হেলসিঙ্কি থেকে নিউইয়র্কের পথে শেখ হাসিনা
- আপডেট সময় : ০৯:০৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৮০ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : ফাইল ছবি
ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে যাত্রাবিরতি শেষে জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে রবিবার অপরাহ্নে নিউইয়র্কের পথেহেলসিঙ্কি ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কে যাওয়ার পথে শেখ হাসিনা ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে দু’দিনের যাত্রা বিরতি
করেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইতালি সফরের দেড় বছর পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর। এর আগে শুক্রবার ৭৬তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এতথ্য জানিয়ে বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইট (বিজি-১৯০২) প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হেলসিঙ্কি-ভ্যানটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
ফিনল্যান্ডে বাংলাদেশের অনাবাসী রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান। একইদিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তার পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং সেখানে বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সরকারি সফরের অংশ হিসেবে ১৯ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে
অবস্থান করবেন। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদর দফতরে সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী বিগত বছরগুলোর মতো এবারও বাংলায় তার ভাষণ দেবেন।
২০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আহবানে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের একটি ছোট দলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তার সম্মানে জাতিসংঘ সদর দফতরের উত্তর লনে ইউএন গার্ডেনে একটি বেঞ্চ উৎসর্গ করবেন। এসময় একটি গাছের
চারা রোপন করবেন এবং বিকালে ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্ক’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন শেখ হাসিনা।
২১ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সদর দফতরে সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেবেন। শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজিত ‘বিজনেস গোলটেবিল: ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’-অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন।
২২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ডারবান ডিক্লারেশন অ্যান্ড প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন গ্রহণের ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে সাধারণ পরিষদের একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন। এছাড়া, তিনি
‘হোয়াইট হাউস বৈশ্বিক কোভিড-১৯ শীর্ষ সম্মেলন: মহামারীর সমাপ্তি এবং আরও ভাল অবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন এবং বক্তৃতা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সেদিন বিকালে শেখ হাসিনা ‘রোহিঙ্গা সংকট: একটি টেকসই সমাধানের জন্য করণীয়’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং সেখানে পূর্বে-রেকর্ড করা বক্তৃতা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
২৩ সেপ্টেম্বর, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সুইডিশ মিশন আয়োজিত ‘জাতিসংঘের সাধারণ কর্মসূচি: সমতা ও অন্তর্ভুক্তি অর্জনের পদক্ষেপ’ শীর্ষক নেতাদের নেটওয়ার্কের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বান করা ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দশক কর্মসূচির অংশ হিসাবে খাদ্য ব্যবস্থা শীর্ষ সম্মেলনে
যোগ দেবেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে শেখ হাসিনা বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন ডেনমার্কের
প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন, বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিজ মিয়া আমোর মোটলি কিউসি, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট, নেদারল্যান্ডের রানী ম্যাক্সিমা, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট
ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ এবং ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট এনগুয়েন জুয়ান ফাইক। এছাড়া, তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্থোনিও গুতেরেস এবং ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেলের
সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। জাতিসংঘ অধিবেশন এবং নিউইয়র্কে অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর ২৫-৩০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসি সফরের কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন শেখ হাসিনা এবং হেলসিঙ্কিতে যাত্রা বিরতির পর ১ অক্টোবর দেশে ফিরবেন। বাসস



















