হাদিকে গুলি: ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার, ফয়সলের বাবা–মা গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৮:০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৯৮ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদীর একটি বিল থেকে এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছেছবি: র্যাবের সৌজন্যে
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদের বাবা–মাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে, ফয়সালের স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক এবং সহযোগীসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। ঘটনার সময় তিনি এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন।
এ সময় চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে তিনি প্রচারে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির অবস্থা সংকটজনক।

র্যাব জানায়, মঙ্গলবার রাতে নরসিংদী সদর থানা এলাকার একটি বিল থেকে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে, ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ১টি খেলনা পিস্তল ও ৪১ রাউন্ড গুলি। এ ঘটনায় মো. ফয়সাল (২৫) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
র্যাবের একটি সূত্র জানায়, হাদিকে গুলি করার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদের শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ (শিপু)–এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বিলে অভিযান চালানো হয়। ওয়াহিদের বাড়ি নরসিংদী সদর থানা এলাকায়। এর আগে গত রোববার ফয়সলের স্ত্রী পারভীন সামিয়া ও ওয়াহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে, এর আগে মঙ্গলবার রাতেই র্যাবের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগারগাঁওয়ের কর্নেল গলিতে ফয়সল করিমের বোনের বাসা ও পাশের ভবনের ফাঁকা স্থান থেকে ২টি ম্যাগাজিন, ১১টি গুলি ও ১টি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে ফয়সল করিম ও তাঁর সহযোগী আলমগীর একটি মোটরসাইকেলে বাসা থেকে বের হন।

পরে বিকেল ৪টার দিকে ফয়সল, আলমগীর এবং ফয়সলের মা ও ভাগিনাকে দুই ভবনের মাঝের ফাঁকা স্থান থেকে কিছু বের করতে দেখা যায়। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে ফয়সল ও আলমগীর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চলে যান।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার আগের রাতে ১১ ডিসেম্বর সাভারের একটি রিসোর্টে ছিলেন ফয়সল ও আলমগীর। পরদিন সকালে তাঁরা মোটরসাইকেলে ঢাকায় এসে আগারগাঁওয়ে ফয়সলের বোনের বাসায় ওঠেন।
সেখান থেকেই পুরানা পল্টনে গিয়ে হাদির ওপর হামলা চালিয়ে আবার ওই বাসায় ফেরেন। পরে আমিনবাজার হয়ে পাঁচ দফা যানবাহন পরিবর্তন করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফয়সলের বাবা–মা গ্রেপ্তার

র্যাব জানায়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ হাউজিং এলাকা থেকে ফয়সলের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) ও মা মোসা. হাসি বেগম (৬০)–কে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফয়সল করিম তাঁদের তৃতীয় সন্তান।
ঘটনার দিন ফয়সল একটি ব্যাগ নিয়ে আগারগাঁওয়ের বোনের বাসায় ওঠেন এবং পরে তা ফেলে দেন। তিনি তাঁর ব্যবহৃত দুটি মোবাইলের একটি বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেন এবং অন্যটি মাকে দেন। পরে বাবা–মায়ের সঙ্গে দেখা করে বাসা ছাড়েন।
র্যাব আরও জানায়, ফয়সল চলে যাওয়ার পর ওই দম্পতি তাঁদের ছোট ছেলের কেরানীগঞ্জের বাসায় গিয়ে নতুন দুটি সিম কিনে মোবাইল ব্যবহার করছিলেন। গ্রেপ্তার বাবা–মাকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


















