর তাদের মরদেহ ফ্ল্যাটে লুকিয়ে রেখে টানা ২১ দিন স্বাভাবিক জীবনযাপনের ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। বুড়িগঙ্গার দক্ষিণ তীরবর্তী কেরাণীগঞ্জে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দুই বোনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) এবং তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)। পুলিশ জানায়, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে প্রথমে কিশোরী ফাতেমাকে এবং পরে তার মা রোকেয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ফাতেমার মরদেহ বাথরুমের ফলস ছাদের ভেতরে এবং রোকেয়ার মরদেহ একটি বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ফাতেমার শিক্ষিকা মীম আক্তার (২৪) এবং তার আপন ছোট বোন নুসরাত জাহান (১৫)। নুসরাত নাবালিকা হওয়ায় তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, নিহত রোকেয়া ছিলেন শিক্ষিকা মীম আক্তারের এনজিও ঋণের জামিনদার। দেড় লাখ টাকার ওই ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এনজিও কর্তৃপক্ষ জামিনদার রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে রোকেয়া ও মীমের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

ঘটনার দিন বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে শিক্ষিকার বাসায় গেলে নুসরাতের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুসরাত ফাতেমার গলা চেপে হত্যা করে। হত্যার পর সিসিটিভি বিভ্রান্ত করতে ফাতেমার পোশাক পরে নুসরাত বাসা থেকে বেরিয়ে যায়, যাতে ফুটেজে মনে হয় ফাতেমা বাসা ছেড়ে চলে গেছে।

এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর মীম ফোন করে রোকেয়াকে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। রোকেয়া বাসায় এলে দুই বোন মিলে তাকে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত হত্যাকারীরা ওই ফ্ল্যাটে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করে। এমনকি ৬ জানুয়ারি শিক্ষিকার তিন বছরের সন্তানের জন্মদিন উপলক্ষে তারা পরিবারসহ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যান এবং ১০ জানুয়ারি পুনরায় বাসায় ফেরেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঘরে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে শিক্ষিকার স্বামী খোঁজাখুঁজি করে বক্স খাটের নিচে মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এদিকে নিহতের পরিবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহমেদ দাবি করেন, নিখোঁজের ঘটনায় সময়মতো ফ্ল্যাট তল্লাশি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে হত্যাকাণ্ড অনেক আগেই উদ্ঘাটন সম্ভব হতো।

কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার দুজনই হত্যার দায় স্বীকার করেছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।